প্রকাশ :: ... | ... | ...

প্রথম দফায় দল থেকে ছয় জনকে বাদ দিলেন কোচ টমাস ডুলি


সংযুক্ত ছবি

আসন্ন আসিয়ান কাপ সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ক্যাম্পের খেলোয়াড়সংখ্যা কমিয়ে এনেছেন প্রধান কোচ টমাস ডুলি। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ছয় খেলোয়াড়কে ক্যাম্প থেকে বাদ দিয়েছেন তিনি। ফলে বর্তমানে জাতীয় দলের ক্যাম্পে রয়েছেন ২৮ জন। বাদ পড়া ছয় খেলোয়াড় হলেন রোমানিয়ার চতুর্থ স্তরের ক্লাব সিএস তুরুল মিকুলাতে খেলা ইয়াসার তাহমিদ, ইতালির সেরি ডির দল সারনেসের দেবাজিৎ সরকার, তাজ উদ্দিন, ইসা ফয়সাল, সৈয়দ কাজেম শাহ কিরমানি ও রাব্বী হোসেন রাহুল। প্রবাসী ফুটবলারদের মধ্যে তাহমিদ ও দেবাজিৎকে এবারের ক্যাম্পে ডেকেছিলেন ডুলি। ইউরোপের নিচের স্তরের ক্লাবে খেলা এই দুই ফুটবলারকে কাছ থেকে দেখার পর আপাতত জাতীয় দলের আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য উপযুক্ত মনে হয়নি কোচের। তবে তাঁদের জাতীয় দলের পরিকল্পনা থেকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতে আবারও সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ছয় জনকে বাদ দেওয়ার পরও জাতীয় দলের স্কোয়াড এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন ডুলি। বর্তমানে ক্যাম্পে থাকা ২৮ জনের সঙ্গে আগামী সপ্তাহে যোগ দেবেন সাদউদ্দিন ও ভুটানের লিগে খেলা কাজী তারিক রায়হান। ফলে খেলোয়াড়সংখ্যা আবারও বাড়বে। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে আসন্ন ম্যাচের জন্য ২৩ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণার আগে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স আরও পর্যবেক্ষণ করতে চান ডুলি। তিনি বলেন, এখনো ইন্দোনেশিয়ার জন্য ২৩ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়নি। অনুশীলনে প্রায় ৩০ জন খেলোয়াড় ছিলেন। আরও দুজন যোগ দিলে দলে প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে। তাই ইন্দোনেশিয়া ম্যাচের জন্য যে দলটি নিয়ে কাজ করছেন, সেটির ওপরই এখন মনোযোগ দিতে চান তিনি। নতুনদের সুযোগ দেওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন বাংলাদেশ কোচ। ডুলি বলেন, কয়েকজন নতুন খেলোয়াড়কে ডেকে তাঁদের দক্ষতা দেখানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে কোনো খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো কোচিং স্টাফের জন্য সহজ নয়। বাদ পড়া খেলোয়াড়দের ভবিষ্যতে আবার জাতীয় দলে ফেরার জন্য কোন কোন জায়গায় উন্নতি করতে হবে, সে বিষয়ে তাঁদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ডুলির এই সিদ্ধান্তে আপাতত জাতীয় দলের ক্যাম্পে জায়গা হয়নি তাহমিদ ও দেবাজিৎদের। ইউরোপের ক্লাব ফুটবলে খেলা এই দুই তরুণের পারফরম্যান্স ভবিষ্যতে কোচের নজরে থাকবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। জাতীয় দলের দরজা তাঁদের জন্য বন্ধ হয়ে যায়নি। এদিকে হামজা চৌধুরী, শোমিত সোমসহ জাতীয় দলের নিয়মিত কয়েকজন প্রবাসী ফুটবলার এখনো ক্যাম্পে যোগ দেননি। ক্লাবের অনুমতি ও ফিফা আন্তর্জাতিক উইন্ডোর সময়সূচি অনুযায়ী তাঁরা দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। ফলে ইন্দোনেশিয়া ম্যাচের আগে জাতীয় দলের চূড়ান্ত স্কোয়াডে আরও পরিবর্তন আসতে পারে। এদিকে বুধবার আসন্ন আসিয়ান কাপের সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১৪টি দল নিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে প্রতিযোগিতাটি। দলগুলো প্রিমিয়ার ও চ্যালেঞ্জ—দুই বিভাগে ভাগ হয়ে খেলবে। বাংলাদেশ খেলবে প্রিমিয়ার বিভাগের ‘এ’ গ্রুপে। ২৪ সেপ্টেম্বর শুরু হবে আসিয়ান কাপ। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ২৫ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার বিপক্ষে। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে মালয়েশিয়া ১৩৬তম এবং বাংলাদেশ ১৮১তম অবস্থানে রয়েছে। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ সিঙ্গাপুর। র‍্যাঙ্কিংয়ে সিঙ্গাপুরের অবস্থান ১৪৮তম। গ্রুপপর্বে বাংলাদেশের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা হবে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে। ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। ইন্দোনেশিয়া বর্তমানে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ১১৮তম অবস্থানে, বাংলাদেশের চেয়ে ৬৩ ধাপ এগিয়ে। মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচ দুটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায়। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়। আসিয়ান কাপের আগে জাতীয় দলের ক্যাম্পে তাই চলছে শেষ মুহূর্তের বাছাই ও প্রস্তুতি। ছয় জনকে বাদ দিয়ে দল ছোট করা হলেও চূড়ান্ত ২৩ সদস্যের তালিকায় কারা থাকবেন, সেটি নির্ধারণ হবে ফিফা উইন্ডোতে প্রবাসী ফুটবলারদের যোগ দেওয়া এবং ক্যাম্পে থাকা খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স বিবেচনার পর।