প্রকাশ :: ... | ... | ...

এএফসি উইমেন’স চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দ্বিতীয় রাউন্ডে চোখ রাজশাহী স্টার্সের


সংযুক্ত ছবি

প্রথমবারের মতো এএফসি উইমেন’স চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মঞ্চে পা রাখতে যাচ্ছে বাংলাদেশের রাজশাহী স্টার্স। শুধু অংশগ্রহণ নয়, প্রতিটি ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল উপহার দিয়ে পরের রাউন্ডে ওঠার লক্ষ্য নিয়েই মালয়েশিয়ায় যাচ্ছে দলটি। সোমবার ভারতের ইস্ট বেঙ্গলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে প্রিলিমিনারি রাউন্ড শুরু করবে রাজশাহী স্টার্স। ‘এ’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ গুয়ামের রোভার্স এফসি এবং স্বাগতিক মালয়েশিয়ার সাবাহ এফসি। ২০ ও ২৩ আগস্ট প্রতিপক্ষ যথাক্রমে মালয়েশিয়ার সাবাহ এফএ ও গুয়ামের রোভার্স। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে উগান্ডা (২) ও ঘানা (১) জাতীয় দলের ফুটবলার আছেন তিনজন, এবং মালয়েশিয়ান ক্লাবে খেলেন একজন করে কোরিয়ান ও জাপানি ফুটবলার। গুয়ামের ক্লাবে খেলছেন যুক্তরাষ্ট্র (৪), কলম্বিয়া, ইয়েমেন, ইরান ও কিউবার আট ফুটবলার। দলের প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্ট কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন ও অধিনায়ক শিউলি আজিম। তবে আক্রমণভাগে জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ ফরোয়ার্ড ঋতুপর্ণা চাকমাকে না পাওয়ায় কিছুটা ঘাটতি অনুভব করছে দলটি। গত জুনে রাজশাহী স্টার্স ছেড়ে ঋতুপর্ণা মিয়ানমারের ক্লাবে যোগ দিয়েছেন। তবু নিজেদের সামর্থ্য নিয়ে আত্মবিশ্বাসী শিউলি। তাঁর মতে, এশিয়ার অন্যতম বড় ক্লাব প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ বাংলাদেশের নারী ফুটবলারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে, আমাদের চেষ্টা থাকবে সর্বোচ্চটা দেওয়ার এবং ভালো করার।’ শুধু চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নয়, সামনে থাকা এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও এই টুর্নামেন্টকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন শিউলি। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ম্যাচগুলো খেললে নিজেদের ভুলত্রুটি চিহ্নিত করার পাশাপাশি বড় দলের বিপক্ষে নিজেদের অবস্থানও বোঝা যাবে। কোচ ছোটনের আত্মবিশ্বাসের মূল কারণ দলের খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা। রাজশাহী স্টার্সের অনেক ফুটবলারই দুইবারের সাফ চ্যাম্পিয়ন এবং জাতীয় দলের হয়ে এশিয়ার বড় দলগুলোর বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। দলে নেপালের ফুটবলার বিমলা বিকেও রয়েছেন। গত ৮ আগস্ট থেকে অনুশীলন করছে রাজশাহী স্টার্স। ছোটনের লক্ষ্য তাই পরিষ্কার—প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা তুলে ধরা, আমরা আশা করি, এই টুর্নামেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা উপহার দিতে পারব। গ্রুপের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ইস্ট বেঙ্গলকেই দেখছেন ছোটন। প্রথম ম্যাচেই তাদের মুখোমুখি হওয়ায় শুরুটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারতের জাতীয় দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক লড়াইয়ের অভিজ্ঞতাও আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে কোচকে। তাঁর মতে, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে নিজেদের উন্নতি করেছে। রাজশাহী স্টার্সের দলে নেওয়া হয়েছে সর্বশেষ লিগে ভালো করা খেলোয়াড়দের পাশাপাশি ফরাশগঞ্জ ও পুলিশ এফসির সেরা পারফরমারদের। ফলে দলটি কাগজে-কলমেও বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। আরেকটি বড় আত্মবিশ্বাসের জায়গা হলো মালয়েশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক জয়। এশিয়ান কাপে চীন ও উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতাও দলের অনেক ফুটবলারের রয়েছে। সব মিলিয়ে রাজশাহী স্টার্সের সামনে চ্যালেঞ্জ কঠিন। কিন্তু প্রথমবারের অংশগ্রহণকে কেবল অভিজ্ঞতা অর্জনের সফর হিসেবে দেখতে রাজি নয় তারা। গ্রুপের সেরা হয়ে পরের রাউন্ডে ওঠার স্বপ্ন নিয়েই মাঠে নামবে বাংলাদেশের মেয়েরা। লক্ষ্য একটাই—এশিয়ার মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়া।