প্রকাশ :: ... | ... | ...

যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কে ‘গর্বিত’ ট্রাম্প, বললেন শির সঙ্গে চমৎকার বৈঠক


সংযুক্ত ছবি

হোয়াইট হাউসে শি জিনপিংকে জমকালো সংবর্ধনা; বাণিজ্য, এআই ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ১ লাখ মার্কিন তরুণকে চীন সফরের আমন্ত্রণ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে ‘গর্বিত’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে শিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বাগত জানানোর পর দুই নেতার বৈঠককে ‘চমৎকার’ বলে বর্ণনা করেন তিনি। বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), প্রযুক্তি ও নিরাপত্তাসহ দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বৈঠকে আলোচনায় আসে। শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে ছিল ব্যাপক আনুষ্ঠানিকতা। লালগালিচা, সামরিক ব্যান্ড, দুই দেশের পতাকা, সামরিক কুচকাওয়াজ ও বিমান মহড়ার মধ্য দিয়ে চীনা প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানানো হয়। এক দশকেরও বেশি সময় পর শির এই হোয়াইট হাউস সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে ২০১৫ সালে শি ওয়াশিংটন সফর করেছিলেন। স্বাগত অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ২০১৬ সালে তাঁর প্রথম নির্বাচনের সময় থেকেই শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। তিনি দুই নেতার সম্পর্ককে ‘সত্যিই চমৎকার বন্ধুত্ব’ হিসেবে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, দুই দেশের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে তাঁদের দলগুলো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক নিয়ে তিনি গর্বিত। ট্রাম্প বলেন, দুই দেশ বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করার বিষয়ে কাজ করছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আলোচনার কথাও জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, এসব ক্ষেত্রে এখন যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা আগামী কয়েক দশকের শান্তি ও সমৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলতে পারে। পরে ওভাল অফিসে দুই নেতা বৈঠকে বসেন। বৈঠকের বিস্তারিত সবকিছু প্রকাশ করা হয়নি। তবে সফরের আগে থেকেই বাণিজ্য, এআই ও প্রযুক্তি, নিরাপত্তা এবং দুই দেশের মধ্যকার সামগ্রিক সম্পর্ক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে আসছিল। অন্যদিকে, শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন ভিন্ন দেশ হলেও তাদের স্বার্থ গভীরভাবে পরস্পরনির্ভর। নিয়মিত ও গভীর সংলাপের মাধ্যমে দুই দেশ পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আস্থা বাড়াতে পারে। শি বলেন, দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ অনেক। বিশ্বের সব সমস্যার সমাধান হয়তো যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সহযোগিতায় সম্ভব হবে না, তবে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ না করলে বিশ্বের অনেক সমস্যার সমাধান কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ এবং সংকট মোকাবিলায় যোগাযোগের ব্যবস্থা জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেন। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে দেশটির জনগণকে অভিনন্দন জানান শি। তিনি বলেন, দুই দেশের প্রেসিডেন্ট পরস্পরকে সম্মান করেন এবং যোগাযোগ বজায় রাখেন। তাঁর বক্তব্যে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো ধরে রাখার বার্তাও স্পষ্ট ছিল। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শিক্ষা ও জনগণের পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ানোর একটি উদ্যোগের কথাও জানান শি। আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষা বিনিময় কর্মসূচির আওতায় এক লাখ তরুণ মার্কিনিকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানানোর কথা বলেন তিনি। তাঁর মতে, দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ এবং তরুণ প্রজন্মের ওপরও নির্ভরশীল। তবে জাঁকজমকপূর্ণ রাষ্ট্রীয় আয়োজনের আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্যগুলো এখনো রয়েছে। বাণিজ্য ও শুল্কনীতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সেই উত্তেজনা কমাতে একটি বাণিজ্যবিরতি বজায় রাখার চেষ্টা চলছে। বুধবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট দুই দেশের বাণিজ্যবিরতি জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে অগ্রগতির কথা জানান। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতা—দুই ধারাই রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়েই এআই প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব ধরে রাখতে চাইছে। শি বলেছেন, দুই দেশ এ ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা থেকে পিছিয়ে না গিয়ে পাশাপাশি এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র উন্নত প্রযুক্তি ও এআই চিপের ক্ষেত্রে চীনের ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ বজায় রেখেছে। তাই হোয়াইট হাউসের আনুষ্ঠানিকতায় দুই নেতার উষ্ণ বার্তা এবং বৈঠককে ‘চমৎকার’ বলার পরও যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা, তাইওয়ান ও আঞ্চলিক ভূরাজনীতির মতো জটিল বিষয়গুলো কীভাবে সামলানো হয়। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণগুলোতেও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমিয়ে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা এবং একই সঙ্গে কৌশলগত প্রতিযোগিতা অব্যাহত থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে। অর্থাৎ, ওয়াশিংটনে শির রাষ্ট্রীয় সফরে দুই নেতার বক্তব্যে সহযোগিতা ও পারস্পরিক সম্পর্কের ইতিবাচক বার্তা থাকলেও দুই দেশের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার জায়গাগুলো অক্ষত রয়েছে। ফলে এই সফরের তাৎপর্য শুধু জমকালো সংবর্ধনা বা নেতাদের উষ্ণ বক্তব্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং প্রতিযোগিতার মধ্যেও যোগাযোগ ও সহযোগিতার নতুন কাঠামো কতটা কার্যকর হয়, সেটিই সামনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।