নাহিদ রানার ১৪৭.২ কিলোমিটার গতির রিভার্স সুইংয়ে কিছুই বুঝতে না পেরে বল ছেড়ে দিয়ে বোল্ড হন মোহাম্মাদ রিজওয়ান। রিজওয়ানের চোখেমুখে ছিল বিস্ময়। বলটি এত দেরিতে এতটা কীভাবে ভেতর ঢুকল, কীভাবে স্টাম্পে ছোবল দিল, তিনি যেন বুঝতেই পারছিলেন না। উইকেটের পেছনে থাকা লিটন কুমার দাস, নাজমুল হোসেন শান্তরা তো তখন আনন্দে লাফিয়েই উঠেছেন। তবে একটু ধাতস্থ হয়ে তাদের মনেও খেলা করেছে বিস্ময়। এটা কীভাবে সম্ভব! নাহিদ রানার গতি ও বাউন্স নিয়ে তো বলার বাকি আছে সামান্যই। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়র্কারেও বেশ উন্নতি করেছেন তিনি। বেশ কিছু স্কিল যোগ করেছেন আরও। এবার দেখা গেল রিভার্স সুইংয়ের ঝলকও। মিরপুর টেস্টে পাকিস্তানকে হারানোর পথে চোখধাঁধানো রিভার্স সুইংয়ে বোল্ড করেন তিনি রিজওয়ানকে ১৪৭.২ কিলোমিটার গতির ডেলিভারিতে সামনে পা বাড়িয়ে ছেড়ে দেন রিজওয়ান। তিনি ভেবেছিলেন, বল চলে যাবে বাইরে দিয়ে। কিন্তু অনেকটা দেরিতে বল ভেতরে ঢুকে এলোমেলো করে দেয় স্টাম্প।রিজওয়ানের বিদায় দিয়েই মূলত পাকিস্তানের ম্যাচ বাঁচানোর আশা শেষ হয়ে যায়। আগুন ঝরা বোলিংয়ের ওই স্পেলে ৪ উইকেট নেন নাহিদ। ইনিংসে তার শিকার ৫ উইকেট। ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক শান্ত বললেন, ওই ডেলিভারিতে অবাক হয়েছেন তারাও। রিভার্স সুইংয়ের ক্ষেত্রে বলের একটা পাশ উজ্জ্বল রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেই কাজটি যারা করেছেন, অধিনায়ক বললেন তাদের কথাও, “আমার মনে হয় যে, রানার বলে রিভার্স একটু বিস্ময়কর ছিল। আমি, বিশেষ করে লিটন, পেছন থেকে আলাপ করছিলাম যে, রানার বলটা এভাবে ভেতরে আসবে, আমরা দুজনেই আশা করিনি। এটা একটা ভালো দিক। ভালো লাগার বিষয়। আমার মনে হয় যে এখানে বলটা খুব ভালো মেইনটেইন হয়েছে, যারা বল শাইন করছিল। কৃতিত্ব দিতে হবে তাদেরকে। ইতিবাচক ব্যাপার যে, রানাও রিভার্স করাতে পারছে। যেটা তাসকিন করায়, ইবাদত করায় বা শরিফুল খালেদ, এরা সবসময় এই জিনিসটা করে থাকে। রানাও ধীরে ধীরে জিনিসটা শিখছে। অবশ্যই এটা একটা আশার ব্যাপার।” বাংলাদেশের জয়ে নাহিদ রানার অবদান নিয়ে তো অনেক কথা বললেনই শান্ত। তবে আরেকজনের কথা বলতেও ভুললেন না। প্রথম ইনিংসে দলকে ম্যাচে ফিরিয়েছিলেন তাসকিন। শেষ দিনেও প্রথম ওভারে ব্রেক থ্রু দেন তিনি, পরে সালমান আগার গুরুত্বপূর্ণ উইকেটও নেই। নাহিদের আগেই দলের অভিজ্ঞ পেসারের কথা বললেন অধিনায়ক, ‘নাহিদের কথা বলার আগে আমি একটু তাসকিনের কথা বলবো। আসলে তাসকিন শুরুটা দিয়েছিল যেভাবে, চা বিরতির পরে এসে দারুণ বোলিং করেছে। ওই চার-পাঁচ ওভারের স্পেলটা আসলে মোমেন্টাম এনে দিয়েছে।”