প্রকাশ :: ... | ... | ...

বাংলাদেশ-নেপালের প্রসঙ্গ টেনে ভারতে ‘শাসন পরিবর্তন’ নিয়ে আরএসএস প্রধানের হুঁশিয়ারি


সংযুক্ত ছবি

বাংলাদেশ ও নেপালে সরকার পতনের উদাহরণ টেনে ভারতে আন্দোলনের মাধ্যমে ‘শাসন পরিবর্তনের’ যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভগবত। তাঁর দাবি, ভারতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। তবে এসব চেষ্টা সফল হবে না। দেশের সংকট ও সমস্যার সমাধান আন্দোলনের মাধ্যমে নয়, সমাজের ভেতর থেকেই খুঁজে বের করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। মঙ্গলবার ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুরে বিজয়া দশমী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ভগবত। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে তাঁর এই বক্তব্য সামনে এলো। ওই আন্দোলনে অংশ নেওয়া কিছু বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে সরকার পরিবর্তনের দাবি তোলার অভিযোগও রয়েছে। ভগবত বলেন, শুধু আন্দোলন করলেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয় না। সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে সমাজের ভেতর থেকেই। প্রতিবেশী ও অন্যান্য দেশে অস্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে ক্ষমতা পরিবর্তনের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি ভারতে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক করেন। আরএসএস প্রধানের ভাষ্য, ভারত অন্য দেশগুলোর মতো একই পথে হাঁটবে না। দেশের সংকল্প ও জনগণের সম্মিলিত শক্তি ভারতের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখবে। তাঁর বক্তব্য, ‘ভারতে শাসন পরিবর্তন হবে না।’ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা প্ররোচনার মাধ্যমে আন্দোলন সংগঠিত করা হলে তা উত্তেজনা, নৈরাজ্য ও জনজীবনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। ভগবত বলেন, গত কয়েক দশকে নীতিগত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ভারত যে অগ্রগতি অর্জন করেছে, তা ব্যাহত করার চেষ্টা চলছে। তাঁর অভিযোগ, ভারত ও আরএসএসকে দুর্বল করে দেওয়ার প্রচেষ্টাও রয়েছে। দেশের মানুষকে এসব শক্তি সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। ভারতের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা কারা করছে, সে বিষয়ে বক্তব্যে নির্দিষ্ট কোনো শক্তির নাম উল্লেখ না করলেও ভগবত বলেন, বিশ্বের অনেক শক্তিই চায় ভারত পরাজিত হোক। তাঁর ভাষায়, পশ্চিম দিক থেকে এমন একটি ঝড় ধেয়ে আসছে, যা ভারতের সংস্কৃতি, ব্যবস্থা ও নিরাপত্তাকে ঘৃণা করে এবং সবকিছু ধ্বংস করতে চায়। সরকারবিরোধী আন্দোলনের উদাহরণ দিতে গিয়ে বাংলাদেশ, নেপাল ও ফ্রান্সের প্রসঙ্গ টানেন আরএসএস প্রধান। তাঁর বক্তব্যে এসব দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার উদাহরণ তুলে ধরে ভারতে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরির বিরুদ্ধে সতর্ক করা হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন একপর্যায়ে সরকারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেশত্যাগ করেন। পরবর্তী সময়ে দেশে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। নেপালেও ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জেন-জি আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত, দুর্নীতি এবং শাসনব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভে ব্যাপক সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির সরকার পদত্যাগ করে। অন্যদিকে, ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সরকারি পরিষেবার অবনতি এবং সরকারের নীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বিক্ষোভ হয়েছে। এসব আন্দোলনকে ভারতের সম্ভাব্য পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করে ভগবত রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রচেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক করেন। ভগবতের বক্তব্যে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধের বিষয়টিও উঠে আসে। তাঁর অভিযোগ, দেশের কিছু মানুষ বিদেশি শক্তির মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত এবং রাজনৈতিক স্বার্থে অস্থিরতা তৈরিতে ভূমিকা রাখছে। এ ধরনের মানুষের মধ্যে বুদ্ধির অভাব ও ক্ষমতার প্রতি লোভ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আরএসএস প্রধান বলেন, সমস্যার সমাধান নিজেদের মধ্য থেকেই খুঁজে বের করতে হবে। আন্দোলনকে সমাধানের পথ হিসেবে গ্রহণ না করে সামাজিক ঐক্য ও সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তবে বাংলাদেশ ও নেপালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পেছনে নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অসন্তোষ, কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভের ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নেপালের আন্দোলনের পেছনেও তরুণদের ক্ষোভ, দুর্নীতি ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষ কাজ করেছে। ফলে এসব দেশের অভিজ্ঞতাকে ভারতের পরিস্থিতির সঙ্গে এক করে দেখার ক্ষেত্রে পার্থক্যগুলো বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, নির্বাচনব্যবস্থার নিরপেক্ষতা এবং বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ভগবতের বক্তব্যকে আন্দোলন ও সরকার পরিবর্তনের দাবির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে তাঁর বক্তব্যে উত্থাপিত বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ ও ভারতকে অস্থিতিশীল করার অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। সূত্র: ফার্স্টপোস্ট