ভারতের রাজধানী দিল্লির সীমাপুরী এলাকায় একটি বহুতল ভবন ধসে তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে এক গর্ভবতী নারী ও একটি শিশুও রয়েছে। এ ঘটনায় আরও আটজন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলছিল। বুধবার (৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উত্তর-পূর্ব দিল্লির সীমাপুরী এলাকার মাছের বাজারসংলগ্ন স্থানে ভবন ধসের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। পুলিশ ও অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থার সদস্যরাও এতে যোগ দেন। প্রাথমিকভাবে কয়েকজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হয়। শাহদারা জেলার উপপুলিশ কমিশনার রাজেন্দ্র প্রসাদ মীনা জানান, কয়েকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুই থেকে তিনজন এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকতে পারেন বলেও তখন ধারণা করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে আটজনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। তাদের মধ্যে তিন বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে। আহতদের দিল্লির তাহিরপুরের রাজীব গান্ধী সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিওতে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্ধারকাজে অংশ নিতে দেখা যায়। অনেকে খালি হাতে ইট-পাথর ও কংক্রিটের স্ল্যাব সরিয়ে ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। উদ্ধারকাজে ভারী যন্ত্রপাতিও ব্যবহার করা হয়। ভবন ধসের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, মঙ্গলবার রাতে দিল্লি-এনসিআর এলাকায় অনুভূত ভূমিকম্পের পর ভবনটিতে ফাটল দেখা দিয়েছিল। তবে কর্মকর্তারা ভূমিকম্পের সঙ্গে ভবন ধসের কোনো যোগসূত্র এখনো নিশ্চিত করেননি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর জানা যাবে বলে জানিয়েছেন তারা। এদিকে উদ্ধার অভিযান নির্বিঘ্ন রাখতে ঘটনাস্থলের আশপাশের সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করেছে দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ। সীমাপুরী গোলচত্বর, ডিএলএফ ভোপুরা ও আশপাশের সড়ক এড়িয়ে চলতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকারী যান দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে রাস্তা ফাঁকা রাখার অনুরোধও করা হয়েছে। এর মাত্র এক মাস আগে দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় একটি পাঁচতলা ভবন ধসে সাতজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার পর আবারও রাজধানীতে ভবন নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।