বিহারে এনডিএ জোটের ভূমিধস জয়, এবার নজর পশ্চিমবঙ্গে

আজাদ ডেস্ক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

ভারতের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ) দাপুটে ও একতরফা জয় পেয়েছে। নীতীশ কুমারের জনতা দল ইউনাইটেড (জেডিইউ), বিজেপি এবং আরও কয়েকটি দল নিয়ে গঠিত এই জোট ২৪৩ সদস্যের বিধানসভায় ২০২টি আসন পেয়েছে। এর মধ্যে ৮৯টি আসন পেয়ে বিজেপি এককভাবে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে এসেছে। অন্যদিকে আরজেডি, কংগ্রেস ও বামদলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত মহাগাঁটবন্ধন ভোটযুদ্ধে উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে পড়ে। দুই দফায় অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে প্রথম দফায় ৬৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় দফায় ৬৮ শতাংশ ভোট পড়ে। মোট ভোটার অংশগ্রহণ দাঁড়ায় প্রায় ৬৭ শতাংশে। স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে ভোটগণনা শুরু হয়ে রাতে নির্বাচন কমিশন ফলাফল ঘোষণা করে।

ফলাফল ঘোষণার পর এনডিএ জোটকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, এই নির্বাচনে নারী ও তরুণরা এনডিএ–কে বিজয়ী করেছে, যেখানে কিছু রাজনৈতিক দল সংখ্যালঘু তোষণের রাজনীতি করেছে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, বিহারের ফলাফল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির দিক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মোদি বলেন, গঙ্গার প্রবাহ যেমন বিহার থেকে পশ্চিমবঙ্গে যায়, তেমনি বিহারের এই জয় পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয়ের পথ খুলে দেবে। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এ বক্তব্যকে বিজেপির সুস্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নীতীশ কুমারের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কিছুদিন আগেও নানা আলোচনা থাকলেও এবারের নির্বাচনে তার নেতৃত্বেই এনডিএ বড় জয়ের মুখ দেখেছে। বিশ্লেষকদের মতে, তার প্রত্যাবর্তনের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে ‘মুখ্যমন্ত্রী মহিলা রোজগার যোজনা’। নির্বাচনের আগের দুই মাসে এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় এক কোটি ২৫ লাখ নারীকে ১০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়, যা নারী ভোটারদের ব্যাপকভাবে এনডিএ–র দিকে আকৃষ্ট করে। ফলে নীতীশ কুমারের গ্রহণযোগ্যতা আবারও বৃদ্ধি পায়।

বিহারের রাজনীতিতে নীতীশ কুমারের যাত্রা বরাবরই উত্থান–পতনময়। সত্তরের দশকের সমাজবাদী রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতা কখনও বিজেপির সঙ্গে, কখনও বিরোধী জোটের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। ১৯৯৫ সালে প্রথমবার বিজেপির সঙ্গে জোট গঠন করেন তিনি। ২০০০ সালে প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসলেও অল্প সময়ের মধ্যেই সরে দাঁড়াতে হয়। ২০০৫ সালে পূর্ণ মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে স্থায়ী অবস্থান তৈরি করেন। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লক্ষ্য পূরণ না হলে বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন; কিন্তু ২০১৭ সালে আবার জোটে ফেরেন। ২০২২ সালে বিরোধী মহাজোটে যোগ দিলেও গত বছর আবারও এনডিএ–তে ফিরে আসেন এবং এবারের নির্বাচনে জোটের মুখ হিসেবে নেতৃত্ব দিয়ে বড় জয় এনে দেন।

এই ভূমিধস জয়কে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। বিশেষত পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা প্রবল। নারী ভোটার–ভিত্তিক কল্যাণনীতি, সংগঠিত প্রচারণা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের শক্তিশালী প্রভাব—বিহারে এ তিন উপাদানে বিজেপি-জেডিইউ জোট যে সাফল্য পেয়েছে, তা পশ্চিমবঙ্গেও প্রয়োগের চেষ্টা করবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। একই সঙ্গে মহাগাঁটবন্ধনের ভরাডুবি প্রমাণ করে যে বিরোধী জোটগুলো এখনো জনমন জয় করতে পারছে না। বিহারের ফলাফল তাই শুধু একটি নির্বাচন নয়; বরং আগামী দিনের পূর্ব ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের পূর্বাভাস বলে মনে করা হচ্ছে।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত