ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ইসরায়েলকে যুক্ত করতে চান ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এ লক্ষ্যে সৌদি আরবের অনুমতিও চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় নেয়া এ উদ্যোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। সৌদি আরবে জনরোষ তৈরি হওয়ার আশঙ্কায় সৌদি যুবরাজ ইয়েমেনে হুতিবিরোধী যুদ্ধে সরাসরি ইসরায়েলের অংশগ্রহণে আপত্তি জানান বলে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ। ইসরায়েলি এই সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল দুটি। প্রথমত, লোহিত সাগর এলাকায় হুতিবিরোধী সামরিক অভিযানে ইসরায়েলের অংশগ্রহণের বিষয়ে সৌদি আরবের সমর্থন আদায়। দ্বিতীয়ত ইসরায়েল ও সৌদি আরবের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা আরও এগিয়ে নেয়া। আব্রাহাম চুক্তির কাঠামোর আওতায় অতীতে এই দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল এবং এই উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম সমর্থনও দিয়েছিলেন। ২০২৩ সালের শেষ দিকে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও সৌদি আরব তার অবস্থানে অনড় রয়েছে। দেশটির শর্ত, আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হলে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হতে হবে।হারেৎজ বলছে, ইয়েমেনে সংঘাত আরও তীব্র হওয়া এবং লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর হুমকি বাড়ার মধ্যেই দেশটিতে যুদ্ধে সরাসরি ইসরায়েলের অংশগ্রহণের এই কূটনৈতিক উদ্যোগ নেয়া হয়। গত সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল বরাবর অগ্রসর হয়ে হুতি বাহিনী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা এবং লোহিত সাগরের কয়েকটি দ্বীপ দখল করে। এর ফলে বাব আল-মান্দেব প্রণালির ইয়েমেন অংশের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে চলে যায়। গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথ দিয়ে বিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ পরিবহন করা হয়। এরপর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে থাকা সৌদি-সমর্থিত বাহিনী পাল্টা অভিযান শুরু করে। তীব্র লড়াইয়ের মধ্যেই তারা মোখা পুনর্দখল করে। এদিকে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে সম্প্রতি হামলা আরও জোরদার করেছে হুতিরা। এর মধ্যে রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একাধিকবার হামলার ঘটনাও রয়েছে।