যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি ও ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহারের চুক্তি সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননে হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েল। বিমান হামলা, গুলিবর্ষণ ও বিস্ফোরণে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩২১ জনে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত থেকে শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। টাইর জেলার আল-মানসুরি শহরের কাছে একটি ড্রোন থেকে স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। একই রাতে বিয়্যাদা এলাকা থেকে বুয়ুত আল-সাইয়্যাদ অভিমুখে মেশিনগান থেকে গুলি চালানো হয়। লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, খিয়াম শহরের আশপাশে সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রেখে ইসরায়েলি ট্যাংক ও সামরিক যান বিরকেত আল-হাম্মাম এলাকার দিকে অগ্রসর হয়। মারজাইউন জেলার কান্তারা এলাকায় কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং বেইত ইয়াহুন এলাকা থেকে বিন্ত জবেইল জেলার ব্রায়াশিত শহরের আবাসিক এলাকায় গুলি চালানো হলে কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৩২১ জন নিহত এবং ১২ হাজার ২০৪ জন আহত হয়েছেন। এনএনএ আরও জানিয়েছে, খিয়াম শহরে রাতভর একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটিয়ে স্থাপনা ধ্বংসের অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। স্থানীয়দের অভিযোগ, গাজার মতো দক্ষিণ লেবাননেও পরিকল্পিতভাবে ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ধ্বংস করে এলাকাকে বসবাসের অনুপযোগী করে তোলার চেষ্টা করছে ইসরায়েল। এদিকে নাবাতিয়েহ জেলার শুকিন ও কাফর দাজ্জাল এলাকার উপকণ্ঠে একটি পিকআপ ভ্যানে ড্রোন হামলায় দুজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় সকাল ৬টার দিকে আবর্জনা নামানোর সময় ওই হামলার ঘটনা ঘটে। উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে একটি কাঠামোগত চুক্তি স্বাক্ষর হলেও তার মধ্যেই নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। শু/আজা