বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের স্বপ্ন বাঁচাতে জয়ের লক্ষ্য বাংলাদেশের; স্পিনসহায়ক উইকেটের প্রত্যাশা ওয়েস্ট ইন্ডিজের, গরমও মানিয়ে নিয়েছে ক্যারিবীয়রা বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হচ্ছে দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্ট। ম্যাচের আগে দুই দলের আলোচনায় বড় হয়ে উঠেছে উইকেটের চরিত্র। বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত উইকেট নিয়ে স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করতে চাননি। অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক রোস্টন চেজের ধারণা, শেষ পর্যন্ত উইকেট স্পিনারদের সহায়তা করতে পারে। মিরপুরের উইকেটের ওপরের স্তরে ঘাস থাকলেও খেলা শুরুর আগে এর কতটা থাকবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। উইকেট পুরোপুরি ব্যাটিংসহায়ক হবে, নাকি স্পিনারদের জন্য সুবিধা তৈরি করবে—তা নিয়ে দুই দলেরই হিসাব-নিকাশ চলছে। বাংলাদেশের সামনে জয়ের চাপ থাকায় উইকেটের চরিত্র বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ড্রয়ের ওপর নির্ভর না করে জয় তুলে নিতে হলে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই কার্যকর পারফরম্যান্স দরকার। মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে চেজ বলেন, তাঁর ধারণা, উইকেট স্পিনসহায়ক হতে পারে। ওপরের স্তর দেখে ঘাসের উপস্থিতি বোঝা গেলেও নিচের স্তর এখনো শুষ্ক বলে মনে হয়েছে তাঁর। চেজের মতে, বাংলাদেশের উইকেট সাধারণত স্পিনারদের সহায়তা করে; তাই শেষ পর্যন্ত এখানেও স্পিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ২৬ অক্টোবর অনুশীলনে এসে উইকেট দেখেছিলেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক। তখন ওপরের স্তরে বেশ ঘাস ছিল। তবে খেলার আগে ঘাস ছেঁটে ফেলা হতে পারে কিংবা উইকেটে আরও কাজ করা হতে পারে বলে তাঁর ধারণা। ফলে উইকেটের চূড়ান্ত চরিত্র নিয়ে নিশ্চিত নন তিনিও। বাংলাদেশ অধিনায়ক শান্ত অবশ্য এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তাঁর ভাষ্য, পেস ও স্পিন—দুই ধরনের বোলিং বিভাগেই বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। দলের জন্য যেটি উপযোগী হবে, সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। উইকেট নিয়ে আগাম কিছু না বলে নিজেদের প্রস্তুতি ও সামর্থ্যের ওপরই জোর দিতে চান তিনি। বাংলাদেশের জন্য এই সিরিজের গুরুত্ব শুধু ঘরের মাঠে ভালো ফল করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন ধরে রাখতে হলে বাকি ম্যাচগুলোতে ধারাবাহিকতা দেখানো প্রয়োজন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর বাংলাদেশের দক্ষিণ আফ্রিকায় দুটি টেস্ট খেলার সূচি রয়েছে। তবে ভবিষ্যতের হিসাব না কষে আপাতত মিরপুরের ম্যাচেই মনোযোগ দিতে চান শান্ত। সাম্প্রতিক সময়ে টেস্ট ক্রিকেটে প্রত্যাশিত ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। সেই ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে দল। শান্তর আশা, নিজেদের খেলায় আরও ২০ থেকে ৩০ শতাংশ উন্নতি করতে পারবে বাংলাদেশ। টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে দেশে দর্শকদের আগ্রহ বাড়াকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তিনি। তাঁর মতে, এই আগ্রহ খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজও সিরিজটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চলতি চক্রে এটিই তাদের শেষ সিরিজ। পয়েন্ট তালিকায় অবস্থান উন্নত করার সুযোগ কাজে লাগাতে চায় দলটি। চেজের ভাষায়, ওপরের দিকে উঠতে হলে এই সিরিজেই ভালো ফল করতে হবে। চলতি বছর টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পারফরম্যান্সে উন্নতির ইঙ্গিত রয়েছে। চেজ জানিয়েছেন, দলটি সাম্প্রতিক সময়ে ভালো ফর্মে রয়েছে এবং সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায়। তাদের লক্ষ্য শুধু একটি ম্যাচ জেতা নয়, দুই টেস্টেই জয় তুলে নিয়ে পয়েন্ট তালিকায় নিজেদের অবস্থান উন্নত করা। প্রস্তুতির দিক থেকেও সফরকারীরা সন্তুষ্ট। বাংলাদেশ সফরের আগে ভারতের চেন্নাইয়ে বিশেষ অনুশীলন ক্যাম্প করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দলের কিছু খেলোয়াড় সেখানে প্রস্তুতি নিয়েছেন, অন্যরা ভারতের মাটিতে সীমিত ওভারের সিরিজে ব্যস্ত ছিলেন। পরে ঢাকায় এসে দল একসঙ্গে অনুশীলন করেছে এবং একটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছে। ১৮ অক্টোবর ঢাকায় পৌঁছানোর পর স্থানীয় আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ারও সুযোগ পেয়েছে তারা। মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে চেজ বলেন, দলের প্রস্তুতি নিয়ে তাঁরা সন্তুষ্ট। খেলোয়াড়েরা কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছেন। ঢাকার আবহাওয়া স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি গরম হলেও তা দলের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়নি। তাঁর ভাষায়, গরম কিছুটা বেশি হলেও খেলোয়াড়েরা এখন পর্যন্ত পরিবেশ উপভোগ করছেন এবং নিজেদের মানিয়ে নিতে পেরেছেন। মঙ্গলবার অনুশীলন না করাও ইঙ্গিত দেয়, প্রথম টেস্টের আগে নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে আত্মবিশ্বাসী সফরকারীরা। তবে মাঠের পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত সেই আত্মবিশ্বাসের পরীক্ষা নেবে। মিরপুরের উইকেট স্পিনসহায়ক হলে দুই দলের স্পিনারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আবার ঘাস অক্ষত থাকলে পেসাররাও শুরুতে বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন। এ কারণে টস, একাদশ নির্বাচন এবং প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ের কৌশলও ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো, ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে এমন ক্রিকেট খেলা, যাতে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের লক্ষ্যও পরিষ্কার—প্রস্তুতি ও সাম্প্রতিক ফর্মকে ফলাফলে রূপ দেওয়া। দুই অধিনায়কের বক্তব্যে উইকেট নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও একটি বিষয়ে দুই দলই একমত: সিরিজের শুরুতেই ভালো ফল পাওয়া পরবর্তী পথচলায় বড় ভূমিকা রাখবে।