বিশ্বকাপের পর থেকেই গুঞ্জন ছিল, আন্তর্জাতিক ফুটবলকে হয়তো বিদায় জানাতে যাচ্ছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তবে তখনই অবসরের পথে হাঁটেননি পর্তুগিজ মহাতারকা। বরং জাতীয় দলের হয়ে আরও খেলে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। নতুন কোচ হোর্হে জেসুসও তাঁকে ঘিরেই পর্তুগালের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাজানোর কথা বলেছিলেন। এমনকি তাঁর নেতৃত্বেই উয়েফা নেশন্স লিগের নতুন অভিযান শুরু করে পর্তুগাল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলেছে পরিস্থিতি। জাতীয় দলের ক্যাম্পে কোচের সঙ্গে মতবিরোধ, সাময়িক নিষেধাজ্ঞা এবং বয়সের বাস্তবতা—সব মিলিয়ে রোনালদোর আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছিল নানা প্রশ্ন। শেষ পর্যন্ত সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন পর্তুগালের এই মহাতারকা। এর মধ্য দিয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে রেকর্ডগড়া ২৩ বছরের ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান রোনালদো। পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোল এবং সর্বাধিক ম্যাচ খেলার রেকর্ড তাঁর দখলে। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে পর্তুগালের আক্রমণভাগের প্রধান ভরসা ছিলেন তিনি। ২০০৩ সালে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেকের পর ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল করেছেন রোনালদো। অধিনায়ক হিসেবে পর্তুগালকে জিতিয়েছেন দুটি বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা। তাঁর নেতৃত্বেই ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতে পর্তুগাল। এরপর ২০১৯ সালে উয়েফা নেশন্স লিগের প্রথম আসরেও চ্যাম্পিয়ন হয় দলটি। পর্তুগালের হয়ে পাঁচটি বিশ্বকাপ ও ছয়টি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে খেলেছেন এই ফরোয়ার্ড। ব্যক্তিগত অর্জন, গোলের রেকর্ড আর দলীয় সাফল্যে দেশের ফুটবল ইতিহাসে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি। বিশ্বকাপ থেকে পর্তুগালের বিদায়ের পরই রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছিল। পরে নিজেও জানিয়েছিলেন, জাতীয় দল থেকে অবসরের কথা ভেবেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বদলে খেলা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। নতুন কোচ হোর্হে জেসুসও তাঁকে নিয়েই দল সাজানোর আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। তবে নেশন্স লিগ চলাকালে কোচের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন করে আলোচনায় আসে। সেপ্টেম্বরে নরওয়ের বিপক্ষে জয়ের ম্যাচে তাঁকে বেঞ্চে রাখার পর কোচের সঙ্গে প্রকাশ্য মতবিরোধে জড়ান রোনালদো। এর আগে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার ঘটনাও আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। সব মিলিয়ে পর্তুগাল দলে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছিল অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। এদিকে রোনালদোর দীর্ঘদিনের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসিও আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর ঘোষণা দিয়েছেন এবং আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলেছেন—এমন পরিস্থিতিতে রোনালদোর সিদ্ধান্ত ঘিরেও আগ্রহ তৈরি হয়েছিল ফুটবলবিশ্বে। রোনালদোর বিদায়ের মধ্য দিয়ে পর্তুগাল হারাচ্ছে তাদের দীর্ঘদিনের অধিনায়ক, সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সবচেয়ে বড় তারকাকে। তাঁর শূন্যতা পূরণ করা সহজ হবে না। এখন নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের নিয়ে এগিয়ে যাওয়াই পর্তুগালের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে দেশের ফুটবলে রোনালদোর অবদান ও রেকর্ড তাঁকে দীর্ঘদিন স্মরণীয় করে রাখবে।