মিচেল স্টার্কের ম্যাচে ১০ উইকেট এবং প্যাট কামিন্সের ৬ ও নাথান লায়নের তিন উইকেটের সুবাদে বাংলাদেশকে ইনিংস ও ৫১ রানে হারিয়ে সিরিজ ড্র করেছে অস্ট্রেলিয়া। ম্যাকাইয়ে মাত্র দুই দিনেই শেষ হয়েছে ম্যাচটি। ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে ঐতিহাসিক জয়ের পর ম্যাকাইয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ৯৫ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ। ২১ বছর পর এই প্রথম কোনো দল টেস্টে দুই ইনিংসেই দুই অঙ্কের রানে অলআউট হলো। বল হাতে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের মূল কারিগর মিচেল স্টার্ক। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে আরও ৪টি উইকেট তুলে নেন তিনি। ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে ঘরের মাঠে টেস্টে নিজের সেরা বোলিং ফিগার অর্জন করেন স্টার্ক; ৫১ রানে ১০ উইকেট। তাকে দারুণভাবে সঙ্গ দেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়ন। দ্বিতীয় ইনিংসে কামিন্স ১০ ওভারে মাত্র ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। এর আগে প্রথম ইনিংসেও ৩ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। লায়ন ২৫ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের শেষ দুই উইকেটও তুলে নেন লায়ন; চা বিরতির পর মাত্র তিন বলের ব্যবধানে। ১৪৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ শুরুতেই চাপে পড়ে। ৫ রানের মধ্যেই সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হককে ফেরান স্টার্ক। এরপর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও নাথান লায়নের বলে লং-অফে ক্যাচ দিয়ে তার ৩১ রানের ইনিংস শেষ হয়। তানজিদ হাসান তামিমও বড় কিছু করতে পারেননি। এরপর লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদের দ্রুত বিদায়ে ৭০ রানের মধ্যেই ৭ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৯৫ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। একপ্রান্তে লড়াই চালিয়ে যাওয়া মুশফিকুর রহিম ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন। তবে তার একার প্রতিরোধ ইনিংস হার এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে আবারও উজ্জ্বল ছিলেন ক্যামেরন গ্রিন। প্রথম টেস্টে ১০৪ রানের পর মেকাইয়ে করেন ম্যাচসেরা ৬৭ রান। শরিফুল ইসলামের দুর্দান্ত ইনসুইংয়ে তাকে থামতে হয়। অস্ট্রেলিয়ার ২১০ রানের ইনিংসে গ্রিনের ৬৭ রান ছিল সর্বোচ্চ। বাংলাদেশের হয়ে শরিফুল ইসলাম ছিলেন ব্যতিক্রমী উজ্জ্বল। তিনি ৪৮ রানে ৭ উইকেট নিয়ে টেস্টে কোনো বাংলাদেশি পেসারের সেরা বোলিং ফিগার গড়েন। তবে তার দুর্দান্ত বোলিং শেষ পর্যন্ত কাজে আসেনি। অস্ট্রেলিয়ার ২১০ রানও হয়ে যায় ৮০ বছরের মধ্যে ইনিংস জয়ের ভিত্তি হিসেবে সবচেয়ে কম দলীয় সংগ্রহ। ম্যাচটি মাত্র ৭৫০ বলে শেষ হয়েছে, যা প্রায় এক শতাব্দীর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সবচেয়ে কম বলের টেস্ট। গত মৌসুমের পার্থ ও মেলবোর্নের দুই দিনের অ্যাশেজ টেস্ট এবং ২০২২-২৩ সালের গ্যাবা টেস্টের চেয়েও দ্রুত শেষ হয়েছে ম্যাকাইয়ের এই ম্যাচ। ডারউইনে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের পর মেকাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার এমন দাপুটে প্রত্যাবর্তনে দুই ম্যাচের সিরিজ এখন ১-১ সমতায়।