ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও ব্যাপকভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা থেকে আপাতত সরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা, জ্বালানি ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ এবং গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় মিত্রদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় থাকা প্রতিরোধ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে আসার বিষয়টিও ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বরাতে নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করা হবে কি না—এ নিয়ে ট্রাম্প ও তাঁর শীর্ষ উপদেষ্টারা নানা দিক বিবেচনা করছেন। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইরানের পাল্টা হামলা ঠেকাতে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের সীমিত মজুত। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পেন্টাগনের কাছে থাকা প্যাট্রিয়টসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত উদ্বেগজনকভাবে কমে আসছে। নতুন করে বড় আকারের অভিযান শুরু হলে ইরানের পাল্টা হামলা মোকাবিলায় এসব ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার আরও বাড়তে পারে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা ও সামরিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ট্রাম্পের বৈঠকে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার ট্রাম্প তাঁর শীর্ষ উপদেষ্টা ও মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠকের পরই ইরান নিয়ে তাঁর সামরিক কৌশলে সর্বশেষ পরিবর্তন আসে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। বৈঠকে পেন্টাগনের প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সামরিক কর্মকর্তারা। মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনও ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন বলে জানা গেছে। তাঁর আশঙ্কা, সামরিক অভিযান আবারও ব্যাপক আকার ধারণ করলে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যেতে পারে। তবে জেনারেল কেইন প্রেসিডেন্টকে ঠিক কী পরামর্শ দিয়েছেন, সে বিষয়ে তাঁর মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করেননি। জর্ডানে ক্ষেপণাস্ত্র ভেদ করে আঘাত ইরানের পাল্টা হামলার সক্ষমতাও মার্কিন সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় ভূমিকা রাখছে। এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, শুক্রবার জর্ডানে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। এতে তিন মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হন বলে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এ ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা এবং আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলা চালানো হলে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় জর্ডান, কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের হামলা আরও বাড়তে পারে। এতে সীমিত মজুতের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে। প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমছে মার্কিন সামরিক সক্ষমতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। নিউইয়র্ক টাইমসের আগের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, যুদ্ধ চলাকালে পেন্টাগন ১ হাজার ২০০টির বেশি প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্রের দাম ৪০ লাখ ডলারের বেশি। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের অভ্যন্তরীণ হিসাব ও কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এসব ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত এখন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় অভিযান চালানোর সামরিক সক্ষমতা এবং অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সেনাদের সুরক্ষা—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা ওয়াশিংটনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, কোনো দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অভিযান পরিচালনা করা এবং একই সময়ে নিজস্ব সামরিক ঘাঁটি ও সেনাদের রক্ষায় পর্যাপ্ত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ধরে রাখা—দুইটি বিষয় পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে গেলে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বড় হামলার ইঙ্গিত দিয়েও পিছিয়ে গেলেন ট্রাম্প এর আগে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় ধরনের সামরিক হামলার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। গত বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আগের যেকোনো হামলার চেয়ে বড় একটি সামরিক অভিযান চালানোর কথা তিনি বিবেচনা করছেন এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার খুব কাছাকাছি রয়েছেন। শুক্রবারও সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত অভিযান শুরু করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে একই সঙ্গে তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনাও খোলা রাখার কথা জানান। এর কয়েক ঘণ্টা পরই শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। এরপরই বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করার সিদ্ধান্ত আসে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। শুধু ক্ষেপণাস্ত্র নয়, আরও কয়েকটি কারণ তবে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পেছনে শুধু প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়াই একমাত্র কারণ নয় বলে মনে করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে। এতে ইরানের হামলার ঝুঁকিতে থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। জ্বালানির দাম বাড়ার পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে শরণার্থী সংকটও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই সব ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অনেক উপদেষ্টা সামরিক অভিযান আরও বাড়ানোর পরিবর্তে অর্থনৈতিক চাপ এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সামরিক হামলা কি কাঙ্ক্ষিত ফল দিচ্ছে? নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলা এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তাও ইরানে সামরিক হামলার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, সামরিক হামলা কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জনের বদলে ইরানের অভ্যন্তরীণ ঐক্য আরও শক্তিশালী করতে পারে। ওই কর্মকর্তার যুক্তি, বাইরের সামরিক হুমকি তৈরি হলে ইরানের নেতৃত্ব অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে জনগণের মনোযোগ সরিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাতে পারে। ফলে সামরিক হামলা ইরানকে দুর্বল করার পরিবর্তে উল্টো দেশটির অভ্যন্তরীণ সমর্থনকে আরও সংহত করতে পারে। এই বাস্তবতা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে বড় দুশ্চিন্তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে পরিচিত এই জলপথে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। গত দুই সপ্তাহে সংঘাত তীব্র হওয়ায় জ্বালানির দাম বাড়তে শুরু করেছে। হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি সচল না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে তাই দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ—একদিকে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করা, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি সচল রাখা। এ পরিস্থিতিতে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালালে ইরানের পাল্টা পদক্ষেপে হরমুজ সংকট আরও গভীর হতে পারে। নৌ অবরোধেও মিশ্র ফল ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি নৌ অবরোধের মতো পদক্ষেপও নিয়েছে। এর উদ্দেশ্য ছিল ইরানের বন্দরগুলোতে জাহাজের প্রবেশ ও প্রস্থান বাধাগ্রস্ত করা। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই কৌশলের ফলও প্রত্যাশিত মাত্রায় আসেনি। জুনের মাঝামাঝি একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর ইরান আবারও কিছু পরিমাণ তেল রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছে, যার বড় অংশ চীনের বাজারে যাচ্ছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের দাবি, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে চীন ইরান থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা প্রায় ৪০ শতাংশ কমিয়েছে। এর ফলে ইরানের তেল বিক্রির আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে চীন-ইরান বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং তেল রপ্তানির বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য এখনো স্পষ্ট নয়। কূটনীতির দরজা কি আবার খুলবে? ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের একটি অংশ মনে করছেন, ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চাপ বজায় রেখে একই সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়া তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকির কৌশল হতে পারে। তবে এই মুহূর্তে কার্যকর কোনো কূটনৈতিক আলোচনা চলছে কি না এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে কোনো সমঝোতা বাস্তবে সম্ভব হবে কি না—তা এখনো অনিশ্চিত। হোয়াইট হাউসের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক স্টিভেন চিউং বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বরাবরই কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছেন। তবে ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ড চালায় বা মার্কিন মিত্রদের ওপর হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে সব ধরনের বিকল্পই বিবেচনায় রাখা হবে। যুদ্ধ থামলেও উত্তেজনা কাটেনি টানা দুই সপ্তাহের সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি লড়াইয়ে সাময়িক বিরতি দেখা গেলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হয়নি। ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুতিদের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় আঞ্চলিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইরানে টানা কয়েক রাতের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো হামলার ঘোষণা না দিলেও, ওয়াশিংটন যে সামরিক বিকল্প পুরোপুরি বাতিল করেছে—এমন কোনো ইঙ্গিত নেই। বরং বর্তমান পরিস্থিতি থেকে যে বিষয়টি স্পষ্ট, তা হলো—ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় সামরিক অভিযান চালানো হলে তার মূল্য শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা, মিত্রদের নিরাপত্তা, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও দিতে হতে পারে। এই বাস্তবতায় ট্রাম্প আপাতত সামরিক অভিযান বড় করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের পথেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে। তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাতের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি, ইরানের পাল্টা হামলার সক্ষমতা এবং কূটনৈতিক আলোচনায় দুই পক্ষের ফিরে আসার সম্ভাবনার ওপর। ফলে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—ট্রাম্পের সাময়িক বিরতি কি কৌশলগত পুনর্বিন্যাস, নাকি সীমিত প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে বাস্তব উদ্বেগের ফল? উত্তর মিলবে আগামী দিনের মার্কিন সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপেই।