প্রকাশ :: ... | ... | ...

ট্রাম্পের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো বিষয় নেই, বললেন জেলেনস্কি


সংযুক্ত ছবি

সাম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যকার সম্পর্কের মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কোনো বিষয় নেই। বৃহস্পতিবার (২২ আক্টোবর) কিয়েভ থেকে সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্ক, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। রাশিয়ার পক্ষে মার্কিন প্রেসিডেন্টের অবস্থানের প্রতি ইঙ্গিত করে জেলেনস্কি বলেন, ‘ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা কেবল পুতিনকে আরো শক্তিশালী করবে।’ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছেন। আন্তর্জাতিক মহলে রাশিয়াকে একঘরে করার প্রচেষ্টাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রুশ জ্বালানি কেনার চুক্তি করেছেন ট্রাম্প। এর প্রতিক্রিয়ায় জেলেনস্কি বলেন, ট্রাম্প ইতিহাসের ভুল পক্ষে আছেন। রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দহরম-মহরমের মধ্যেই ইউক্রেনীয় বাহিনী দেখতে পায়, ইলন মাস্কের পরিচালিত স্টারলিংক সার্ভিসে তাদের প্রবেশাধিকার সংকুচিত বা সীমিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সিএনএন-এর সঙ্গে কথা বলার সময়, জেলেনস্কি কিছুটা সমঝোতামূলক সুর বজায় রেখে বলেন, এই উত্তেজনা ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়। তবে তিনি সতর্ক করে দেন যে, যুদ্ধ থামানোর কোনো ইচ্ছা পুতিনের নেই। জেলেনস্কি বলেন, ‘পুতিনের প্রতি আমার মনোভাব খুবই স্পষ্ট। আমি মনে করি যে আমরা যদি নিষেধাজ্ঞা তুলে নিই, তবে আমরা তাকে আরও শক্তিশালী করব। এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং আমার মধ্যকার কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নয়, এবং স্বাভাবিকভাবেই আমি যেকোনো নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিরুদ্ধে।’ সাড়ে চার বছরের এই সংঘাতের একটি সমাধান খুঁজতে ট্রাম্পের দূতদের নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর মাঝেই জেলেনস্কি সিএনএনের সঙ্গে কথা বলেন। বুধবার মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সেন্ট পিটার্সবার্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তিন ঘণ্টা ধরে কথা বলেন। ৭৪ বছর বয়সী আমেরিকান বন্দি স্টিফেন হাববার্ডকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য পুতিনকে মানবিক বলে বর্ণনা করে তিনি বিতর্কের জন্ম দেন। এর আগের দিন উইটকফ নরওয়েতে জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা করেছিলেন। ট্রাম্প বুধবার জোর দিয়ে বলেন যে, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরো কঠোর করার অর্থ হতো হাববার্ড বন্দিই থেকে যেতেন। সিএনএন-এর ক্যাটলিন কলিন্সের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আপনি তার কথা ভুলেই যেতে পারতেন, তাকে আর কখনোই দেখতে পেতেন না, সে ২৫ বছরের জন্য আবার জেলে ফিরে যেত।’ তিনি আরো যোগ করেন, কঠোর নিষেধাজ্ঞা ইউক্রেন নিয়ে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনাকে বিপন্ন করবে, ‘আপনি যখন কোনো চুক্তির কাছাকাছি থাকেন এবং আপনার মধ্যে সূক্ষ্ম আলোচনা চলে, তখন আপনি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন না।’ উইটকফের সফরের পর, পুতিন আগামী নভেম্বরে আলোচনায় বসতে রাজি হলেও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি। জেলেনস্কি বলেন, ‘পুতিন চাল চালছেন, বুঝলেন তো, তিনি একজন খেলোয়াড়।’ তিনি আরো যোগ করেন, ‘এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। কারণ তিনি (পুতিন) অন্য মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করছেন এবং অবশ্যই তিনি যুদ্ধ থামাতে চান না। তাই আমাদের অংশীদারদের কাছে আমাদের চাওয়া হলো—তারা যেন পুতিনকে আরো শক্তিশালী হওয়ার এবং আমাদের ভেঙে ফেলার কোনো সুযোগ না দেন।’ সিএনএনের সঙ্গে কথা বলার সময় জেলেনস্কি বর্তমান সম্মুখ সমর স্থগিত করার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেন। যার লক্ষ্য হবে- যুদ্ধবিরতি, হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা, একসঙ্গে বসা এবং আলোচনা করা। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে থাকা কোনো ভূখণ্ড রাশিয়ার হাতে তুলে দেওয়ার ধারণাটি একেবারেই অগ্রহণযোগ্য এবং কিয়েভ কখনোই দখলকৃত এলাকাগুলোকে রাশিয়ার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেবে না। তিনি বলেন, ‘আমাদের ভূমি খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি মানুষের সঙ্গে সম্পর্কিত, কিলোমিটারের সঙ্গে নয়। এই ভূমি রক্ষা করতে, আমাদের স্বাধীনতা ও দেশ রক্ষা করতে অনেক মানুষ মারা গেছেন।’ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আরো যোগ করেন, ‘সাময়িকভাবে দখলকৃত এই অঞ্চলগুলোকে কেউই রাশিয়ার ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেবে না এবং আমি মনে করি রাশিয়া এটি বোঝে। কেউ যদি এটি না বোঝে তবে তা দুঃখজনক, তবে এটি সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব ব্যাপার।’ জেলেনস্কি বৃহস্পতিবার সিএনএনকে আরো বলেন, ‘ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্ররা কিছু বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করলেও তা নিজেদের রক্ষা করার জন্য যথেষ্ট নয়।’ জেলেনস্কির মতে, ইউক্রেনের এখন তার মিত্রদের কাছ থেকে মূলত দুটি জিনিস প্রয়োজন, ‘পুতিনের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে না নেওয়া এবং আমাদের আরও ভালো মানের ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়া।’ সূত্র: সিএনএন