ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে রাজি না হলে দেশটির সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোকেও হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে এবং এই অভিযান তার নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, “বর্তমানে আমরা তাদের খুব, খুব কঠিনভাবে আঘাত করছি। সাগরতীরে এবং সাগরে তাদের যত সামরিক স্থাপনা আছে, প্রতিটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। আমি যতক্ষণ পর্যন্ত না থামাব, ততক্ষণ পর্যন্ত এটা চলতেই থাকবে।” ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার পরিকল্পনা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “শেষ পর্যন্ত হয়তো আমাদের তা করতে হবে। আমি ভেবেছিলাম, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে সবার শেষে হামলা করা হবে।” তিনি আরও বলেন, “আজ রাতে আমরা তাদের খুব কঠিন আঘাত করতে যাচ্ছি। আগামীকাল এবং তার পরের দিনও তা অব্যাহত থাকবে। এরপর আগামী সপ্তাহটি তাদের জন্য খুব খারাপ হবে। কারণ তখন বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে সামনে আসবে। তারা যদি আলোচনার টেবিলে না আসে, তাহলে আমরা তাদের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সব সেতুতে আঘাত করব।” ট্রাম্প দাবি করেন, শান্তিচুক্তি করা ছাড়া ইরানের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, “ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমাদের প্রতিনিধিদের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। তারা চুক্তি করতে চায়, কারণ তারা বুঝতে পারছে—চুক্তি না হলে তাদের কেউই আর অবশিষ্ট থাকবে না।” প্রসঙ্গত, হরমুজ প্রণালি নিয়ে মতবিরোধকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে টোল আদায়ের ঘোষণা দিলে এর বিরোধিতা করে যুক্তরাষ্ট্র। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ জুলাই হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-কে দায়ী করে। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ ও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। একই সময়ে ইরানও ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা আর ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির অংশ নয়। শু/আজা