ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আজ শনিবার দিল্লির যন্তরমন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা ও জনসমাগমের আশঙ্কায় রাজধানীর একটি অংশে ২৪ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। একই সঙ্গে ট্রেন ও মেট্রো চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তাকর্মী। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির গতকাল শুক্রবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জনপথ-কর্তব্যপথ মোড়ের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় শুক্রবার রাত ১০টা থেকে আজ শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মোবাইল অপারেটরদের কাছে পাঠানো নির্দেশে টেলিযোগাযোগ আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই নিষেধাজ্ঞা দিল্লির পুরো শহরে নয়, নির্ধারিত এলাকার মোবাইল ইন্টারনেট সেবার ওপর প্রযোজ্য। বিক্ষোভ ঠেকাতে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিল্লি পুলিশ একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে দিল্লিগামী কিছু ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া মেট্রোর বেশ কয়েকটি স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট আপত্তি জানানোর পর বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার বিষয়টি সামনে আসে। শুক্রবারের বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালত জনসাধারণের যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার পরিবর্তে পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেন। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যদেরও মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, জননিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার স্বার্থেই এসব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ককরোচ জনতা পার্টি ও বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এ কারণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছে তারা। বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের কর্মকাণ্ডের কারণে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকার ভোটার তালিকা সংশোধনের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছে, অযোগ্য ও একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত নাম বাদ দেওয়াই এ ধরনের প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর ঘিরে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বিতর্ক ও প্রতিবাদ চলছে। বিরোধী দলগুলোর দাবি, সংশোধনের ফলে প্রকৃত ভোটারদেরও নাম বাদ পড়েছে এবং এর প্রভাব নির্বাচনী ফলাফলে পড়তে পারে। এসব অভিযোগের সত্যতা ও প্রভাব নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে; অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত অনিয়ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার মতো সিদ্ধান্ত এখানে উল্লেখ করা হয়নি। ককরোচ জনতা পার্টি এর আগেও দিল্লিতে বিক্ষোভ করেছে। জুলাইয়ে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে আন্দোলনের পর তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের ঘটনা সামনে আসে। এবার নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে দলটি নতুন কর্মসূচি নিয়েছে। বিক্ষোভের আগে দিল্লিতে যাতায়াত ও যোগাযোগব্যবস্থায় বিধিনিষেধ সাধারণ মানুষের চলাচলে প্রভাব ফেলতে পারে। সুপ্রিম কোর্টের আপত্তির পর মেট্রো ও রেল পরিষেবায় বিধিনিষেধ কতটা বহাল থাকবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিক্ষোভ ঘিরে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নির্ভর করছে আয়োজকদের কর্মসূচি, পুলিশের ব্যবস্থা এবং আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের ওপর।