প্রকাশ :: ... | ... | ...

সরকারি ছুটি সবচেয়ে বেশি নেপালে, বাংলাদেশ কততম


সংযুক্ত ছবি

ধর্মীয় উৎসব, জাতীয় দিবস ও সাংস্কৃতিক আয়োজন উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরকারি ছুটি দেওয়া হয়। তবে দেশভেদে ছুটির সংখ্যা ও ধরনে রয়েছে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য। ভৌগোলিক অবস্থান, ধর্মীয় বৈচিত্র্য ও ঐতিহ্যের প্রভাবও দেখা যায় ছুটির তালিকায়। ‘স্টারসইনসাইডার’ প্রকাশিত এক তালিকা অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি সরকারি ছুটি দেওয়া ১০ দেশের মধ্যে এশিয়ার দেশগুলোর আধিপত্য রয়েছে। তালিকায় ২২ দিন ছুটি নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। ১০. ম্যাকাও: ২০ দিন ম্যাকাওয়ে বছরে ২০ দিন সরকারি ছুটি থাকে বলে তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। চীনা ও পর্তুগিজ সংস্কৃতির ঐতিহাসিক প্রভাব দেশটির ছুটির তালিকাতেও প্রতিফলিত হয়েছে। ৯. চিলি: ২০ দিন দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলিতে বছরে ২০ দিন সরকারি ছুটি রয়েছে। ক্যাথলিক ধর্মীয় দিবস, আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কিত দিবসগুলো ছুটির তালিকায় স্থান পেয়েছে। ৮. লিখটেনস্টাইন: ২০ দিন ইউরোপের ক্ষুদ্র রাষ্ট্র লিখটেনস্টাইনে বছরে ২০ দিন সরকারি ছুটি থাকে। দেশটির জাতীয় দিবসের পাশাপাশি অ্যাসাম্পশন ও অল সেন্টস ডের মতো খ্রিষ্টান ধর্মীয় উৎসবেও ছুটি দেওয়া হয়। ৭. ভারত: ২১ দিন তালিকা অনুযায়ী, ভারতে বছরে ২১ দিন সরকারি ছুটি রয়েছে। দেশটির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের কারণে বিভিন্ন উৎসব ছুটির তালিকায় স্থান পেয়েছে। তবে ভারতের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের ছুটির তালিকায় পার্থক্য রয়েছে। রাজ্যভেদে সরকারি ছুটির সংখ্যা ও ধরনও বদলে যায়। ৬. কম্বোডিয়া: ২১ দিন কম্বোডিয়ায় বছরে ২১ দিন সরকারি ছুটি রয়েছে বলে তালিকায় বলা হয়েছে। খেমার নববর্ষ, পূর্বপুরুষদের স্মরণে পালিত ‘পচুম বেন’ এবং ঐতিহ্যবাহী পানি উৎসব ‘বন ওম তুক’ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ উৎসবগুলোর মধ্যে রয়েছে। ৫. বাংলাদেশ: ২২ দিন সরকারি ছুটির সংখ্যার তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। তালিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশে বছরে ২২ দিন সরকারি ছুটি থাকে। জাতীয় দিবসের পাশাপাশি ঈদ, দুর্গাপূজা, বুদ্ধপূর্ণিমা, বড়দিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উপলক্ষে ছুটি দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিশেষ পরিস্থিতিতে সরকার নির্বাহী আদেশে অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করতে পারে। ফলে বছরভেদে মোট ছুটির সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। ৪. শ্রীলঙ্কা: ২৫ দিন শ্রীলঙ্কায় বছরে ২৫ দিন সরকারি ছুটি রয়েছে বলে তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। দেশটিতে বৌদ্ধধর্মীয় পূর্ণিমার দিন ‘পয়া ডে’ উপলক্ষে নিয়মিত ছুটি থাকে। এ ছাড়া সিংহলি ও তামিল নববর্ষ, বুদ্ধের জন্ম ও জীবনসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ উৎসব ভেসাক এবং বিভিন্ন ধর্মীয় দিবসেও ছুটি দেওয়া হয়। ৩. মিয়ানমার: ২৫ দিন মিয়ানমারেও বছরে ২৫ দিন সরকারি ছুটি রয়েছে। দেশটির ছুটির তালিকায় বৌদ্ধধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি চন্দ্রপঞ্জিকাভিত্তিক বিভিন্ন দিবস অন্তর্ভুক্ত। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও ঐতিহ্যবাহী উৎসব দেশটির ছুটির দিনের সংখ্যা বাড়িয়েছে। ২. ইরান: ২৬ দিন তালিকায় ২৬ দিন সরকারি ছুটি নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইরান। দেশটিতে পারস্যের নববর্ষ নওরোজ অন্যতম প্রধান উৎসব। পাশাপাশি আশুরা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার মতো ধর্মীয় দিবসেও সরকারি ছুটি থাকে। ১. নেপাল: ৩৫ দিন তালিকার শীর্ষে রয়েছে নেপাল। দেশটিতে বছরে ৩৫ দিন সরকারি ছুটি থাকে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দশাইন ও তিহারের মতো বড় হিন্দু উৎসব ছাড়াও বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক দিবসে ছুটি দেওয়া হয়। দেশটির বহুধর্মীয় ও বহুসাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ছুটির তালিকায় প্রতিফলিত হয়েছে। সরকারি ছুটির সংখ্যার এই তুলনায় এশিয়ার দেশগুলোর উপস্থিতি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। তবে বিভিন্ন দেশে ছুটি গণনার পদ্ধতি এক নয়। কোথাও জাতীয় ও ধর্মীয় ছুটির পাশাপাশি আঞ্চলিক ছুটিও বিবেচনায় নেওয়া হয়, আবার কোথাও শুধু নির্দিষ্ট শ্রেণির সরকারি ছুটি গণনা করা হয়। তাই তালিকার অবস্থান ও সংখ্যাকে দেশগুলোর ছুটির একটি তুলনামূলক চিত্র হিসেবে দেখা উচিত।