প্রকাশ :: ... | ... | ...

প্রতীক্ষার প্রহর শেষে বিশ্বকাপে ডিআর কঙ্গোর নতুন ভোর


সংযুক্ত ছবি

খেলার একটি মুহূর্ত। ছবি: এপি

অপেক্ষার প্রহর কখনও কখনও অর্ধশতকও পেরিয়ে যায়। কিন্তু ইতিহাস যখন ফিরে আসে, তখন সে আসে নতুন পরিচয় আর নতুন গৌরবের গল্প নিয়ে। জাইর নামের স্মৃতি পেছনে ফেলে ৫২ বছর পর বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ফেরা ডিআর কঙ্গো লিখল নতুন ইতিহাস। বাঁচা-মরার ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের টিকিট, চমকে দিল পুরো ফুটবল বিশ্বকে। সমীকরণটা খুব সহজ ছিল ডিআর কঙ্গোর জন্য। হয় বিদায়, না হয় বিজয়। ঠিক যেমন, তাদের বিশ্বকাপের টিকিট পেতেও করতে হয়েছিল। মহাদেশীয় প্লে অফ ম্যাচে জ্যামাইকার বিপক্ষে জিতে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয় লেপার্ডসরা। এবারও গৌরবের মুকুট জিততে কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে তাদের। নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে পর্তুগালের সাথে ১-১ গোলে ড্র এবং কলম্বিয়ার কাছে ১-০ ব্যবধানের লড়াকু হারে মাত্র এক পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তলানিতে ছিল কঙ্গো। রোববার শেষ ম্যাচে কেবল জিতলেই লড়াইয়ে টিকে থাকতে পারবে। নয়তো বাপি বাড়ি যা! সেই লড়াইয়ে শুরুতে পিছিয়ে পড়া। গোল শোধ করে লড়াইয়ে ফেরা। অফসাইডে আবার গোল বাতিল হয়ে যাওয়া প্রথমার্ধেই কতো নাটক, রোমাঞ্চ। হৃদয় ভাঙা আবার জোড়া লাগার উপাখ্যান। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে তাদের থেকে ৪৫ মিনিটের লড়াইটা কেড়ে নিতে পারল না উজবেকিস্তান। নিজেদের শেষ ঘামবিন্দু ঝরিয়ে ডিআর কঙ্গো প্রমাণ করেই ছাড়ল, লম্বা বিরতি দিয়ে বিশ্বকাপে শুধু অংশগ্রহণের জন্যই তারা আসেননি। বরং ফুটবলকে হৃদয়ে ধারণ করেই তাদের পথচলা। কে-গ্রুপের তৃতীয় দল হিসেবে ৪ পয়েন্ট নিয়ে আফ্রিকার দেশটি প্রথমবারের মতো দ্বিতীয় পর্বে চলে গেল। এই গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে কলম্বিয়া এবং রানার্সআপ হয়ে পর্তুগাল গেল রাউন্ড অব ৩২-এ। আগামী বুধবার আটালান্টা স্টেডিয়ামে ডিআর কঙ্গোর প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। মাঠে কঙ্গোর ১১ জন ফুটবলার খেলেছে, কিন্তু তাদের ঢাল হয়ে ছিল ১০ কোটি কঙ্গোর জনগন। ম্যাচের আগে দেশটির প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স শিসেকেদি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লিখেন, ‘আজকের এই লড়াই শুধু কোনো ফুটবল ম্যাচ নয়। এটি আমাদের জাতীয় ঐক্যের এক পরম মুহূর্ত। এমন এক মাহেন্দ্রক্ষণ যেখানে পুরো দেশের মানুষ একই অভিমুখে তাকাবে, বুকে থাকবে দেশের প্রতি একই আবেগ, একই আশা আর জাতীয় পতাকার প্রতি গভীর ভালোবাসা।’ সেই ভালোবাসাই যেন আটালান্টার সবুজ ক্যানভাসে এঁকে দিয়েছেন ইওয়ান উইসা। জোড়া গোল করে ম্যাচের নায়ক হয়েছেন তিনি। ৬৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে লক্ষ্যভেদ করার পর ম্যাচ শেষে যোগ করা সময়ে উজবেকিস্তানের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন ইওয়ান। মাঝে নিখুঁত হেডে ফিস্টন মায়েলে খুঁজে নেন জাল।