দীর্ঘদিন আটকে থাকা আমানতের মূল টাকা ফেরত পাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় গ্রাহকদের ভিড় বেড়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে ব্যক্তি আমানতকারীদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলনের আবেদন নেওয়া শুরু করেছে ব্যাংকটি। রাজধানীর মতিঝিল ও দিলকুশার কয়েকটি শাখা ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই নিজেদের জমানো টাকা তুলতে গ্রাহকেরা আবেদন জমা দিচ্ছেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে আমানতের মূল টাকা এককালীন ফেরত দেওয়া হবে। সংকটে পড়া এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। এসব ব্যাংকের আমানতকারীরা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের অর্থ ফেরত পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের দিলকুশা শাখায় গিয়ে দেখা যায়, টাকা উত্তোলনের আবেদন জমা দিতে গ্রাহকদের ব্যাপক ভিড় রয়েছে। কেউ পুরো আমানত তুলে নেওয়ার আবেদন করছেন, আবার কেউ ব্যাংকের ওপর আস্থা রেখে শুধু মুনাফার অর্থ নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের আতঙ্কিত না হয়ে আস্থা রাখার আহ্বান জানাচ্ছে। তবে কেউ পুরো অর্থ তুলে নিতে চাইলে তার আবেদনও গ্রহণ করা হচ্ছে। একজন গ্রাহক জানান, ওই শাখায় তার ১৯ লাখ টাকা এফডিআর রয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে টাকা ফেরতের জন্য ব্যাংকে ঘুরলেও কাঙ্ক্ষিত অর্থ পাননি। সরকার মূল টাকা ফেরতের সুযোগ দেওয়ার পর তিনি পুরো অর্থ উত্তোলনের আবেদন করেছেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আগামী ৭ সেপ্টেম্বরের পর টাকা দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের হেড অফিস প্রতিনিধি শাফায়েত আহমেদ চৌধুরী বলেন, সঞ্চয়, এসএমডি ও মুদারাবা মেয়াদি আমানত ছাড়া অন্য খাতগুলোতে গ্রাহকদের প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ উত্তোলনের আবেদন নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে অর্থ পরিশোধ শুরু হবে। তিনি বলেন, কোনো এফডিআর গ্রাহকের জরুরি প্রয়োজন হলে এবং এখনই টাকা উত্তোলন করতে চাইলে সরকার অনুমতি দিয়েছে। মুনাফা না নিয়ে শুধু মূল টাকা তুলতেও বাধা নেই। একই সঙ্গে গ্রাহকদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে ব্যাংকের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান তিনি। দুপুর ১২টার দিকে ইউনিয়ন ব্যাংকের দিলকুশা শাখাতেও গ্রাহকদের উপস্থিতি দেখা যায়। শাখা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কারেন্ট অ্যাকাউন্ট থেকে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অর্থ উত্তোলনের আবেদন নেওয়া হচ্ছে। কোনো গ্রাহক ব্যাংক থেকে সম্পূর্ণভাবে বের হয়ে যেতে চাইলে তার আবেদনও গ্রহণ করা হচ্ছে। শাখাটির ব্যবস্থাপক মোস্তফা জাভেদ বিন শহীদ বলেন, এখন পর্যন্ত গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাংক থেকে সম্পূর্ণভাবে বের হয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়নি। বরং তারা ব্যাংকের ওপর আস্থা রাখছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ব্যক্তি আমানতকারীরা আল-ওয়াদিয়াহ চলতি হিসাব, মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব ও মুদারাবা মেয়াদি আমানত থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী মূল টাকা তুলতে পারবেন। এ জন্য ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করতে হবে। আবেদনে হিসাবের মোট অর্থ, কত টাকা উত্তোলন করতে চান এবং উত্তোলনের প্রয়োজনের কারণ উল্লেখ করতে হবে। আবেদন যাচাইয়ের পর ৭ সেপ্টেম্বর থেকে অর্থ পরিশোধ শুরু হবে। তবে মূল টাকা উত্তোলন করলে আমানতের ওপর প্রাপ্য মুনাফা পাওয়া যাবে না। এই সুবিধা গ্রহণ করলে সংশ্লিষ্ট আমানতকারীর জন্য তা পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে। একই সঙ্গে হস্তান্তরকারী ব্যাংকের কাছে কোনো ঋণ বা দায় থাকলে তা আমানতের অর্থ থেকে সমন্বয় করা হবে। তবে যারা এখনই টাকা তুলবেন না এবং হিসাব চালু রাখবেন, তারা চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত হারে মুনাফা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। মেয়াদি আমানত মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে ভাঙলে মূল টাকা পাওয়া গেলেও ওই অর্থের ওপর মুনাফা দেওয়া হবে না। আর আংশিক অর্থ উত্তোলন করলে অবশিষ্ট অর্থের ওপর প্রযোজ্য মুনাফা পাওয়ার সুযোগ থাকবে। শু/আজা