অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজের আগে একের পর এক চোটে বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। দলের পেস বোলিং বিভাগে চোটের ধাক্কার পাশাপাশি অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক-ব্যাটার লিটন দাসের ফিটনেস নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। শনিবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মেডিকেল বিভাগ ক্রিকেটারদের চোট ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার সর্বশেষ অবস্থা জানিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া সফরে বাংলাদেশ দুটি টেস্ট খেলবে। আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে প্রথম এবং ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে চোটের কারণে সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। প্রথম টেস্টে শরিফুল ইসলাম ও লিটন দাসের খেলার সম্ভাবনাও খুবই কম। তবে পুনর্বাসন সফল হলে এবং মেডিকেল ছাড়পত্র পেলে দ্বিতীয় টেস্টে তাদের বিবেচনা করা হতে পারে। অন্যদিকে তানজিম হাসান সাকিবের মাঠে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে বছরের শেষ দিকে। মোস্তাফিজুর রহমান ১৮ আগস্টের পর খেলার জন্য ফিট হতে পারেন। নাহিদ রানা: জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে গত ১৭ জুলাই ম্যাচ চলাকালে বাঁ পাশের পাঁজরের নিচের পেশিতে চোট পান নাহিদ রানা। স্ক্যানে তার গ্রেড-২ চোট ধরা পড়ে। টিস্যু সেরে উঠতে প্রায় চার সপ্তাহ এবং এরপর বোলিং ফিটনেস ফিরে পেতে আরও দুই থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। সব মিলিয়ে মাঠে ফিরতে তার প্রায় ছয় থেকে আট সপ্তাহ সময় প্রয়োজন হতে পারে। ফলে অস্ট্রেলিয়া সিরিজে তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। শরিফুল ইসলাম: গত ১৪ জুলাই বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে গ্রেড-১ চোট পান শরিফুল ইসলাম। তার পুনর্বাসন ভালোভাবে এগোচ্ছে। আগামী ২৯ জুলাই থেকে বোলিং শুরু করার কথা রয়েছে। ১২ আগস্ট তার ফিটনেস পরীক্ষা হতে পারে। প্রথম টেস্টে খেলার সম্ভাবনা ক্ষীণ হলেও বোলিং ওয়ার্কলোড সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারলে এবং মেডিকেল ছাড়পত্র পেলে দ্বিতীয় টেস্টে তাকে বিবেচনা করা হতে পারে। লিটন দাস: বাঁ পায়ের কাফ মাসলের চোট থেকে সেরে উঠছেন লিটন দাস। সিঙ্গাপুরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে পিআরপি থেরাপি দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৮ জুলাই থেকে রানিং ও কন্ডিশনিং শুরু করার কথা রয়েছে। ১৩ আগস্টের দিকে তার ফিটনেস মূল্যায়ন করা হবে। পুনর্বাসন সফল হলে এবং ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে দ্বিতীয় টেস্টে খেলার সুযোগ পেতে পারেন তিনি। তানজিম হাসান সাকিব: চোটের কারণে পুনর্বাসনে থাকা তানজিম হাসান সাকিবকে আরও আট থেকে ১০ সপ্তাহ পুনর্বাসন চালিয়ে যেতে হবে। এরপর আবার স্ক্যান করা হবে। হাড়ের চিড় কত দ্রুত সারছে, তার ওপর নির্ভর করবে মাঠে ফেরার সময়। আপাতত চলতি বছরের শেষ দিকে তাকে মাঠে ফেরানোর আশা করছে বিসিবি। মোস্তাফিজুর রহমান: ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিং ও কাফ মাসলের চোট থেকে সেরে উঠছেন মোস্তাফিজুর রহমান। বর্তমানে নিয়মিত পুনর্বাসন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। জুলাইয়ের শেষ দিকে তার ফিটনেস মূল্যায়ন করা হবে। বোলিং ওয়ার্কলোড সামলাতে পারলে আগামী ১৮ আগস্টের পর তাকে দলে নেওয়ার জন্য বিবেচনা করা হতে পারে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২২ সালের পর এখনো কোনো টেস্ট ম্যাচ খেলেননি এই বাঁহাতি পেসার। সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে বাংলাদেশের পেস বোলিং আক্রমণ বড় ধরনের চোট-সংকটে পড়েছে। নাহিদ রানাকে নিশ্চিতভাবেই পাওয়া যাচ্ছে না, আর শরিফুল ও লিটনের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় টেস্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। ফলে অস্ট্রেলিয়ার কঠিন কন্ডিশনে বাংলাদেশের দল নির্বাচন ও একাদশ সাজানোয় ফিটনেসই হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।