প্রকাশ :: ... | ... | ...

নরেন্দ্র মোদির সরকারকে কতটা ধাক্কা দিতে পারল সিজেপি?


সংযুক্ত ছবি

*নিট প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনের চাপে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ; সরকারের কাছে নতি স্বীকার, নাকি কৌশলগত সমঝোতা? ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে অবসান ঘটেছে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’—সিজেপির নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের। সর্বভারতীয় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিটের প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ, শিক্ষাব্যবস্থায় অনিয়ম, পরীক্ষার্থীদের আত্মহত্যা এবং সরকারের জবাবদিহির দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক চাপ তৈরি করে। শনিবার দুপুরে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের ঘোষণা আসার পর দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের মধ্যে উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে। তবে তখনও সিজেপির আরও দুটি দাবি পূরণ হয়নি। পরে সরকারের দুই শীর্ষ মন্ত্রী ও সিজেপির প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠকে ওই দাবিগুলো নিয়েও সমঝোতা হয়। এরপরই আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি অনুযায়ী, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পাশাপাশি বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং আন্দোলনের সময় নিহত বা আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে সরকার সম্মত হয়েছে। সিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব বিষয়ে লিখিত নিশ্চয়তাও দেওয়া হবে। যেভাবে শুরু হয়েছিল আন্দোলন সিজেপির জন্মই হয়েছিল মূলত একটি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন উদ্যোগ হিসেবে। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকা শব্দটি ব্যঙ্গাত্মকভাবে ব্যবহার করে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে অনলাইন প্রচারণা শুরু করেন। নিজেকে ‘আমিও আরশোলা’ বলে পরিচয় দিয়ে দেওয়া তার একটি পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে। পরবর্তী সময়ে ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপির আত্মপ্রকাশ ঘটে। শুরুতে এটি ছিল মূলত অনলাইনভিত্তিক একটি ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু নিট পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর এর কার্যক্রম ধীরে ধীরে রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের রূপ নেয়। নিট পরীক্ষার অনিয়মে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ, পরীক্ষার্থীদের আত্মহত্যা, শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার অভাব এবং সরকারের জবাবদিহির দাবিতে সিজেপি সরব হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তাদের প্রধান দাবিতে পরিণত হয় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। জুনের শুরুতে দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন অভিজিৎ দীপকে। প্রথম দিকে জমায়েত সীমিত থাকলেও ধীরে ধীরে আন্দোলনে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়তে থাকে। পরে শিক্ষাবিদ ও জলবায়ু অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুকও আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন এবং অনশন শুরু করেন। আন্দোলনে বিভিন্ন সময়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের উপস্থিতিও দেখা যায়। ফলে বিষয়টি ধীরে ধীরে জাতীয় রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। ২০ জুলাইয়ের কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা আন্দোলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে ২০ জুলাই। ওই দিন সংসদ অভিমুখে মিছিলের কর্মসূচি দেয় সিজেপি। মিছিলকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ ও উত্তেজনা তৈরি হয়। বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ এবং নারী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ নিয়ে অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনায় সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা আরও তীব্র হয়। এরপর আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের কঠোর অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। দেশটির বিভিন্ন শহরে আন্দোলনের সমর্থনে কর্মসূচি পালিত হয়। কলকাতা, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, পাটনাসহ বিভিন্ন শহরে ছাত্র ও তরুণদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও প্রতিবাদে অংশ নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জেন-জি’ প্রজন্মের একটি বড় অংশ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানায়। ফলে দিল্লির যন্তর মন্তরের একটি আন্দোলন ধীরে ধীরে জাতীয় পর্যায়ের যুব আন্দোলনে রূপ নেয়। মোদি সরকারের ওপর চাপ বাড়ছিল নরেন্দ্র মোদির সরকার এর আগেও একাধিক বড় আন্দোলনের মুখোমুখি হয়েছে। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ও এনআরসি বিরোধী শাহীনবাগ আন্দোলন, কৃষকদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন এবং নারী কুস্তিগিরদের প্রতিবাদ—এসব ঘটনায় সরকারকে রাজনৈতিক ও জনমতের চাপ সামলাতে হয়েছে। তবে সিজেপির আন্দোলনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন ছিল। কারণ এবার মূলত শিক্ষার্থী ও তরুণদের একটি অংশ সরাসরি আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল। বিরোধী দলগুলো সমর্থন দিলেও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কোনো প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের হাতে ছিল না। এ কারণে আন্দোলনটি সরকারবিরোধী বৃহত্তর যুব অসন্তোষের প্রতীক হয়ে উঠতে পারে—এমন আশঙ্কাও তৈরি হয় রাজনৈতিক মহলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনের পক্ষে ও বিপক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চলতে থাকে। আন্দোলনকারীদের কেউ কেউ কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেন। অন্যদিকে বিজেপিপন্থি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলা হয়। এই পাল্টাপাল্টি প্রচারণার মধ্যেই আন্দোলনের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে থাকে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ—কতটা বড় ধাক্কা? ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে অনেক বিশ্লেষক মোদি সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখছেন। প্রবীণ সাংবাদিক নীরজা চৌধুরীর মতে, ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করলে আন্দোলন আরও বড় আকার নিতে পারত। তার ভাষায়, যুবসমাজের ক্ষোভ প্রশমিত করার জন্য শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছিল। তার মতে, এই ঘটনা তরুণদের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক জয়। কারণ তারা দেখিয়ে দিয়েছে, সংগঠিত ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব। অন্যদিকে সাংবাদিক লভ কুমার মিশ্র মনে করেন, এই আন্দোলন ছিল রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের বাইরে থাকা একটি ছাত্র-যুব আন্দোলন। মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তারা সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য করেছে—এটিকে তিনি ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন। তবে সাংবাদিক রশিদ কিদওয়াই বিষয়টিকে সরকারের জন্য ধাক্কার পাশাপাশি একটি রাজনৈতিক সুযোগ হিসেবেও দেখছেন। তার মতে, আন্দোলনের কৃতিত্ব নেওয়া নিয়ে যদি ছাত্র ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়, তাহলে সরকার সেই বিভাজনকে কাজে লাগাতে পারে। আরএসএসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পেছনে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএসের কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। ধর্মেন্দ্র প্রধান বিজেপির নেতা হলেও তার রাজনৈতিক উত্থানের শুরু আরএসএসের ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ—এবিভিপির মাধ্যমে। ফলে তিনি আরএসএস ঘনিষ্ঠ নেতা হিসেবে পরিচিত। সাংবাদিক লভ কুমার মিশ্রের ধারণা, আন্দোলনের কারণে সরকারের ওপর চাপ বাড়তে থাকায় আরএসএসের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে তরুণ সমাজের মধ্যে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন। আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের সাম্প্রতিক এক বক্তব্যও এ আলোচনায় এসেছে। তরুণ প্রজন্মকে আরও বেশি সময় দেওয়া, তাদের কথা শোনা এবং তাদের সঙ্গে সংলাপের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন তিনি। তবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগে আরএসএসের সরাসরি ভূমিকা ছিল—এমন কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। জেন-জি’র বিজয় দেখছেন আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে যন্তর মন্তরের মঞ্চ থেকে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন, গণতন্ত্রে মানুষের কথা বলার অধিকার রয়েছে। জনগণ প্রশ্ন তুললে সরকারকে জবাবদিহি করতে হয়—এমন বক্তব্যও দেন তিনি। তার বক্তব্যে আন্দোলনের অন্যতম মূল বার্তা ছিল—জনগণ চাইলে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে সোনম ওয়াংচুক ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে গণতন্ত্রের জয় হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি সিজেপি ও আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের অভিনন্দন জানান। তবে বিজয়ের মুহূর্তেও বিনয় ধরে রাখার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, আন্দোলনের মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি পূরণ হলেও এখনো শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার কাজ বাকি। ## শেষ পর্যন্ত কী পেল সিজেপি? শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছিল সিজেপির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি। সেটি পূরণ হওয়ার পর আন্দোলনের অন্য দাবিগুলো নিয়েও সরকারের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে। বৈঠক শেষে সিজেপির প্রতিনিধিরা জানান, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হবে। শুধু দিল্লি নয়, বিজেপিশাসিত অন্যান্য রাজ্যে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোও প্রত্যাহারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নিহত বা আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। সিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব বিষয়ে সরকার লিখিতভাবে তাদের জানাবে। এরপর যন্তর মন্তরের মঞ্চ থেকে আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়মের কারণে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সরকারের জন্য কী বার্তা? সিজেপির আন্দোলনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক তাৎপর্য হলো, একটি তুলনামূলকভাবে নতুন ও রাজনৈতিক দলবহির্ভূত প্ল্যাটফর্মের নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলন শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর পদত্যাগ ঘটিয়েছে। এটি মোদি সরকারের জন্য নিঃসন্দেহে একটি রাজনৈতিক ধাক্কা। বিশেষ করে যুবসমাজের একটি অংশের মধ্যে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তৈরি হলে তা ভবিষ্যতে বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হতে পারে। তবে এটিকে সরকারের পরাজয় হিসেবে দেখারও সুযোগ নেই। কারণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার ইতোমধ্যে প্রশ্নফাঁস রোধে আইন ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে। আন্দোলনের চাপ কমাতে সরকার শেষ পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ মেনে নিয়েছে এবং বিক্ষোভকারীদের অন্যান্য দাবিতেও আশ্বাস দিয়েছে। ফলে পুরো ঘটনাকে একদিকে তরুণদের আন্দোলনের সাফল্য, অন্যদিকে সরকারের কৌশলগত সংকট মোকাবিলার সিদ্ধান্ত—দুইভাবেই দেখা যেতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ‘জেন-জি’ নামে পরিচিত তরুণ প্রজন্ম এবার দেখিয়ে দিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষোভ যদি রাজপথের সংগঠিত আন্দোলনে রূপ নেয়, তাহলে তা সরকারের ওপরও যথেষ্ট চাপ তৈরি করতে পারে। তবে এই আন্দোলনের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে সিজেপি ও আন্দোলনে যুক্ত তরুণরা ভবিষ্যতে কী ভূমিকা নেয় তার ওপর। তারা যদি সংগঠিত রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়, তাহলে ভারতের রাজনীতিতে নতুন একটি শক্তির উত্থান ঘটতে পারে। আর যদি আন্দোলন কেবল একটি নির্দিষ্ট দাবি পূরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকেই এর প্রধান অর্জন হিসেবে মনে রাখা হবে। যাই হোক, এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই আন্দোলন একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে—ভারতের রাজনীতিতে তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক সচেতনতা ও অংশগ্রহণ ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আর সেই কারণেই ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ শুধু একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ নয়; এটি মোদি সরকারের প্রতি তরুণ সমাজের একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।