প্রকাশ :: ... | ... | ...

বিমানে সহ-পাইলটের ছুরিকাঘাত, ১৮০ যাত্রীর প্রাণরক্ষায় আলোচনায় ভারতীয় ক্যাপ্টেন


সংযুক্ত ছবি

দুবাই-তেল আবিবগামী ফ্লাইটের ককপিটে সংঘর্ষ, সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ; আহত পাইলট স্মিত মাচ্ছারকে নিয়ে যাত্রীদের প্রশংসা দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী একটি যাত্রীবাহী বিমানের ককপিটে সহ-পাইলটের ছুরিকাঘাতে আহত হয়েও পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন প্রধান পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাঁকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। মাঝআকাশে দুই পাইলটের সংঘর্ষ এবং বিমানের দ্রুত উচ্চতা হারানোর ঘটনায় প্রায় ১৮০ যাত্রীর জীবন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে বিমানটি। গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ ফ্লাইটটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করে। বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজটিতে প্রায় ১৮০ জন যাত্রী ছিলেন। উড্ডয়নের পর মাঝআকাশে ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে বিমানটি জরুরি সংকেত পাঠায় এবং গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবের দিকে যায়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে আহত প্রধান পাইলটের নাম স্মিত মাচ্ছার বলা হয়েছে। তবে তাঁর পরিচয় ও জাতীয়তা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে তথ্যের অমিল রয়েছে। ফ্লাইদুবাই এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্যেও তাঁর জাতীয়তা নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে তাঁকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করার তথ্যটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের সূত্রেই বিবেচনা করা প্রয়োজন। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ককপিটে সংঘর্ষের সময় সহ-পাইলটের ছুরিকাঘাতে মাচ্ছার আহত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আহত এক পাইলটকে ঘিরে যাত্রীদের উদ্বিগ্ন অবস্থায় দেখা যায়। তাঁদের একজন তাঁকে বলেন, তিনি বিমানটির সবাইকে রক্ষা করেছেন। অন্য যাত্রীরাও তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করেন। তবে ভিডিওটির সব বিবরণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, বিমানটি ইসরায়েলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় একজন পাইলট অন্যজনকে ছুরিকাঘাত করেন এবং উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এক কেবিন ক্রু ও একজন যাত্রী ককপিটে প্রবেশ করে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে ভূমিকা রাখেন। তবে ঘটনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তদন্ত শেষ হয়নি। ফ্লাইদুবাইও জানিয়েছে, বিমানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত করা হচ্ছে। বিমান চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য উদ্ধৃত করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সংঘর্ষের সময় বিমানটি অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ১৭ হাজার ৪০০ ফুট উচ্চতা হারায়। উড়োজাহাজটি একাধিক জরুরি সংকেত পাঠানোর পর গতিপথ পরিবর্তন করে। পরে সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। বিমানটিতে থাকা অন্য পাইলটরাও পরিস্থিতি সামাল দিতে ভূমিকা রাখেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এনডিটিভির ভাষ্য অনুযায়ী, যাত্রীদের মধ্যে থাকা কয়েকজন পাইলটও পরে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া ও নিরাপদ অবতরণে সহায়তা করেন। তবে ঠিক কে কোন পর্যায়ে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন, সে বিষয়ে সব সূত্রে একই বিবরণ পাওয়া যায়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষ হামলাকারী হিসেবে অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে আটক করেছে বলে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আহত দুই পাইলটকেই চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, বিমানের সব যাত্রী ও ক্রু নিরাপদে আছেন এবং তাঁদের পরিচয় ও অবস্থা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফ্লাইদুবাইয়ে চার বছর, স্পাইসজেটে ছিলেন এক দশক হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্মিত মাচ্ছার ২০২২ সালের জুন থেকে ফ্লাইদুবাইয়ের বোয়িং ৭৩৭ বহরে ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ভারতের স্পাইসজেট এয়ারলাইনসে প্রায় এক দশক কাজ করেছেন। এনডিটিভির প্রতিবেদনে তাঁর লিংকডইন প্রোফাইলের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ চালনায় তাঁর ১৩ বছরের বেশি বাণিজ্যিক উড্ডয়নের অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং মোট উড্ডয়ন-অভিজ্ঞতা ৯ হাজার ৭৫০ ঘণ্টার বেশি। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ, সহ-পাইলটের উদ্দেশ্য এবং ককপিটে ছুরি কীভাবে নেওয়া হয়েছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত ঘটনার কারণ ও পরিস্থিতি নির্ধারণে তদন্ত চলছে। কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আগে ঘটনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।