প্রকাশ :: ... | ... | ...

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে বিভিন্ন স্তরে ৯৭ মুসলিম প্রার্থীর জয়, সাফল্যের নেপথ্যে কী


সংযুক্ত ছবি

আবদুল আল–সাইয়েদ, রুয়া রোমান, ইলহান ওমর ও লতিফা সাইমন (ওপর থেকে ঘড়ির কাঁটার মতো)

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কেন্দ্রীয়, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পদে অন্তত ৯৭ জন মুসলিম প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস কাউন্সিলের (সিএআইআর) তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীদের এই সাফল্য দেশটির রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে। আরও এক ডজনের বেশি মুসলিম প্রার্থী ভোট গণনা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত তাঁরা নিজ নিজ প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে এগিয়ে ছিলেন। মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে প্রাইমারি বা দলীয় প্রাথমিক বাছাইপর্ব পেরিয়ে ১৬৮ জন মুসলিম প্রার্থী চূড়ান্ত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৯৭ জন জয়ী হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে মুসলিম প্রার্থীদের এই সাফল্যের পেছনে সাংগঠনিক তৎপরতা, ভোটার নিবন্ধন বৃদ্ধি, নীতিনির্ভর রাজনীতি এবং মুসলিমবিরোধী মনোভাবের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার প্রবণতাকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে সাতজন মুসলিম ওয়াশিংটন ডিসিতে যাচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য এবং একজন সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন। প্রতিনিধি পরিষদে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন ইলহান ওমর, রাশিদা তালিব, আন্দ্রে কারসন ও লতিফা সাইমন। নতুন সদস্য হিসেবে যোগ দিচ্ছেন আদম হামাউই ও দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ের। অন্যদিকে আবদুলরহমান আল-সাইয়েদ যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন। আগামী ছয় বছর তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন। ক্যালিফোর্নিয়ার চতুর্দশ কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে আয়েশা ওয়াহাবও প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে এগিয়ে ছিলেন। তবে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত তাঁর জয় নিশ্চিত হয়নি। তিনি জয়ী হলে মুসলিম প্রতিনিধি পরিষদ সদস্যের সংখ্যা আরও বাড়বে। কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বাইরে অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের আরও ৩৯টি পদে মুসলিম প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। এসব পদের মধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল, অঙ্গরাজ্য আইনসভার সদস্য ও অঙ্গরাজ্য সিনেটের পদ রয়েছে। কাউন্টি ও পৌরসভা পর্যায়ে জয়ী হয়েছেন ১৬ জন। শিক্ষা ও স্কুল বোর্ডের নির্বাচনে জিতেছেন ২৭ জন। এ ছাড়া আটজন মুসলিম বিচারক নির্বাচিত হয়েছেন। ভোটারদের সক্রিয়তা ও নীতিনির্ভর রাজনীতি যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১ শতাংশ মুসলিম। দেশটিতে মুসলিমের সংখ্যা প্রায় ৫৫ লাখ। সংখ্যায় কম হলেও এবারের নির্বাচনে তাঁদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত এক বছরে মুসলিম ভোটার নিবন্ধনের হার অন্তত ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একটি জরিপে দেখা গেছে, নিবন্ধিত মুসলিম ভোটারদের ৯৩ শতাংশ ভোট দিয়েছেন। সিএআইআরের জরিপ অনুযায়ী, মুসলিম ভোটারদের ৮০ শতাংশ ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের ভোট দিয়েছেন। বিপরীতে রিপাবলিকান প্রার্থীদের ভোট দিয়েছেন মাত্র ৬ শতাংশ। এনবিসির বুথফেরত জরিপেও দেখা গেছে, ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে কিংবা কোনো ধর্ম অনুসরণ করেন না—এমন ভোটারদের মধ্যে মুসলিমরাই সবচেয়ে বেশি ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়েছেন। তবে মুসলিম ভোটারদের রাজনৈতিক পছন্দ সব সময় একই রকম ছিল না। ইনস্টিটিউট ফর সোশ্যাল পলিসি অ্যান্ড আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের (আইএসপিইউ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ২০ শতাংশের বেশি মার্কিন মুসলিম ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন। সে সময় ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধ করা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। জর্জিয়া ভোটার প্রজেক্টের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক উরুজ আলি মিডল ইস্ট আইকে বলেন, ‘আমাদের মাঠপর্যায়ের প্রকল্পগুলোতে দেখা যাচ্ছে, মুসলিমরা দলীয় পরিচয়ের চেয়ে নীতিগত বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দিয়ে ভোট দেন। তাই তাঁদের অনেকেই ডেমোক্রেটিক বা রিপাবলিকান—কোনো পার্টির সঙ্গে নিজেদের যুক্ত না করে স্বতন্ত্র ভোটার হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করেন।’ জর্জিয়া যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্য। এ অঙ্গরাজ্যের দুই সিনেটরই ডেমোক্র্যাট। এবারের নির্বাচনে সেখানে একজন ডেমোক্র্যাট গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন, যিনি অঙ্গরাজ্যটির ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর। ইসলামবিদ্বেষের মধ্যেও নির্বাচনে সাফল্য মুসলিম প্রার্থীরা যখন নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন, তখন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমবিরোধী মনোভাব ও বক্তব্যও বেড়েছে। মুসলিম পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল (এমপ্যাক), সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট (সিএসও) এবং আইএসপিইউর পর্যবেক্ষণে এ প্রবণতার কথা উঠে এসেছে। নির্বাচনের আগে এমপ্যাক সতর্ক করেছিল, ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর কৌশল মুসলিম ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে পারে। গত এক মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার কয়েকটি ভবনে মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্যসংবলিত গ্রাফিতি আঁকা, ইলিনয়ে হিজাব পরা নারীদের গুলি করার হুমকি এবং ক্যালিফোর্নিয়ার একটি মসজিদে গুলি চালিয়ে একজন নিরাপত্তাকর্মীকে হত্যার মতো ঘটনা ঘটেছে। সিএসওর ৩৬ পৃষ্ঠার ‘ম্যানুফ্যাকচারিং দ্য মুসলিম থ্রেট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে রিপাবলিকান পার্টির নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে মুসলিমবিরোধী প্রচার চালিয়েছিলেন। এ প্রচারের অংশ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১ হাজার ১১১টি পোস্ট দেওয়া হয়, আটটি বিল উত্থাপন করা হয় এবং কংগ্রেসের ৬২ সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়। প্রতিবেদনে এসব কর্মকাণ্ডকে ‘সহিংসতায় উসকানি দিতে পারে—এমন বক্তব্যের মানদণ্ড পূরণ করে’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সিএআইআরের জরিপে দেখা গেছে, মুসলিমবিরোধী মনোভাব এবারের নির্বাচনে মুসলিম ভোটারদের অংশগ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ৭০ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, ইসলামবিদ্বেষ তাঁদের ভোট দিতে উৎসাহিত করেছে। আইএসপিইউর ২০২৫ সালের গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিদ্বেষী মনোভাব বৃদ্ধির চিত্র উঠে এসেছে। ন্যাশনাল আমেরিকান ইসলামোফোবিয়া ইনডেক্স অনুযায়ী, শূন্য থেকে ১০০-এর মাপকাঠিতে ইসলামবিদ্বেষের সূচক ২০২২ সালে ২৫ ছিল, যা ২০২৫ সালে বেড়ে ৩৩ হয়েছে। শ্বেতাঙ্গ ইভানজেলিক্যাল খ্রিষ্টানদের মধ্যে এ সূচক সবচেয়ে বেশি—১৫ পয়েন্ট বেড়েছে। ক্যাথলিকদের মধ্যে বেড়েছে ১২ পয়েন্ট এবং ইহুদিদের মধ্যে ১১ পয়েন্ট। তবে এসব ঘটনা মুসলিমদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ থামাতে পারেনি। ট্রাম্পের ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশনের ধর্মীয় নেতাদের উপদেষ্টা বোর্ডের একমাত্র মুসলিম নারী সদস্য সামিরা মুনশি গত মার্চে প্রতিবাদ জানিয়ে পদত্যাগ করেন। মিডল ইস্ট আইকে তিনি বলেন, ‘আমি মূলত জেনারেশন জি বা জেন–জি প্রজন্মের মানুষ। তাই নাইন/ইলেভেন হামলার পরের পরিস্থিতি এবং তখন কী ঘটেছিল, তা পুরোপুরি বোঝার মতো বয়স আমার হয়নি। আমার মনে হয়, আমাদের এই প্রজন্ম নাইন/ইলেভেনের ঘটনা মাথায় রেখে বড় হলেও তখনকার প্রাপ্তবয়স্ক বা ভোটার মুসলিমদের মতো হতাশা অনুভব করেন না। আর এ কারণেই হয়তো আমাদের প্রজন্ম রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে আরও বেশি আগ্রহী হয়েছে।’ সামিরা মুনশি আরও বলেন, গত তিন বছরে মূলধারার বিনোদন ও সাংস্কৃতিক পরিসরে ইসরায়েলপন্থী ও ফিলিস্তিনবিরোধী বক্তব্য এবং আইনকে যেভাবে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে, তা মুসলিম মার্কিনদের আরও দৃঢ় অবস্থান নিতে উৎসাহিত করেছে। সিএআইআরের জরিপে দেখা গেছে, ৭৬ শতাংশ মুসলিম ভোটার গাজা ও ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকারকে তাঁদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ৮০ শতাংশ ভোটার বলেছেন, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান তাঁদের ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে কথা বলায় ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশনের প্যানেল থেকে সামিরা মুনশির এক ক্যাথলিক সহকর্মী ক্যারি প্রেজিন-বোলাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। টেক্সাসের লেফটেন্যান্ট গভর্নর ও ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশনের চেয়ারম্যান ড্যান প্যাট্রিক তাঁকে প্যানেল থেকে বাদ দেন। এর প্রতিবাদে পদত্যাগ করেন মুনশি। এবারের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির নারী প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছেন প্যাট্রিক। প্রায় তিন দশকের মধ্যে প্রথম কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী টেক্সাসের লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে জয়ী হয়েছেন। একই সঙ্গে ওই পদে প্রথম নারী দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। ধর্মীয় পরিচয়ের পাশাপাশি অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানও গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে মুসলিম ভোটাররা ইসলামবিদ্বেষ ও ফিলিস্তিন ইস্যুকে গুরুত্ব দিলেও তাঁদের অধিকাংশের কাছে দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আইএসপিইউর জরিপে এ চিত্র উঠে এসেছে। মুসলিম পরিচয় দেওয়া প্রার্থীরাও তাঁদের ধর্মীয় বিশ্বাসকে পরিচয়ের একটি অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন; তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান কেবল ধর্মীয় পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচিত জোহরান মামদানি মূলত ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থান থেকে প্রচার চালিয়েছিলেন। তবে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসের কথাও সামনে এনেছেন। অন্যদিকে আবদুলরহমান আল-সাইয়েদ বলেছেন, তিনি ধর্মপ্রাণ এবং নিজের ধর্মের প্রতি অঙ্গীকারের কারণেই নিজেকে নির্বাচনে লড়ার যোগ্য মনে করেছেন। মুসলিম প্রার্থীদের সবাই ডেমোক্র্যাট বা প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। অ্যারিজোনার প্রতিনিধি পরিষদ থেকে পুনর্নির্বাচিত আবি হামাদেহ একজন রিপাবলিকান। তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থনও পেয়েছেন। অন্যদিকে নিজেকে মুসলিম প্রগতিশীল হিসেবে পরিচয় দেওয়া জুনাইদ আহমেদ গত মার্চে ইলিনয়ের অষ্টম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাইমারিতে পরাজিত হন। তিনি বলেন, ‘আশা করি, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের কাজের মধ্য দিয়ে মার্কিন জনগণ বুঝতে পারবেন, আমরা যখন “আমেরিকা ফার্স্ট” বলি, তখন সেই নীতির প্রতিফলন যেন নীতিনির্ধারণেও দেখা যায়।’ জর্জিয়া মুসলিম ভোটার প্রকল্পের উরুজ আলির মতে, মার্কিন মুসলিম পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত কোনো নির্দিষ্ট ‘এজেন্ডা’ নেই। বরং সম্প্রদায়ের মানুষের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়াই তাঁদের মূল লক্ষ্য। তাঁর ভাষায়, ‘এর মূল কথা হলো, আমরা যেন যেমন পৃথিবী পেয়েছি, তার চেয়ে আরও ভালো একটি পৃথিবী রেখে যেতে পারি।’ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে মুসলিম প্রার্থীদের এবারের সাফল্য তাই শুধু নির্বাচিত প্রতিনিধির সংখ্যা বৃদ্ধির ঘটনা নয়; বরং ভোটার নিবন্ধন, রাজনৈতিক সচেতনতা, নীতিনির্ভর অবস্থান এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণেরও প্রতিফলন।