প্রকাশ :: ... | ... | ...

অস্ত্র রপ্তানির লক্ষ্য বাংলাদেশের; স্থাপিত হচ্ছে বিশেষায়িত ডিফেন্স ইকোনমিক জোন


সংযুক্ত ছবি

🔹 জোনের লক্ষ্য: আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা শিল্প গঠন ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি 🔹 সম্ভাব্য বিনিয়োগ: ১৫,০০০ কোটি টাকা 🔹 নেতৃত্বে: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস 🔹 মূল কাঠামো: PPP, FDI, যৌথ উদ্যোগ 🔹 মূল চ্যালেঞ্জ: নীতিমালা, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ নিশ্চয়তা বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো একটি “বিশেষায়িত ডিফেন্স ইকোনমিক জোন” স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে—যার লক্ষ্য আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি করা। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ১৫,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে, যা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (PPP), যৌথ উদ্যোগ এবং বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) এর মাধ্যমে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। ইউনূসের নীতিগত অনুমোদন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইতোমধ্যেই প্রতিরক্ষা শিল্পে প্রযুক্তি হস্তান্তর, যৌথ বিনিয়োগ এবং বিদেশি অংশীদারত্বের অনুমোদন দিয়েছেন। গত সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) সভায় এই জোন স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সামরিক ও বেসামরিক উভয় পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন। বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, “দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে আমরা নীতিমালা ও কাঠামো তৈরি করছি। প্রতিরক্ষা শিল্পকে রপ্তানিমুখী শিল্পে রূপ দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।” বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে বিদেশি প্রতিষ্ঠান বেজার বৈঠকের কার্যবিবরণীতে জানা গেছে, বিভিন্ন দেশের সরকার ও প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে প্রতিরক্ষা উৎপাদন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে চীন বা তুরস্কের আগ্রহ সম্পর্কে বেজা চেয়ারম্যান মন্তব্য করতে রাজি হননি। প্রতিরক্ষা শিল্প নীতিমালা তৈরিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে একটি “কনসেপ্ট পেপার” প্রণয়ন শুরু করেছে। ৮ হাজার কোটি টাকার অভ্যন্তরীণ চাহিদা প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের অভ্যন্তরীণ চাহিদা বছরে প্রায় ৮,০০০ কোটি টাকা, যা সেনাবাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি’র প্রয়োজন মেটাতে ব্যয় হয়। একটি শক্তিশালী নিজস্ব শিল্প গড়ে উঠলে স্থানীয় চাহিদার বড় অংশ পূরণ ও রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে বলে কর্মকর্তারা আশা করছেন। বেসরকারি বিনিয়োগে গুরুত্ব অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার সভায় বলেন, “ম্যাকডোনাল্ড ডগলাস বা লকহিড মার্টিনের মতো মডেল অনুসরণ করে বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে হবে।” তিনি জানান, কয়েক অর্থবছরে ১৫,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ সম্ভব এবং অর্থ মন্ত্রণালয় জমি অধিগ্রহণে সহায়তা করবে। বিশ্লেষকদের অভিমত: সতর্ক পরিকল্পনা জরুরি বিআইপিএসএস সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান বলেন, “প্রতিরক্ষা খাতে স্বনির্ভরতা কৌশলগতভাবে অপরিহার্য। তবে বিনিয়োগ ১৫,০০০ কোটি টাকায় সীমিত রাখলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। যৌথ উদ্যোগ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত ঘাটতি পূরণ করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজার সীমিত। তাই রপ্তানিই হবে টিকে থাকার পথ।” আঞ্চলিক উদাহরণ ও বাংলাদেশের অবস্থান বৈঠকের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবেশী পাকিস্তান বছরে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার এবং ভারত ২.৭৬ বিলিয়ন ডলার প্রতিরক্ষা শিল্পে বিনিয়োগ করে। বাংলাদেশে এখনো উল্লেখযোগ্য শিল্পভিত্তি না থাকলেও “গাজীপুর অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি” ধরনের স্থায়ী জোন তৈরির পরামর্শ দেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। গঠিত হলো দুটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি বৈঠকে দুটি কমিটি গঠিত হয়েছে:; প্রতিরক্ষা শিল্প উন্নয়ন সম্পর্কিত জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন কমিটি – সভাপতিত্ব করবেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বা উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ জাতীয় প্রতিরক্ষা শিল্প-উন্নয়ন সমন্বয় পরিষদ – নীতিমালা বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি তদারকির দায়িত্বে থাকবে। বর্তমানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রপ্তানিমুখী সামরিক উৎপাদন: নতুন কৌশল সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ এখনো অস্ত্র ও গোলাবারুদের নিট আমদানিকারক রাষ্ট্র। ডিফেন্স ইকোনমিক জোন স্থাপনের মাধ্যমে নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি রপ্তানির সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে এগোচ্ছে সরকার। নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, “বাংলাদেশের শিপইয়ার্ডগুলো ইতোমধ্যেই বড় জাহাজ নির্মাণ শুরু করেছে। তবে বিদেশে রপ্তানির সুযোগ না থাকলে এসব প্রকল্প টিকবে না।”