ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুসংবাদ দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে বৈপরীত্য ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘ ৩৬ বছর ইরানের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা হিসেবে থাকা এই নেতার মৃত্যুতে কেউ শোকে ভেঙে পড়েছেন, আবার কেউ একে ‘নতুন বিশ্বের শুরু’ হিসেবে সানন্দে স্বাগত জানাচ্ছেন। রোববার ভোরে ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে খামেনির মৃত্যুর খবর ঘোষণা করা হয়। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন বলে আবেগজড়িত কণ্ঠে নিশ্চিত করেন সংবাদ পাঠক। এরপরই তেহরানের প্রধান চত্বরগুলোতে কালো পোশাকে হাজার হাজার মানুষকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। অন্যদিকে, সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট হওয়া বিভিন্ন ভিডিওতে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। ইলাম প্রদেশের দেহলোরান শহরে খামেনির ভাস্কর্য উপড়ে ফেলা হয়েছে। খুজিস্তান প্রদেশের ইজেহ ও তেহরানের কাছের কারাজ শহরে মানুষকে রাস্তায় নাচতে দেখা গেছে। দক্ষিণ ইরানের গাল্লেহ দার শহরে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা এবং ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির স্মৃতিস্তম্ভ গুঁড়িয়ে দিয়েছে মানুষ। একটি ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, “আমি কি স্বপ্ন দেখছি? নতুন পৃথিবীকে স্বাগতম!” এছাড়া, লাপুয়ি শহরে জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিহত ১৫ বছর বয়সী কিশোর পুইয়া জাফরির বাড়ির সামনেও মানুষের আনন্দ-উল্লাসের খবর পাওয়া গেছে। ইসফাহানের এক নারী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, তিনি খুশিতে কাঁদছেন এবং তার আশা খামেনির মৃত্যুর মাধ্যমেই ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অবসান ঘটবে। তবে সিরাজের এক স্কুল শিক্ষিকা আতঙ্ক প্রকাশ করে বলেন, “বিদেশি শক্তির হাতে দেশের নেতার মৃত্যুতে আমি খুশি হতে পারছি না। ইরাকের মতো বিশৃঙ্খলা ও রক্তপাত আমি চাই না।” মাশহাদ শহরের ২১ বছর বয়সী শিক্ষার্থী হোসেন দাদবখশ বলেন, “নেতার শাহাদাতের জন্য ট্রাম্প ও জায়নবাদী শাসনগোষ্ঠীকে চড়া মূল্য দিতে হবে। আমি আমার জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত।” হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানিদের এই সুযোগে বর্তমান সরকারকে হটিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিপরীতে তেহরানে খামেনির শোক মিছিলে অংশ নেওয়া সমর্থকরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর চরম প্রতিশোধ নেওয়ার শপথ নিয়েছেন। খামেনির দীর্ঘ শাসনকাল ১৯৯৯, ২০০৯ এবং ২০২২ সালের ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ আন্দোলনের মতো অসংখ্য গণবিক্ষোভের সাক্ষী ছিল। চলতি বছরের জানুয়ারিতেও বিক্ষোভ কঠোর হতে দমন-পীড়নে ইরানে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। খামেনির অনুপস্থিতি এখন সেই দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও ভক্তির মিশ্র ভাবাবেগকে নতুন করে রাজপথে নামিয়ে এনেছে।