সিজেপির তিন নেতা সৌরভ দাস, অভিজিৎ দীপকে ও আশুতোষ রাঙ্কা দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট থানার ভিতর। রোববার সকালে। ছবি: ভিডিও থেকে
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আটক ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তিন নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে মুক্তি দিয়েছে পুলিশ। সতর্কতামূলক গ্রেপ্তারের পর রবিবার সকালে দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট থানায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হলে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে মুক্তির ক্ষেত্রে শর্ত আরোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিজেপির আইনজীবী দলের প্রধান রত্না সিংহ। রত্না সিংহের ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী এক বছর শান্তি ভঙ্গ করতে পারেন—এমন কোনো কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন না তিন নেতা। তবে এই শর্তের সুনির্দিষ্ট আইনি ভাষা ও প্রয়োগের বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক নথি থেকে যাচাই করা প্রয়োজন। মুক্তির পর আশুতোষ রাঙ্কা জানিয়েছেন, রবিবার দুপুর ২টায় তাঁরা সংবাদ সম্মেলন করবেন। তিন নেতার মুক্তির পর সিজেপি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আরশোলারা কখনো মরে না। অবশেষে দীপকে, সৌরভ ও রাঙ্কাকে ছাড়তে বাধ্য হলো দিল্লি পুলিশ।’ ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১২৬ ও ১৭০ ধারায় তাঁদের সতর্কতামূলকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। শনিবার সকালে মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে তাঁদের আটক করে পুলিশ। ওই দিন দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁদের। আটকের পর তিন নেতার অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তাঁদের পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগ করতে পারছিলেন না বলে অভিযোগ ওঠে। তাঁদের মুক্তির দাবিতে সিজেপি সুপ্রিম কোর্টেরও দ্বারস্থ হয়েছিল। তবে আদালতে আবেদনের নিষ্পত্তির আগেই তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয় বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এদিকে আটকের মধ্যেই অভিজিৎ দীপকের দাদি মারা যান। দিল্লি পুলিশ দাবি করেছে, মৃত্যুসংবাদ তাঁর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। তবে আটক অবস্থায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে পুলিশের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যুক্ত করা প্রয়োজন। সিজেপির নেতারা ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) বাতিলের দাবিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন পক্ষের বক্তব্য ছাড়া এসব অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। বিক্ষোভ ঘিরে শনিবার দিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড় চালায় পুলিশ। বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রায় সাত হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করার কথা বলা হয়েছে। তাঁদের অধিকাংশকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে সংবাদমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকেও শনিবার সকালে গুরুগ্রামের বাসা থেকে আটক করা হয়েছিল। পরে গভীর রাতে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সিজেপির নেতা অজিঙ্ক শিন্দে রবিবার বিকেলে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন। পাশাপাশি দিল্লির যন্তর মন্তরে আবারও বিক্ষোভ করার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ ও এসআইআর বাতিলের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে তারা।