প্রকাশ :: ... | ... | ...

গ্যাবনকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ, শিরোপার হাতছানি


সংযুক্ত ছবি

ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ অ্যান্ড ফেস্টিভ্যালে দারুণ ছন্দে রয়েছে বাংলাদেশের কিশোর ফুটবলাররা। আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে টায়ার-ই পর্যায়ের সেমিফাইনালে আফ্রিকার দেশ গ্যাবনকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। দলের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেছেন নাঈমুর রহমান রাতুল। ফলে এই পর্যায়ের শিরোপা জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে আকবর হোসেন রিদনের শিষ্যরা। গ্যাবনের বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে বাংলাদেশ। প্রথম ১০ মিনিটে কয়েকটি আক্রমণ গড়ে তুললেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না দলটি। পাল্টা আক্রমণে সুযোগ তৈরির চেষ্টা করে গ্যাবনও। তবে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় প্রতিপক্ষের আক্রমণগুলো সফল হয়নি। ম্যাচের ১৪ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। ডানপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণ গড়ে বাংলাদেশের এক খেলোয়াড় জোরালো শট নেন। গ্যাবনের গোলরক্ষকের কাছ থেকে বল ফিরে এলে হেডে সেটিকে জালে পাঠান রাতুল। তাঁর গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। গোলের পর ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগও পেয়েছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ১৮তম মিনিটে বামপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে আসে বাংলাদেশ। গোলরক্ষক সামনে এগিয়ে এলেও বাংলাদেশের খেলোয়াড়ের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ফলে প্রথমার্ধে এক গোলের ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় দলটি। দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণে সক্রিয় ছিল বাংলাদেশ। ব্যবধান বাড়াতে একাধিক চেষ্টা চালায় কিশোর ফুটবলাররা। ৩৩ মিনিটে গোলের আরেকটি ভালো সুযোগ তৈরি হলেও তা কাজে লাগানো যায়নি। শেষ পর্যন্ত রাতুলের প্রথমার্ধের গোলটিই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। গ্যাবনকে হারিয়ে টায়ার-ই পর্যায়ের ফাইনালে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। এর আগে কোয়ার্টার ফাইনালে মন্টেনেগ্রোকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশের যুবারা। বড় ব্যবধানের সেই জয় আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় দলটির। তার আগে নকআউট পর্বে সিঙ্গাপুরকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ ষোলো পেরোয় বাংলাদেশ। শেষ ষোলোতে সিশেলসের বিপক্ষেও টাইব্রেকারে জয় পায় দলটি। ফলে নকআউট পর্বে ধারাবাহিকভাবে কঠিন বাধা পেরিয়ে ফাইনালে পৌঁছেছে বাংলাদেশের কিশোররা। টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল পর্তুগাল, ইন্দোনেশিয়া, ফিজি, বুরুন্ডি ও ওয়েলস। গ্রুপের শেষ ম্যাচে ফিজিকে ৩-১ গোলে হারায় বাংলাদেশ। ইন্দোনেশিয়া ও ওয়েলসের সঙ্গে ড্র করলেও পর্তুগাল ও বুরুন্ডির কাছে হারের মুখ দেখতে হয়েছিল দলটিকে। গ্রুপ পর্বের সেই ফল পেছনে ফেলে নকআউট পর্বে ঘুরে দাঁড়ানোই বাংলাদেশের এই সাফল্যের অন্যতম দিক। ফিফার উদ্যোগে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় ১৯১টি দেশের বয়সভিত্তিক দল অংশ নিচ্ছে। আটজন করে খেলোয়াড় নিয়ে গঠিত দলগুলোর ম্যাচ হচ্ছে ৪০ মিনিটের। প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন স্তরে দলগুলোর লড়াই হচ্ছে। ফলে টায়ার-ই পর্যায়ের ফাইনালে ওঠা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলেও এই স্তরের শিরোপা এবং টুর্নামেন্টের মূল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার বিষয়টি এক নয়। মূল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন নির্ধারিত হবে টায়ার-এ পর্যায়ের লড়াই থেকে। এখন বাংলাদেশের সামনে টায়ার-ই পর্যায়ের ফাইনাল। সেখানে জিততে পারলে এই স্তরের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করবে দলটি। আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের বয়সভিত্তিক ফুটবলারদের সামর্থ্য তুলে ধরার পাশাপাশি এটি হতে পারে তাদের জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর বড় উপলক্ষ। গ্যাবন ও মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে জয় সেই আশাই জোরালো করেছে। এবার ফাইনালে মাঠের পারফরম্যান্স ধরে রেখে শিরোপা জয়ের অপেক্ষায় বাংলাদেশের যুবারা।