প্রকাশ :: ... | ... | ...

পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত ৩০


সংযুক্ত ছবি

পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীর। ছবি: রয়টার্স

পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতি, বিদ্যুতে শুল্ক, বেকারত্ব নিয়ে প্রতিবাদে সরব হয়েছে নাগরিক সংগঠন ‘জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে উত্তপ্ত পাকিস্তান অধিকৃত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের রাওয়ালকোট। সরকার-বিরোধী এই বিক্ষোভে দমনাভিযানে বেশকিছু মানুষ হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গত কয়েকদিনের এই বিক্ষোভ-সংঘর্ষে ৩০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং প্রায় ২০০ জন আহত হয়েছে বলে দাবি করেছে বিক্ষোভকারীরা। তবে সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা ১১ এবং আহত হয়েছে ৭০ জন। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতি, বিদ্যুতে শুল্ক, বেকারত্ব এবং রাজনীতিতে আরও বেশি প্রতিনিধিত্বের দাবি নিয়ে প্রতিবাদে সরব হয় সেখানকার নাগরিক সংগঠন ‘জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)। এই সংগঠনকে গত সপ্তাহে কর্তৃপক্ষ নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পরই বিক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। কর্তৃপক্ষ বলেছিল, ওই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য জেএএসি কে নিষিদ্ধের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বিক্ষোভের সূত্রপাত রাওয়ালকোটে। সেখানে প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন এক ব্যবসায়ী। গত শুক্রবার রাতে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হন তিনি। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার মধ্যে রোববার সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ জানায়, এদিন হাসপাতালের মর্গের সামনে বিক্ষোভ দেখান বেশ কয়েক জন প্রতিবাদী। মর্গে রাখা ছিল পুলিশের গুলিতে নিহত ওই ব্যবসায়ীর দেহ। ওই অঞ্চলের পুঞ্চ সেক্টরের কমিশনার সর্দার ওয়াহিদ খান জানান, হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ দমন করতে গুলি চালানো হলে নিহত হয় ছয়জন। যদিও স্থানীয় অধিবাসীরা বলছে, নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি। পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীরাও পাল্টা স্বয়ংক্রিয় রাইফেল থেকে গুলি ও বোমা ছুড়েছিল। রাওয়ালকোট প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা সরদার ওয়াহিদ খান, বিক্ষোভ দমনাভিযান চলাকালে একাধিক জনকে গ্রেপ্তার করার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন। মঙ্গলবার বিক্ষোভের আগে দিয়ে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর কর্তৃপক্ষ ফেডারেল প্যারামিলিটারি পুলিশ মোতায়েন করে এবং কড়া বিধিনিষেধ দিয়ে ভ্রমণ নির্দেশিকাও জারি করে। রাওয়ালকোটে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। তল্লাশি অভিযান চলছে। কিছু অংশে ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ করা হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরেই আজাদ কাশ্মীরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে বাসিন্দাদের। মানবাধিকার সংগঠনগুলো উভয়পক্ষকে আলোচনায় বসে বিরোধ মেটানোর আহ্বান জানাচ্ছে।