প্রকাশ :: ... | ... | ...

গ্যাস সংকটে বিদেশি ক্রেতারা পাশের দেশমুখী: বিকেএমইএ


সংযুক্ত ছবি

দেশে চলমান গ্যাস সংকটের কারণে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারার শঙ্কায় বিদেশি ক্রেতারা পাশের দেশগুলোর আমদানিকারকদের দিকে ঝুঁকছেন বলে মনে করছে নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)। শনিবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জে বিকেএমইএর প্রধান কার্যালয়ে গ্যাস সংকট ও শিল্প খাতে এর প্রভাব নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এ আশঙ্কার কথা জানান। মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গ্যাস সংকটে শিল্পকারখানাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গত এক মাসে অন্তত ৪০ শতাংশ রপ্তানি আয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সময়মতো পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ কারণে তাঁরা পাশের দেশগুলোর দিকে ঝুঁকছেন। তিনি বলেন, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় কোনো কোনো এলাকায় কারখানার উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে অন্তত ৩০০টি কারখানা রয়েছে। চলতি মাসে সংকটের সমাধান হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। ফলে আগে নেওয়া রপ্তানি আদেশের পণ্য সময়মতো জাহাজীকরণ করা যাচ্ছে না। বিকেএমইএর সভাপতি বলেন, এরই মধ্যে বিদেশি ক্রেতাদের চাপ বেড়েছে। বিদ্যমান রপ্তানি আদেশ অন্য দেশে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আগামী মৌসুমের বেশ কিছু রপ্তানি আদেশও ক্রেতারা অন্যত্র সরিয়ে নিতে চাইছেন। ‘আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাচ্ছে,’ বলেন তিনি। মোহাম্মদ হাতেম জানান, গ্যাস সংকট দীর্ঘদিনের হলেও গত ২০ জুলাই থেকে পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়েছে। অনেক শিল্পকারখানায় গ্যাসের চাপ শূন্যের কাছাকাছি চলে যাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে শুধু কারখানা মালিক নয়, শ্রমিক ও রপ্তানি খাতও বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে। সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে কয়েকটি দাবি ও পরামর্শ তুলে ধরে বিকেএমইএ। এর মধ্যে জুন ও জুলাই মাসের বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল ১২ মাসের কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলে আপাতত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার অনুরোধ করা হয়েছে। গণপরিবহন ছাড়া অন্যান্য যানবাহনে সিএনজি সরবরাহ বন্ধ রাখা এবং অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। গ্যাস সংকটের কারণে কারখানা মালিকেরা ব্যাংকের ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলেও তাঁদের খেলাপি বা ‘ক্ল্যাসিফাইড’ হিসেবে চিহ্নিত না করার দাবি জানান বিকেএমইএর সভাপতি। তিনি বলেন, যত দিন গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হবে, তত দিন এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে বিরত থাকতে হবে। অন্তত ছয় মাস এ সুবিধা দেওয়ার দাবি জানান তিনি। সরকারের পক্ষ থেকে গ্যাস সংকট নিয়ে নিয়মিত ব্রিফিং দেওয়ারও দাবি জানান মোহাম্মদ হাতেম। তাঁর ভাষ্য, ব্যবসায়ীরা বর্তমানে সংকটের প্রকৃত পরিস্থিতি ও সমাধানের সময়সীমা সম্পর্কে পরিষ্কার কোনো ধারণা পাচ্ছেন না। এ কারণে নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আসলে অন্ধকারে আছি। এই সংকট কবে সমাধান হবে, সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা পাচ্ছি না।’ শিল্প খাত ভবিষ্যতে গ্যাসের ওপরই নির্ভরশীল থাকবে কি না, নাকি বিকল্প জ্বালানির দিকে যেতে হবে—এ বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি। মোহাম্মদ হাতেম বলেন, শিল্পকারখানার উৎপাদন অব্যাহত রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ জরুরি। দীর্ঘদিন গ্যাসের অনিশ্চয়তা চলতে থাকলে রপ্তানি আদেশ হারানোর পাশাপাশি দেশের আন্তর্জাতিক বাজারও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি অমল পোদ্দার এবং সহসভাপতি মোরশেদ সারোয়ার সোহেল উপস্থিত ছিলেন।