বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটারদের জন্য বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই বোর্ড সভায় প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেতে পারে বলে জানিয়েছেন বিসিবির এক কর্মকর্তা। শুক্রবার বিসিবির নারী বিভাগের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু জানান, গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত অনলাইন বোর্ড সভায় বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘গতকাল বৃহস্পতিবার আমাদের অনলাইন বোর্ড সভা হয়েছে। সেখানে অনেক পরিচালক উপস্থিত ছিলেন। আমরা বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বোর্ড সভায় এটি অনুমোদনও পাবে।’ মাতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ ও বেতন কাঠামো নিয়ে আলোচনার কথা জানিয়ে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কত মাসের ছুটি দেওয়া যায় এবং বোর্ডের বেতনভুক্তদের ক্ষেত্রে কীভাবে বেতন দেওয়া হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কেউ চার মাসের কথা বলেছেন, আবার আমরা ছয় মাসের প্রস্তাব দিয়েছি। আপাতত চার মাসের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এটি বাড়িয়ে ছয় মাসও করা হতে পারে।’ গত ২৬ অক্টোবর দ্য ডেইলি স্টারের প্রিন্ট সংস্করণে ‘Here motherhood costs cricket career’ শিরোনামে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটারদের মাতৃত্বকালীন ছুটির নীতিমালা না থাকার বিষয়টি সামনে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ধরনের নীতিমালা না থাকায় কয়েকজন নারী ক্রিকেটার খেলা ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন। প্রতিবেদনটিতে বর্তমান ও সাবেক নারী ক্রিকেটার, আম্পায়ার এবং কোচরা নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, মাতৃত্বকালীন ছুটির নীতিমালা না থাকলে একজন নারী ক্রিকেটারের পক্ষে মাতৃত্ব ও দীর্ঘমেয়াদি ক্রিকেট ক্যারিয়ার একসঙ্গে চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এদিকে নারী জাতীয় দলের সাবেক পেসার সুরাইয়া আজমিনের জন্য এরই মধ্যে চার মাসের বেতন দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বিসিবি। চলতি বছরের শুরুতে বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদন করেছিলেন তিনি। এ বিষয়ে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ইতোমধ্যে ফাইলে স্বাক্ষর করেছি। চার মাসের বেতন এক-দুই দিনের মধ্যে তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ার কথা।’ দ্য ডেইলি স্টারকে সুরাইয়া আজমিন জানান, বিসিবির নারী বিভাগের দায়িত্বে থাকা বুলবুল বাশার তাঁকে এ অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন। বোর্ডের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অবশেষে তারা বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে জেনে আমি অনেক বেশি খুশি।’ বিশ্ব ক্রিকেটে নারী খেলোয়াড়দের মাতৃত্বকালীন ছুটির বিষয়ে কয়েকটি বোর্ড ইতোমধ্যে নীতিমালা চালু করেছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট তাদের চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি দিয়ে থাকে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও ২০২১ সালে ‘প্যারেন্টাল সাপোর্ট পলিসি’ চালু করে। এ ছাড়া চলতি বছরের ২২ জুন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) নারী ক্রিকেটারদের গর্ভধারণ এবং সন্তান জন্মদানের পর ক্রিকেটে ফেরার বিষয়ে বিশেষ নির্দেশিকা চালু করেছে। ছয় ধাপের এই নির্দেশিকায় রয়েছে প্রস্তুতি, পর্যালোচনা, শারীরিক পুনর্গঠন, শারীরিক সক্ষমতা ফিরে পাওয়া, খেলায় প্রত্যাবর্তন এবং সক্ষমতার আরও উন্নয়ন। নির্দেশিকায় শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে ওঠা, চিকিৎসকের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ধাপে ধাপে অনুশীলনে ফেরা এবং পুরো প্রক্রিয়া নিয়মিত পর্যবেক্ষণের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে আইসিসির এই নির্দেশিকা সদস্য দেশগুলোর ক্রিকেট বোর্ডকে নিজস্ব নীতিমালা প্রণয়নে সহায়তা করলেও নারী ক্রিকেটারদের বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত করে না।