প্রকাশ :: ... | ... | ...

বিতর্কিত’ এসআইআরের ধাক্কায় ৩১ আসনে ফল বদলে গেছে, তৃণমূলের দাবি


সংযুক্ত ছবি

বিতর্কিত এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল। ছবি: এনডিটিভি

বিধানসভা নির্বাচনে এমন অনেক আসনই আছে, যেখানে এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ যাওয়ার সংখ্যার তুলনায় জয়ের ব্যবধান খুবই কম। সোমবারের (১১ মে) সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময়ে ৩১টি আসনের কথা উল্লেখ করে এমনই দাবি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের বক্তব্য, এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেয়ার বিষয়টি নির্বাচনের ফলাফলকে ব্যাপক ভাবে প্রভাবিত করেছে। অনেক জায়গায় বিবেচনাধীন ভোটারের আবেদন নিষ্পত্তি হয়নি, যার প্রভাব পড়েছে ভোটে। তবে সুপ্রিম কোর্ট আপাতত এই বিষয় নিয়ে কোনও নির্দেশ দেয়নি। আদালতের বক্তব্য, এসআইআর-এর কারণে নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব পড়েছে, এমন বিষয় জানাতে হলে অতিরিক্ত আবেদন করে মামলা করতে হবে। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনপর্বে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে বারবার সরব হয়েছে তৃণমূল। তাদের দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনেক বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় ২৭ লাখের বেশি নাম বিবেচনাধীন তালিকায় রয়ে গেছে। ওই নাম বাদ রেখেই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন শেষ হয়েছে। পালাবদল হয়েছে সরকারে। ভোটের ফলপ্রকাশের পর সোমবারই ছিল এসআইআর মামলার প্রথম শুনানি। সেই শুনানিতে নাম বাদ এবং বিবেচনাধীন ভোটারদের বিষয় উল্লেখ করে তৃণমূল। তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে বলেন, ‘আমি ৩১টি আসনের উদাহরণ দেখাতে পারি, যেখানে নাম বাদের তুলনায় জয়ের ব্যবধান খুবই কম। তৃণমূলের এক প্রার্থী ৮৬২ ভোটে হেরেছেন। আর সেখানে পাঁচ হাজারেরও বেশি ভোটার এখনও বিচারাধীন।’ উল্লেখ্য, এসআইআর-এর বিচারাধীন তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারেরা ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারেন। ট্রাইব্যুনাল নথি যাচাই করে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। সাবেক বিচারপতিদের নিয়ে সেই ট্রাইব্যুনাল তৈরি করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। তবে ট্রাইব্যুনালে থাকা প্রাক্তন বিচারপতিদের মধ্যে কয়েক জন সরে দাঁড়িয়েছেন। সর্বোচ্চ আদালতে সোমবার এই বিষয়টিও উল্লেখ করেন কল্যাণ। তা শুনে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘ওই বিষয়ে আমরা কী করতে পারি? কাউকে তো কাজ করতে বাধ্য করতে পারি না।’ বিবেচনাধীন বিষয় নিয়ে তৃণমূলের আবেদন প্রসঙ্গে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, ‘নির্বাচনের ফলাফলে বাস্তবিকভাবে প্রভাব পড়েছে, এমন কিছু বলতে চাইলে অতিরিক্ত আবেদন করে মামলা করুন।’ প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এর মধ্যে আমরা কিছু তথ্য সংগ্রহ করব।’ তৃণমূলের আর এক আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী আদালতে বলেন, ‘এমন একটা ধারণা তৈরি হয়েছে যে, এখন এই মামলাগুলোর নিষ্পত্তি হতে ৪ বছরেরও বেশি সময় লাগবে।’ তবে সুপ্রিম কোর্ট এ ব্যাপারে কোনও কিছু জানায়নি। বিচারপতি বাগচী বলেন, ‘বহু আবেদন এখনও বিচারাধীন। সেই কারণে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছি এবং জানতে চাইছি, কত সময়ের মধ্যে এই বিষয়গুলোর নিষ্পত্তি হবে।’ সেই রিপোর্ট পাওয়ার পরেই পরবর্তী নির্দেশ দেয়া হবে বলে জানায় শীর্ষ আদালত। সূত্র: এনডিটিভি