প্রকাশ :: ... | ... | ...

পেশোয়ার কনস্যুলেট স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র


সংযুক্ত ছবি

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাকিস্তানের পেশোয়ারে থাকা তাদের কনস্যুলেটটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিতে যাচ্ছে। আফগান সীমান্ত থেকে সবচেয়ে কাছের এই কূটনৈতিক কার্যালয়টি ২০০১ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর অভিযান এবং তার আগে-পরে ওয়াশিংটনের অপারেশন ও লজিস্টিকস কেন্দ্রের দায়িত্ব পালন করেছে। দিনকয়েক আগে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কংগ্রেসকে ওই কনস্যুলেট স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে তাদের আগ্রহের বিষয়টি জানিয়ে বলেছে, এর ফলে বছরে ৭৫ লাখ ডলার সাশ্রয় হবে কিন্তু পাকিস্তানে মার্কিন স্বার্থে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে না। কংগ্রেসকে মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এ সংক্রান্ত নোটিস বুধবার নিউ ইয়র্ক সিটিভিত্তিক একটি বার্তা সংস্থার হাতে আসে, তাদের বরাত দিয়ে পরে এনবিসি নিউজও খবরটি প্রকাশ করে। মার্কিন এ সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, এই কনস্যুলেট বন্ধের সঙ্গে ইরান যুদ্ধের কোনো সম্পর্ক নেই, ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর সব কেন্দ্রীয় সংস্থার লোকবল ছাঁটাই যখন থেকে শুরু হয়েছে, তখন থেকেই পেশোয়ারের এ মিশন বন্ধ করে দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছিল। ইরানে ইসরায়েল ও ‍যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার পর পাকিস্তানের একাধিক শহরে বিক্ষোভ হয়েছে, যার ধাক্কায় করাচি ও পেশোয়ার কনস্যুলেটের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ট্রাম্প প্রশাসন গত বছর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কয়েক হাজার কর্মীকে চাকরিচ্যুত করে। দাতা সংস্থার ভূমিকায় থাকা ইউএসএআইডি’র প্রায় সব কর্মীই বরখাস্ত হন; পরে ইউএসআইডিকে বিলুপ্তই করে দেওয়া হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় পেশোয়ারের কনস্যুলেটই হতে যাচ্ছে প্রথম বিদেশি মিশন, যা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এই কনস্যুলেটে ১৮ মার্কিন কূটনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় ৮৯ কর্মীও কাজ করছেন বলে কংগ্রেসকে দেওয়া মঙ্গলবারের নথিতে বলেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কনস্যুলেটটি বন্ধ করতে ৩০ লাখ ডলার খরচ হবে বলেও জানিয়েছে তারা। এর মধ্যে ১৮ লাখ ডলাই লাগবে অস্থায়ী অফিস হিসেবে ব্যবহৃত সাঁজোয়া ট্রেলারগুলো সরাতে; বাকি অর্থ যাবে কনস্যুলেটের গাড়িবহর, ইলেকট্রনিক ও টেলিকমিউনিকেশন সরঞ্জাম ইসলামাবাদের মার্কিন দূতাবাস এবং করাচি-লাহোরের বাকি দুই দূতাবাসে সরিয়ে নিতে, বলা হয়েছে নোটিসে। আফগান সীমান্ত ও কাবুলের কাছে হওয়ায় পেশোয়ারের এ কনস্যুলেটটি অনেকদিন ধরেই ছিল মার্কিন কর্মকর্তাদের স্থলপথে আফগানিস্তান যাওয়ার অন্যতম নিরাপদ আশ্রয়, উত্তরপশ্চিম পাকিস্তানে থাকা মার্কিন নাগরিক এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তাপ্রত্যাশী আফগান নাগরিকদের জন্যও এটি ছিল যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দু। মার্কিন নাগরিকদের জন্য থাকা কনসুলার সেবাসহ পেশোয়ার কনস্যুলেটের সব কাজ এখন থেকে ইসলামাবাদে থাকা দূতাবাসই সামলাবে বলে নোটিসে বলা হয়েছে। সূত্র : বিডিনিউজ