প্রকাশ :: ... | ... | ...

বাংলাদশের রিভিউ নিয়ে পাকিস্তানের কোচের ‘মৌখিক’ অভিযোগ


সংযুক্ত ছবি

মাঠের বড় পর্দায় রিপ্লে দেখে বাংলাদেশ রিভিউ নিয়েছে বলে ম্যাচ রেফারিকে বলেন পাকিস্তানের কোচ মাইক হেসন, তবে এখনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানাননি তারা। শেষ ম্যাচে ১১ রানের জয়ে সিরিজ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। ক্রীড়া প্রতিবেদক ম্যাচ শেষে রিজার্ভ আম্পায়ারের কাছে ছুটে যান মাইক হেসন। বাংলাদেশের রিভিউ নিয়ে অভিযোগ জানান তিনি। তাকে তখন বলা হয়, রিজার্ভ আম্পায়ারের দায়িত্বের আওতায় এটি পড়ে না। পাকিস্তানের কোচ তখন ছুটে যান ম্যাচ রেফারির কাছে। সেখানে গিয়েও একই অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি। তবে পাকিস্তান দলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানো হয়নি বলে নিশ্চিত করলেন ম্যাচ রেফারি নিয়ামুর রশিদ। বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচের শেষ সময়ে ওই রিভিউ থেকেই নিশ্চিত হয়ে যায় ম্যাচের ভাগ্য। ২ বলে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল তখন ১২ রান। রিশাদ হোসেন পঞ্চম ডেলিভারিটি করেন ব্যাটসম্যান শাহিন শাহ আফ্রিদির লেগ স্টাম্পের বাইরে, যা টার্ন করে আরও বেরিয়ে যায়। আম্পায়ার কুমার ধার্মাসেনা ওয়াইড ডেলিভারির সঙ্কেত দেন। ২ বলে তখন প্রয়োজন ১১ রান। বাংলাদেশ দল এরপর নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে রিভিউ নেয়। রিভিউয়ে দেখা যায়, আফ্রিদির ব্যাটের সামনের দিকে সামান্য স্পর্শ করেছিল বল। ওয়াইডের সিদ্ধান্ত তাই বদলে যায়। ২ বলে ১১ রানের সমীকরণ হয়ে যায় ১ বলে ১২। পরে শেষ বলেও রান নিতে পারেননি আফ্রিদি, বরং স্টাম্পড হয়ে যান। বাংলাদেশ ম্যাচ জিতে নেয় ১১ রানে। আইপিএলে বা কিছু ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ওয়াইডের রিভিউ নেওয়ার নিয়ম থাকলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তা নেই। বাংলাদেশ রিভিউ নেয় এলবিডব্লিউয়ের জন্যই। মূলত সেটি ছিল ট্যাকটিক্যাল সিদ্ধান্ত এবং সেটি আইনের মধ্যে থেকেই। রিভিউ নেওয়াতেই মাঠের আম্পায়ারের ভুলটা শুধরে যায় তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে। আম্পায়ার ধার্মাসেনা রিভিউয়ের সিদ্ধান্ত দেওয়ার পরই মাটিতে মাঠ ছুড়ে হতাশা প্রকাশ করেন আফ্রিদি। তিনি জানতে, বল তার ব্যাটে স্পর্শ করেছে। আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলতেও দেখা যায় তাকে। এরপর ম্যাচ শেষে ব্যাপারটিকে আরও টেনে নেন হেসন। পাকিস্তানের কোচের অভিযোগ, মাঠের বড় পর্দায় রিপ্লে দেখে বাংলাদেশ রিভিউ নিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, রিপ্লে দেখে রিভিউ নেওয়ার সুযোগ নেই। এছাড়া নির্ধারিত ১৫ সেকেন্ড পেরিয়ে যাওয়ার পর রিভিউ নিয়েছে বাংলাদেশ, এরকম ভাবনাও আছে পাকিস্তান দলে। টিভি প্রোডাকশন ও ম্যাচ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণত ব্যাটসম্যানের পায়ে বল লাগলে বা এলবিডব্লিউয়ের আবেদন হলে ‘ডিআরএস টাইমার’ চালু করা হয়। এখানে যেহেতু আম্পায়ার ওয়াইডের সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন, সেজন্য টিভি আম্পায়ার তাৎক্ষণিকভাবে টাইমার চালু করেননি। কাজেই বোঝার উপায় ছিল না, আসলেই বাংলাদেশ নির্ধারিত সময়ের পরে রিভিউ নিয়েছে কি না। পায়ে লাগলে বা এলবিডব্লিউয়ের আবেদন হলে মাঠের বড় পর্দায় তাৎক্ষণিক রিপ্লে দেখানো হয় না। ওয়াইড ডেলিভারিতে অনেক সময় দ্রুতই রিপ্লে দেখানো হয়। তবে এই ঘটনায় বড় পর্দায় রিপ্লে দেখিয়েছে বলে নিশ্চিত হতে পারেননি মাঠের আম্পায়াররা। তাছাড়া এত সূক্ষ্মভাবে ব্যাটে স্পর্শ করেছ বল, শুধু রিপ্লে দেখে তা বোঝার উপায় নেই। আল্ট্রাএজ-এ স্পাইক ফুটে উঠেছে সামান্য। বিসিবির আম্পায়ার্স কমিটির সূত্র থেকে জানা গেছে, ম্যাচ শেষে আম্পায়ার কুমার ধার্মাসেনা বলেছেন, তিনি নিশ্চিত যে বাংলাদেশ রিপ্লে দেখে রিভিউ নেয়নি। অন্য আম্পায়ার মাসুদুর রহমান, টিভি আম্পায়ার এড্রিয়ান হোল্ডস্টক বা ম্যাচ রেফারি, কেউ বড় পর্দায় রিপ্লে দেখতে পাননি বলে জানা গেছে ওই সূত্র থেকে। মাঠের আম্পায়াররা তখন ব্যস্ত ছিলেন শাহিন শাহ আফ্রিদিসহ অন্য ক্রিকেটাদের সঙ্গে কথা বলায়। সত্যিই রিপ্লে দেখালে বা আম্পায়ারদের চোখে পড়লে বাংলাদেশের রিভিউ গ্রহণযোগ্য হতো না। আম্পায়ার্স কমিটির আরেকটি সূত্র থেকে জানা গেছে, মাঠের আম্পায়াররা বরং লিটন কুমার দাসের বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা করেছেন। লিটন শুরু থেকেই নিশ্চিত ছিলেন, বল ব্যাটসম্যানের ব্যাটে লেগেছে এবং তিনি অধিনায়ককে বারবার বলছিলেন রিভিউ নিতে। তবে পাকিস্তান দলের ভাবনা অন্যরকম এবং কোচ সেটি জানিয়েছেন ম্যাচ রেফারিকে। তবে ম্যাচ রেফারি বাংলাদেশের সাবেক অলরাউন্ডার নিয়ামুর রশিদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বললেন, আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ করা হয়নি। “ম্যাচ শেষে মাইক হেসন আমাকে মৌখিকভাবে বলেছেন যে, বাংলাদেশ রিপ্লে দেখে রিভিউ নিয়েছে বলে মনে হয়েছে তাদের কাছে। আমাদের পক্ষ থেকে যা বলার, আমি তাকে বলেছি। লিখিত বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাকিস্তান দলের কাছ থেকে করা হয়নি এখনও। শুধু মুখেই তিনি বলেছেন।” “অধিনায়কের রিপোর্ট অবশ্য আমি এখনও দেখিনি। পাকিস্তান অধিনায়ক সেখানে উল্লেখ করে থাকলে থাকতে পারে। অধিনায়কেরা নিজেদের পর্যবেক্ষণের কথা লিখতে পারেন। তবে সেটা অভিযোগ নয়। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না পেলেও পাকিস্তানের কোচ যেহেতু বলেছেন আমাকে, আমার রিপোর্টে আমি ব্যাপারটি উল্লেখ করে দেব। এটা তো একটু অস্বাভাবিক পরিস্থিতি, এরকম কিছু নিয়মিত আমরা দেখি না। হয়তো ভবিষ্যতের অভিজ্ঞতার জন্য এটা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এর চেয়ে বেশি কিছু করার দেখি না।” আম্পায়ার ওয়াইড দেওয়ার পর মাঠে লিটন কুমার দাসকে দেখে মনে হচ্ছিল, অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজকে কিছু একটা বলছেন তিনি। ম্যাচের পর টি-স্পোর্টসকে নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, বাংলাদেশের কিপারই পরামর্শটি দিয়েছিলেন অধিনায়ককে। “লিটন প্রথমে মিরাজকে এই আইডিয়াটা দিয়েছে যে, আমরা রিভিউ নিতে পারি। কারণ, ব্যাটে বল লেগেছিল, আমরা বুঝতে পারছিলাম। ওই সুযোগটা আমরা নিয়েছি। অনেক বড় একটা সময় ছিল। ওই সুযোগটা আমরা কাজে লাগাতে পেরেছি। দারুণ ম্যাচ অ্যাওয়ারনেস এবং ওই বলটা রিভিউ নেওয়ার কারণে আমার মনে হয় আরেকটু সহজ হয়েছে।” অধিনায়ক মিরাজ ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে জানান, নিজেরা আলোচনা করে রিভিউটি নিয়েছিলেন তারা। “রিভিউ আমরা আলোচনা করে নিয়েছিলাম। লিটন ছিল, শান্ত ছিল। ওরা দুজন বলছিল যে, রিভিউ আছে, আমরা রিভিউ নিয়ে নেই। কারণ আমরা জানি যে, আমাদের দুটি রিভিউ আছে এবং ওটা একটা পরিকল্পনা ছিল আমাদের।” এই সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও সালমান আলি আগার রান আউট ঘিরে উত্তপ্ত অবস্থা তৈরি হয়েছিল মাঠেম যেটির রেশ ছিল ম্যাচের পরেও। শেষ ম্যাচে ১১ রানের জয়ে পাকিস্তাকে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারায় বাংলাদেশ।