প্রকাশ :: ... | ... | ...

ইরানের বাকি অংশ ধ্বংসের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের


সংযুক্ত ছবি

আলোচনার আগে সাত শর্ত পূরণের দাবি; মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ফের যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে ইরানের বাকি অংশও ধ্বংস করতে হতে পারে। তবে যুদ্ধের চূড়ান্ত পরিণতি কী হবে, সে বিষয়ে তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপের ঘোষণা শিগগিরই আসবে। এমন হুঁশিয়ারির মধ্যেই কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনে নতুন পারমাণবিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান। তবে আলোচনায় বসার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে সাতটি শর্ত পূরণের দাবি জানিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, সংঘাত আরও এগিয়ে নিয়ে গিয়ে একবারেই এর পরিণতি টেনে আনা হবে কি না, তা তিনি ভাবছেন। তাঁর ভাষায়, এমন ব্যবস্থা নিতে চান, যাতে এই বিপদ আর কখনো ফিরে না আসে। ট্রাম্প বলেন, সম্ভব হলে ইরানের বাকি অংশ ধ্বংস না করতেই তিনি পছন্দ করবেন। তবে পরিস্থিতি তাঁকে সে পথেও নিতে পারে। পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে সবাই খুব শিগগিরই জানতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে ট্রাম্পের দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযান শুরুর পর যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে আগের অবস্থায় ফিরতে ইরানের অন্তত ২৫ বছর লাগবে। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি। এই উত্তেজনার মধ্যেই কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন পারমাণবিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানান, প্রস্তাবটি ওয়াশিংটন পর্যালোচনা করছে। তবে এর বিস্তারিত প্রকাশ করেননি তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের আগে দেওয়া সাত দফা দাবি পূরণ হলেই কেবল নতুন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হতে পারে। রাশিয়া সফরকালে বৃহস্পতিবার ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মহসেন রেজাই বলেন, কূটনৈতিক আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে সাতটি শর্ত দেওয়া হয়েছে। এসব শর্ত বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে না এবং কোনো আলোচনাতেও বসবে না তেহরান। ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দেওয়া। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের অবস্থান, প্রাথমিক আলোচনার শুরুতেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। অর্থাৎ আলোচনার পথ খোলা থাকলেও দুই পক্ষের শর্তের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সংঘাত আবার তীব্র হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। ভোটের পর সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর সম্ভাবনা ট্রাম্প পুরোপুরি নাকচ করেননি। অন্যদিকে যুদ্ধ শুরু হলে আরও বড় পরিসরে পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে ইরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর তেহরানও পাল্টা হামলা চালায়। ইসরায়েলের পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি থাকা দেশগুলোর বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ঘটনা ঘটে। পরে লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের সংঘাতও তীব্র হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেন থেকেও ইরানঘনিষ্ঠ হুতি বিদ্রোহীদের হামলার খবর এসেছে। সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থাপনা তাদের হামলার লক্ষ্য হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, একদিকে ট্রাম্পের সামরিক হুমকি, অন্যদিকে ইরানের সাত শর্ত ও নতুন পারমাণবিক প্রস্তাব—দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। মধ্যস্থতাকারীদের তৎপরতা চললেও নিষেধাজ্ঞা, ক্ষতিপূরণ, হরমুজ প্রণালি ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ মেটানো না গেলে সংঘাত আবার বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।