বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের সামনে। ডারবানে প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার কাছে দক্ষিণ আফ্রিকার হারের পর পয়েন্টের শতকরা হারে ব্যবধান কমেছে দুই দলের। আগামী ১৮ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টেও প্রোটিয়ারা হারলে চতুর্থ স্থান থেকে তিনে উঠে আসতে পারে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। বর্তমান চক্রে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সও আশাব্যঞ্জক। ছয়টি টেস্ট খেলে তিন জয়, দুই হার ও একটি ড্রয়ে দলের পয়েন্টের শতকরা হার ৫৫ দশমিক ৫৬। অন্যদিকে, পাঁচ ম্যাচে তিন জয় ও দুই হারে দক্ষিণ আফ্রিকার পয়েন্টের হার ৬০ শতাংশ। অস্ট্রেলিয়ার কাছে প্রথম টেস্টে হারের ফলে প্রোটিয়ারা ইতিমধ্যে তৃতীয় স্থানে নেমে এসেছে। তাদের সামনে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ। দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে ১৮ অক্টোবর, গকেবেরার সেন্ট জর্জেস পার্কে। ম্যাচটি ড্র হলে দক্ষিণ আফ্রিকার পয়েন্টের শতকরা হার কমে ৫৫ দশমিক ৫৬-তে নেমে আসবে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের পয়েন্টের হার সমান হবে। তবে অস্ট্রেলিয়া জিতলে দক্ষিণ আফ্রিকার পয়েন্টের হার নেমে আসবে ৫০ শতাংশে। তখন বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে তিনে থাকার সুযোগ হারাতে পারে প্রোটিয়ারা। বাংলাদেশের সামনে খুলে যেতে পারে পয়েন্ট তালিকায় তৃতীয় স্থানে ওঠার পথ। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকা নির্ধারিত হয় মোট সম্ভাব্য পয়েন্টের বিপরীতে অর্জিত পয়েন্টের শতকরা হার দিয়ে। বর্তমান নিয়মে একটি জয়ে ১২, ড্রয়ে চার এবং টাই হলে ছয় পয়েন্ট পায় দলগুলো। ফলে ম্যাচের ফলের পাশাপাশি পয়েন্টের হিসাবও দলগুলোর অবস্থান বদলে দিতে পারে। তবে পয়েন্ট তালিকায় তিনে ওঠা আর ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া এক বিষয় নয়। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলতে হলে চক্র শেষে শীর্ষ দুই দলের মধ্যে থাকতে হবে বাংলাদেশকে। সে জন্য শুধু অন্য দলের ফলের ওপর নির্ভর করলেই চলবে না; নিজেদের বাকি ম্যাচগুলোতেও ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রাখতে হবে শান্তদের। সামনে বাংলাদেশের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ওই সিরিজে ভালো ফল পেলে ফাইনালের দৌড়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার সুযোগ থাকবে দলের সামনে। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতসহ প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর পরবর্তী ম্যাচগুলোর ফলও পয়েন্ট তালিকার সমীকরণে প্রভাব ফেলবে। আপাতত বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দক্ষিণ আফ্রিকা-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের পরবর্তী ম্যাচের দিকে নজর রাখা এবং নিজেদের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। পয়েন্ট তালিকায় তিনে ওঠার সম্ভাবনা দলটির জন্য ইতিবাচক হলেও ফাইনালের স্বপ্ন বাস্তব করতে হলে শেষ পর্যন্ত শীর্ষ দুইয়ে জায়গা করে নেওয়াই হবে মূল চ্যালেঞ্জ।