এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতিতে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলে যোগ দিয়েছেন তারকা মিডফিল্ডার ঋতুপর্ণা চাকমা। মিয়ানমারের ঘরোয়া লিগ ও এএফসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়নস লিগের ব্যস্ততা শেষে তিনি দেশে ফিরে জাতীয় দলের অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন। তবে নারী ফুটবল দলের প্রস্তুতিতে স্বস্তির খবরের পাশাপাশি বাংলাদেশ হকি দলে তৈরি হয়েছে নতুন ভিসা-সংকট। এশিয়ান গেমসের চূড়ান্ত স্কোয়াডে থাকা অভিজ্ঞ খেলোয়াড় রাসেল মাহমুদ জিমির চীন সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। জাপানের আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ১৯ সেপ্টেম্বর হলেও ফুটবল প্রতিযোগিতা শুরু হবে তার আগেই। নারী ফুটবলের ম্যাচ শুরু হবে ১৪ সেপ্টেম্বর। বাংলাদেশ পড়েছে ‘বি’ গ্রুপে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ দুই কোরিয়া—দক্ষিণ কোরিয়া ও উত্তর কোরিয়া এবং মিয়ানমার। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ১৪ সেপ্টেম্বর উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে। দ্বিতীয় ম্যাচ ১৭ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে এবং গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ২১ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের বিপক্ষে। তিনটি ম্যাচই হবে জাপানের ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে। ফলে আগের পরিকল্পনার তুলনায় বাংলাদেশ নারী দলের সূচিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। শুরুতে জাপানের নাগোয়া শহরকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতির কথা বলা হলেও নারী ফুটবলের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে ওসাকায়। এশিয়ান গেমসের নারী ফুটবল প্রতিযোগিতা ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। গ্রুপের শীর্ষ দুই দল এবং তিন গ্রুপের সেরা দুই তৃতীয় দল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে। ঋতুপর্ণার ফিরে আসা তাই বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দলের আক্রমণভাগে তাঁর গতি, বল নিয়ন্ত্রণ ও গোল করার দক্ষতা দলের অন্যতম বড় অস্ত্র হয়ে উঠেছে। ২০২৬ এএফসি নারী এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের হয়ে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষেও তিনি খেলেছেন। তবে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন চ্যালেঞ্জ। গ্রুপে থাকা উত্তর কোরিয়া এশিয়ার নারী ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দল। দক্ষিণ কোরিয়াও নিয়মিতভাবে বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। মিয়ানমারের বিপক্ষেও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক লড়াই বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ফলে গ্রুপ থেকে পরের পর্বে উঠতে হলে প্রতিটি ম্যাচেই পয়েন্টের জন্য লড়তে হবে বাংলাদেশকে। এদিকে পুরুষ ফুটবল দল এবার এশিয়ান গেমসে নেই। ফলে নারী ফুটবলই বাংলাদেশের ফুটবল-আশার অন্যতম প্রধান জায়গা হয়ে উঠেছে। ২০২২ হাংজু এশিয়ান গেমসে প্রথমবার নারী ফুটবল অংশ নেওয়ার পর এবার দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়ান গেমসে খেলবে বাংলাদেশ। নারী দলের প্রস্তুতির পাশাপাশি বাংলাদেশ হকি দলের প্রস্তুতিতে দেখা দিয়েছে জটিলতা। এশিয়ান গেমসের জন্য ১৮ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। সেই দলে অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড রাসেল মাহমুদ জিমি ও পুষ্কর খিসা মিমো দুজনই রয়েছেন। সমস্যা তৈরি হয়েছে বিদেশে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলা এবং ভিসা নিয়ে। জার্মানি সফরের পরিকল্পনা থাকলেও ভিসা না পাওয়ায় সেটি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিকল্প হিসেবে চীনে গিয়ে জাতীয় দলের বিপক্ষে কয়েকটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। কিন্তু জিমিসহ কয়েকজনের এশিয়ান গেমসের অ্যাক্রিডিটেশন-সংক্রান্ত পরিবর্তনের কারণে জাপানের ভিসা প্রয়োজন হতে পারে। একই সময়ে চীন সফরে যেতে হলে পাসপোর্টের প্রয়োজন হবে। ফলে জাপানের ভিসার জন্য পাসপোর্ট জমা দিলে চীন সফর করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এ কারণেই জিমির প্রস্তুতি সফরে থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের কর্মকর্তারা অবশ্য জিমিকে নিয়েই প্রস্তুতির পরিকল্পনা করছেন। জার্মানি সফর সম্ভব না হলে চীনে ছয়টি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে চীন থেকে সরাসরি জাপানে যাওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। তবে এ জন্য সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের অ্যাক্রিডিটেশন এবং ভিসা সমস্যার সমাধান প্রয়োজন। এশিয়ান গেমসের আগে হকি দলের জন্য প্রস্তুতি ম্যাচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জিমির মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে নিয়ে অনুশীলন পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। তাঁকে ছাড়া চীন সফর করলে দলের প্রস্তুতিতে ঘাটতি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে ফেডারেশন। এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের হকি অভিযানও কঠিন। পুরুষদের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ ‘এ’ পুলে দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, জাপান, শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে খেলবে। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ১৮ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে। সব মিলিয়ে এশিয়ান গেমসের আগে বাংলাদেশের দুই জনপ্রিয় দল—নারী ফুটবল ও পুরুষ হকিতে পরিস্থিতি দুই রকম। নারী ফুটবলে ঋতুপর্ণার ফেরায় শক্তি বাড়ছে, অন্যদিকে হকিতে জিমিকে ঘিরে ভিসা ও প্রস্তুতি সফরের জটিলতা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের সামনে অবশ্য আরও বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও মিয়ানমার—তিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তিনটি ম্যাচেই নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দিতে হবে। ঋতুপর্ণার মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের উপস্থিতি সেই লড়াইয়ে বাংলাদেশকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিতে পারে। আর হকি দলের ক্ষেত্রে জিমিকে শেষ পর্যন্ত কীভাবে প্রস্তুতি ক্যাম্প ও চীন সফরের সঙ্গে রাখা যায়, সেটিই এখন ফেডারেশনের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।