মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরান দাবি করেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার পরিকল্পনা থেকে ‘পিছু হটেছেন’ এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের কোনো আলোচনাও চলছে না। সোমবার (২৩ জুন) ইরানের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা দেশটির ফার্স নিউজ এজেন্সিকে দেয়া বক্তব্যে বলেন, ইরানের সামরিক হুমকি বাস্তব রূপ নেওয়ায় এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজার ও মিত্রদের চাপ বাড়ায় ট্রাম্প হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন। তিনি দাবি করেন, ‘এটি এক ধরনের পশ্চাদপসরণ ও পিছু হটা।’ এই বক্তব্য আসে ট্রাম্পের সেই ঘোষণার পর, যেখানে তিনি বলেন-ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সম্ভাব্য মার্কিন হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, গত কয়েক দিনে দুই দেশের মধ্যে ‘গভীর ও ফলপ্রসূ আলোচনা’ হয়েছে এবং এই আলোচনা চলমান থাকবে।তবে তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, কোনো ধরনের আলোচনা বর্তমানে চলছে না। ইরানি কর্মকর্তা বলেন, ‘এটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ, বাস্তবে কোনো সংলাপ হয়নি এবং হবেও না।’ তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন না করা পর্যন্ত ইরান আত্মরক্ষামূলক অবস্থান বজায় রাখবে এবং যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে প্রস্তুত থাকবে। এর আগে, ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দেশ দেন ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলা ৫ দিনের জন্য স্থগিত রাখতে তেহরানের সঙ্গে ‘ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা’ হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ স্যোশালে এক পোস্টে বলেন, গত দুই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা পুরোপুরি সমাধানের লক্ষ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও জানান, চলমান আলোচনা সফল হওয়ার ওপর নির্ভর করে আপাতত সব ধরনের সামরিক হামলা স্থগিত রাখা হয়েছে। শনিবার ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় সব জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দিতে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। অন্যথায় ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করার হুমকিও দেন তিনি।