বাংলাদেশের বিপক্ষে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের চতুর্থ দিনে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য নির্ধারণ না করে লিড বাড়িয়ে নেওয়ার দিকেই আপাতত মনোযোগ দিচ্ছে ক্যারিবীয়রা। এমনটাই জানিয়েছেন দলের ব্যাটার কাভেম হজ। অপরাজিত সেঞ্চুরি করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চালকের আসনে বসানো হজের মতে, উইকেট এখনো ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো। পঞ্চম দিনে কত দূর এগোতে হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবে দল। দিনের খেলা শেষে হজ বলেন, “উইকেট বেশ ভালো। আগামীকাল আমরা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে দেখব, এই উইকেটে কোন স্কোরটি ভালো হবে, কত রান করা উচিত এবং কী গতিতে ব্যাটিং করা দরকার। তবে আপাতত আমরা শুধু লিড বাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।” চতুর্থ দিনের খেলা শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৩৪৫ রান। এতে তাদের মোট লিড দাঁড়িয়েছে ৩১৫ রান। অপরাজিত ১৪০ রান করা হজ বলেন, “ঢাকায় প্রথম ম্যাচে আমি প্রত্যাশিত ফল পাইনি। দলের জন্য অবদান রাখতে পারা সব সময়ই ভালো লাগার বিষয়। ম্যাচ যখন সমানে সমান অবস্থায় ছিল, তখন দলের জন্য রান করতে পেরে সত্যিই ভালো লেগেছে।” বাংলাদেশের হয়ে তাওহিদ হৃদয়ের অপরাজিত ২৪২ রানের অসাধারণ ইনিংস ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটারদেরও অনুপ্রাণিত করেছে বলে জানান হজ। তাঁর মতে, ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে তাঁরাও এমন ইনিংস খেলতে পারেন, সেই বিশ্বাস তৈরি হয়েছিল। হজ বলেন, “যাঁরা ওই ইনিংসটি দেখার সুযোগ পেয়েছেন, তাঁরা প্রতিপক্ষ যে-ই হোক না কেন, এমন ইনিংসের দক্ষতা ও শক্তির প্রশংসা করবেন। এটি প্রমাণ করেছে যে উইকেটটি সত্যিই ভালো। ভাবনাটা এমন ছিল, সে যদি পারে, তাহলে আমরা কেন পারব না? শেষ পর্যন্ত ঠিক সেটিই হয়েছে।” ওয়েস্ট ইন্ডিজ ড্রয়ের লক্ষ্যে ব্যাটিং করছে, এমন ধারণাও নাকচ করে দেন হজ। তাঁর ভাষ্য, দুই দলই নিজেদের জন্য সবচেয়ে ভালো অবস্থান নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। শেষ দিনের খেলা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্পিন বোলিংকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন হজ। একই সঙ্গে স্বীকার করেন, বাংলাদেশের স্পিনাররা ইতোমধ্যে উইকেট থেকে টার্ন আদায় করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, স্পিনই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বাংলাদেশের কয়েকজন বোলার টার্ন পেয়েছেন এবং ম্যাচে কিছু সময় রান আটকে রাখতে পেরেছেন। তবে বিষয়টি নির্ভর করবে মানসিকতা ও অন্য ব্যাটাররা কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন, তার ওপর। আগামীকাল পেসার, স্পিনার সবারই নিজ নিজ ভূমিকা পালনের সুযোগ থাকবে।”