প্রকাশ :: ... | ... | ...

অপারেশন সিঁদুরে ধ্বংস জইশের সদর দপ্তর, আবারও গড়ে তুলল পাকিস্তান


সংযুক্ত ছবি

জঈশ-ই-মোহম্মদ এর সদরদপ্তর। ছবি: নিউজ১৮

গত বছর ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ পাকিস্তানের পাঞ্জাবের বাহাওয়ালপুরে ধ্বংস হওয়া জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের সদর দপ্তর ‘মারকাজ সুভান আল্লাহ’ আবারও নির্মাণ করা হয়েছে। নতুন করে তৈরি করা এই স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন মুছে ফেলে আগের কাঠামোর আদলেই সাজানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা ড্রোন ও স্যাটেলাইটের ছবি এবং গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে এনডিটিভি জানিয়েছে, হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সদর দপ্তরটি এখন প্রায় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গত বছরের মে মাসে ভারতীয় বাহিনীর হামলায় জইশের এই ঘাঁটির বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস হয়ে যায়। নতুন নির্মাণে পলিশ করা মার্বেল, প্লাস্টার ও রং ব্যবহার করা হয়েছে। ধসে পড়া গম্বুজগুলোও পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় হলঘরের বড় অংশ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেখানকার বিশাল গর্ত ভরাট করে নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে। হামলার ফলে সৃষ্ট অন্যান্য দৃশ্যমান ক্ষয়ক্ষতির চিহ্নও মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে বলে স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে। মূল কমপ্লেক্সের পাশের মাদ্রাসা এবং জইশের কমান্ডারদের থাকার কোয়ার্টারগুলোও সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট ছবিতে কমপ্লেক্সটি আবার সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বাহাওয়ালপুরের এই স্থাপনা দীর্ঘদিন ধরে জইশ-ই-মোহম্মদের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশ চিহ্নিত করে আসছে। জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র জইশ-ই-মোহম্মদকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়েছে, সদর দপ্তরটি পুনর্নির্মাণে পাকিস্তান সরকার জইশ-ই-মোহম্মদকে প্রায় ২৫ কোটি পাকিস্তানি রুপি দিয়েছে। অর্থটি কয়েকটি কিস্তিতে দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রটির দাবি। এর মধ্যে শুধু কেন্দ্রীয় হলঘর পুনর্নির্মাণেই প্রায় ১১ কোটি রুপি ব্যয় হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে এসব অর্থায়নের দাবির বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। জইশের সদর দপ্তর পুনর্নির্মাণের বিষয়টি সামনে এসেছে ২০২৫ সালের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রায় এক বছর পর। ওই বছরের ২২ এপ্রিল ভারতশাসিত কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত ৭ মে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি স্থাপনা লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান চালায়। ভারতের দাবি অনুযায়ী, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ পাকিস্তান ও পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে নয়টি জঙ্গি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল। এর অন্যতম লক্ষ্য ছিল বাহাওয়ালপুরে অবস্থিত জইশ-ই-মোহম্মদের এই ঘাঁটি। আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত প্রায় ১৮ একর আয়তনের ওই কমপ্লেক্সটি জইশের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। হামলার পর দীর্ঘ সময় সেখানে ধ্বংসস্তূপ পড়ে ছিল। পরে দ্রুততার সঙ্গে এর পুনর্নির্মাণ শুরু হয় বলে স্যাটেলাইট ও ড্রোনের সাম্প্রতিক ছবিতে উঠে এসেছে। জইশের সদর দপ্তর পুনর্নির্মাণ এবং সেখানে কার্যক্রম ফের চালুর সম্ভাবনা ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনা রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পুনর্নির্মাণের অভিযোগ সত্য হলে তা পাকিস্তানের জঙ্গিবিরোধী অবস্থান নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।