প্রকাশ :: ... | ... | ...

পে-স্কেল নিয়ে ‘সুখবর’, কবে ঘোষণা হবে নবম জাতীয় বেতন কাঠামো


সংযুক্ত ছবি

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম জাতীয় পে-স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরকার যেকোনো সময় নতুন এই বেতনকাঠামো ঘোষণা করতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। রোববার (১৬ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। মুখ্য সচিব বলেন, নতুন পে-স্কেলের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো দেওয়ার বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পে-স্কেল ঘোষণা করা হবে। নতুন বেতনকাঠামো ঘোষণার জন্য আর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না বলেও জানান তিনি। তবে ঠিক কবে পে-স্কেল ঘোষণা করা হবে, মূল বেতন কত শতাংশ বাড়বে কিংবা ভাতা ও পেনশনের কাঠামো কী হবে—এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা বা সময়সীমা জানাননি মুখ্য সচিব। ২০১৫ সালে সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হওয়ার পর গত ১১ বছরে নতুন কোনো পে-স্কেল হয়নি। এই সময়ে মূল্যস্ফীতি, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নতুন বেতনকাঠামোর দাবি জোরালো হয়েছে। প্রায় ১৮ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হলে সরকারের রাজস্ব ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়বে। নতুন পে-স্কেলের কারণে সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হওয়ার বিষয়টিও স্বীকার করেছেন মুখ্য সচিব। তবে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের আয় সমন্বয় করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। এ বি এম আব্দুস সাত্তার বলেন, নতুন পে-স্কেলের কারণে সরকারের ওপর যে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হবে, তা মোকাবিলায় অর্থনীতির উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রাজস্ব সক্ষমতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর আগে নবম পে-স্কেল নিয়ে সচিব পর্যায়ের একটি কমিটি বিভিন্ন প্রস্তাব পর্যালোচনা করেছে। নতুন বেতনকাঠামো এক ধাপে নাকি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন হবে, মূল বেতনের সঙ্গে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা একই সময়ে কার্যকর হবে কি না—এসব বিষয় নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে। নতুন পে-স্কেল ঘোষণা হলে দীর্ঘদিন ধরে বেতন পুনর্নির্ধারণের অপেক্ষায় থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এর আর্থিক প্রভাব সামাল দিতে সরকারকে রাজস্ব আয় বাড়ানো ও অর্থনীতির সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিতে হবে।