মিয়ানমারের রাখাইন ও কারেনি রাজ্যের চারটি শহরে জান্তা বাহিনীর বিমান হামলায় এক শিশুসহ অন্তত ১৫ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। রোববার (০১ অক্টোবর) এসব হামলা চালানো হয় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। স্বাধীন সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতি জানিয়েছে, রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকতাও, ম্রাউক-উ, পাউকতাও ও কিয়াউকফিউ শহরের আবাসিক এলাকা এবং একটি মাতৃসদনে বিমান হামলা চালায় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। এতে শুধু রাখাইন রাজ্যেই নিহত হয়েছেন ১২ জন। এর আগের দিন শনিবার কারেনি রাজ্যের পূর্বাঞ্চলীয় লোইকাও শহরের একটি স্কুলে বিমান হামলা চালায় সামরিক বাহিনী। ছুটির দিনে স্কুলটিতে শিশুদের জন্য পুষ্টিবিষয়ক একটি কর্মসূচি চলছিল। এ সময় হামলায় তিন শিশু নিহত এবং আরও আটজন আহত হয়। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বে সামরিক বাহিনী নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকেই দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে মিয়ানমার। সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে বেশ কয়েকটি জাতিগত সশস্ত্র বিরোধী গোষ্ঠী। রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বড় একটি জনগোষ্ঠীর বসবাস। প্রধানত মুসলিম এই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়টি মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছে। বছরের পর বছর ধরে বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটি থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন কয়েক লাখ রোহিঙ্গা। সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি