প্রকাশ :: ... | ... | ...

তেলাপোকা পার্টির পর এবার পরজীবী ফ্রন্টের আত্মপ্রকাশ, ভারতীয় রাজনীতিতে তরুণদের উত্থান


সংযুক্ত ছবি

দুই দলের লোগো

জোট, উপদল, বিভক্ত গোষ্ঠী এবং হোয়াটসঅ্যাপভিত্তিক রাজনৈতিক প্রচারণায় ভরপুর ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গন। এমন অবস্থায় দেশটিতে উত্থান ঘটেছে তরুণদের ভিন্নধর্মী নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের। একে ‘মিম-ভিত্তিক রাজনৈতিক ব্যঙ্গ আন্দোলন’ বলে অভিহিত করছেন অনেকে। সম্প্রতি অনলাইনে আলোচনায় এসেছে ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক গোষ্ঠী—‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা তেলাপোকা জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনটি নিজেদের ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে পরিচয় দিলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা ইতিমধ্যেই ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যেই নতুন আরেকটি সংগঠনের উত্থান ঘটেছে, যার নাম—‘ন্যাশনাল প্যারাসাইটিক ফ্রন্ট’ বা জাতীয় পরজীবী ফ্রন্ট (এনপিই)। এই আন্দোলনের সূচনা ঘটে ভারতের এক বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। দেশটির প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এক বক্তব্যে বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা ও পরজীবী’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এ নিয়ে অনলাইনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের পাশাপাশি শুরু হয় ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন তৈরির প্রবণতা। এর ফলেই জন্ম নেয় ককরোচ বা তেলাপোকা জনতা পার্টি। তেলাপোকা জনতা পার্টির উত্থান এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এটি এক্স (টুইটার) এবং ইনস্টাগ্রামে লক্ষাধিক অনুসারী অর্জন করে। পার্টির ওয়েবসাইটে দেখা যায় একটি ব্যঙ্গাত্মক ইশতেহার, যেখানে বাস্তব রাজনীতির নানা ইস্যুকে মজার ছলে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাদের কিছু প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে—বিচারপতিদের অবসর-পরবর্তী রাজনৈতিক সুবিধা বাতিল, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া রোধে কঠোর ব্যবস্থা, নারীদের জন্য ৫০ শতাংশ আসন সংরক্ষণ, বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, দলত্যাগী সংসদ সদস্যদের দীর্ঘ রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা। সংগঠনটি নিজেদের ব্যঙ্গাত্মক হিসেবে স্বীকার করলেও, তাদের কার্যক্রম অনেকটাই একটি বাস্তব রাজনৈতিক সংগঠনের মতোই, তাদের লোগো, স্লোগান, সদস্য সংগ্রহ এবং প্রচারণা সবই রয়েছে। এমনকি দলটির সমর্থকরা তেলাপোকা সেজে যমুনা নদী পরিষ্কারের মতো কর্মসূচিও পালন করেছে, যা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়। দেশটির আলোচিত মুখগুলোও দলটিতে যোগ দিয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং কীর্তি আজাদ অনলাইনে প্রকাশ্যে দলটির সঙ্গে যুক্ত হন, যা এই ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলনকে আরও বেশি পরিচিতি এনে দেয়। চিরায়ত ভারতীয় রাজনৈতিক রীতি অনুযায়ী, সিজেপিরও একটি আদর্শগত ব্র্যান্ডিং রয়েছে। সমর্থকরা নিজেদেরকে বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি, প্রবেশিকা পরীক্ষা, লিঙ্কডইনের অনুপ্রেরণামূলক পোস্ট এবং ‘বেটা, আজকাল কী করছিস?’—এইসব প্রশ্নের মোকাবিলাকারী সহনশীল ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরে। প্রচলিত দলগুলো জাতপাতের হিসাব এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করলেও তেলাপোকা জনতা পার্টি মিমকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে। এছাড়া দলটির উত্থান এতটাই দ্রুত হয়েছে যে, অনলাইনের বেশ কিছু রাজনৈতিক ভাষ্যকার প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন, এটি কি কেবলই একটি মিম, নাকি এক নতুন ধরনের ডিজিটাল রাজনৈতিক প্রতিবাদ আন্দোলনের সূচনা। ন্যাশনাল প্যারাসাইটিক ফ্রন্টের উত্থান তেলাপোকা জনতা পার্টির পর ভারতে উত্থান ঘটেছে ন্যাশনাল প্যারাসাইটিক ফ্রন্টের (এনপিই)। এই সংগঠনটি নিজেকে আরও বেশি গম্ভীর রাজনৈতিক সংগঠন’ হিসেবে উপস্থাপন করলেও এর ভাষা ও বার্তা পুরোপুরি ব্যঙ্গাত্মক। তারা ‘পরজীবী’ শব্দটিকে পুনরায় সংজ্ঞায়িত করে দাবি করে, তারা এমন নাগরিকদের প্রতিনিধিত্ব করে যারা ভাঙা ব্যবস্থার মধ্যেও টিকে আছে। তাদের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, তারা ব্যবস্থাকে ভেতর থেকে পরিবর্তনের জন্যই এই পরিচয় নিয়েছে। সংগঠনটির বক্তব্যে বলা হয়—‘আমরা এমন একটি ব্যবস্থা থেকে এসেছি, যা সাধারণ মানুষকে শোষণ করে এবং আমরা সেটিকে ভেতর থেকে পরিবর্তন করতে চাই।’ তরুণদের ক্ষোভের ব্যঙ্গাত্মক প্রকাশ দুটি সংগঠনই মূলত ভারতের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা এবং রাজনৈতিক অসন্তোষের প্রতীকী প্রকাশ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন মূলত রাজনৈতিক ক্ষোভকে মিম, হাস্যরস ও ডিজিটাল সংস্কৃতির মাধ্যমে প্রকাশ করার নতুন রূপ। তেলাপোকা জনতা পার্টি নিজেকে সহনশীল ও সংগ্রামী বেকার প্রজন্মের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে, আর ন্যাশনাল প্যারাসাইটিক ফ্রন্ট উল্টোভাবে প্রশ্ন তোলে—আসল পরজীবী কারা?