প্রকাশ :: ... | ... | ...

‘জ্ঞানেশ জেলে যাবেন, মোদি-শাহ পালাতে পারবেন না’: রাহুল গান্ধী


সংযুক্ত ছবি

দিল্লির সমাবেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি; ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের দাবি—নিয়ম মেনেই চলছে ভোটার তালিকা সংশোধন ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে জেলে পাঠানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে উদ্দেশ করে তিনি বলেছেন, তাঁদেরও আইনি পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তোলেন তিনি। ভারতের রাজধানী দিল্লির রামলীলা ময়দানে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে আয়োজিত বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সমাবেশে এসব কথা বলেন রাহুল। সমাবেশ থেকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগও দাবি করেন বিরোধী নেতারা। রাহুল গান্ধী বলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে সরাতে হবে এবং তাঁকে জেলে যেতে হবে। তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে সাধারণ চুরির তুলনা চলে না; এর মাধ্যমে দেশের নাগরিকদের মতপ্রকাশের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলের প্রসঙ্গ টেনে রাহুল দাবি করেন, জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ) ও বিরোধীদের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। তাঁর অভিযোগ, এরপর ভোটার তালিকা থেকে ১৫ শতাংশ ভোটারকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনকে অবৈধ বলে দাবি করেন। তবে ভোটার বাদ পড়ার হার ও নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে তাঁর বক্তব্যের পক্ষে কী তথ্য রয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। রাহুলের ভাষ্য, নির্বাচন কমিশনের তথ্য থেকেই তাঁর অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়। তবে নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নাকচ করে বলেছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ম মেনেই চলছে। বিরোধীদের অভিযোগের বিপরীতে কমিশনের এই বক্তব্যও বিতর্কটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সমাবেশে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, জ্ঞানেশ কুমার দায়িত্বে না থাকলে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী এবং অমিত শাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারতেন না। তিনি বলেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে অনিয়মের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আন্দোলন চলবে। জ্ঞানেশ কুমারের পর অমিত শাহেরও মুখোমুখি হবেন তাঁরা—এমন হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার অভিযোগও তোলেন রাহুল। তাঁর দাবি, এর ফলে দরিদ্র মানুষ তাঁদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং দেশের সম্পদের বড় অংশ সীমিত কয়েকটি গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি সমাবেশে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেগুলোর বিস্তারিত তথ্য ও প্রমাণ আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। রাহুল বলেন, তাঁরা এমন ভারত চান, যেখানে সব মানুষের জায়গা থাকবে। কৃষকেরা পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন, আর শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে উপযুক্ত শিক্ষা ও চাকরির সুযোগ পাবেন। তাঁর বক্তব্য, দেশের ক্ষমতা কোনো এক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হতে দেওয়া উচিত নয়। রাজনৈতিক বিরোধিতার মধ্যেও ব্যক্তিগত ঘৃণার কোনো স্থান নেই বলে দাবি করেন কংগ্রেস নেতা। তিনি বলেন, নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ কিংবা জ্ঞানেশ কুমারের প্রতি তাঁদের ব্যক্তিগত বিদ্বেষ নেই। তবে সংবিধান ক্ষুণ্ন করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করা হবে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সমালোচনা করে রাহুল বলেন, তাঁরা সহিংসতার পথে হাঁটবেন না; সংবিধান রক্ষার আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। মহাত্মা গান্ধীর আদর্শের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমাজের একেবারে প্রান্তে থাকা মানুষের কণ্ঠস্বরও শোনা প্রয়োজন। রাহুলের অভিযোগ, মোদি, অমিত শাহ ও আরএসএস দেশে সহিংসতার পরিবেশ তৈরি করছেন। বিপরীতে সাধারণ মানুষ ভালোবাসা ও সম্প্রীতি চান বলে মন্তব্য করেন তিনি। সমাবেশে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি বিরোধী জোটের বিভিন্ন দলের নেতারা অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা, মল্লিকার্জুন খাড়গে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব ও ফারুক আবদুল্লা। নেতারা মিছিল করে সমাবেশস্থলে পৌঁছালে রামলীলা ময়দানে বিপুলসংখ্যক মানুষের জমায়েত হয়। এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া, সংশোধনের পদ্ধতি এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা। বিরোধী জোটের দাবি, এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিজেপির পক্ষে নির্বাচনী সমীকরণ বদলানোর চেষ্টা চলছে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে এই বিরোধ এখন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, ভোটাধিকার এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা নিয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নিয়েছে। তবে রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, ভোটার বাদ পড়ার পরিসংখ্যান এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনকে অবৈধ বলার দাবির সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট তথ্য ও নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা যাচাই করা প্রয়োজন।