চীনের কোনো এক শহরের মাঠে দাঁড়িয়ে একজন বাংলাদেশি ব্যাট হাতে নেওয়ার ভঙ্গি দেখাচ্ছেন কয়েকজন তরুণকে। তাদের কেউ হয়তো জীবনে প্রথমবার ক্রিকেট বল হাতে নিয়েছে। কেউ হয়তো জানেই না, যে খেলাটি তারা শিখছে, সেটি পৃথিবীর অন্য প্রান্তে কোটি মানুষের আবেগের নাম। বাংলাদেশি কোচ বলছেন, ব্যাটটা এভাবে ধরো। শরীরটা একটু নিচু করো। বলের দিকে চোখ রাখো। ভাষা আলাদা। সংস্কৃতি আলাদা। খাবার আলাদা। খেলার ঐতিহ্যও আলাদা। তবু ক্রিকেটের এই ছোট্ট মাঠে মুহূর্তের জন্য যেন কোনো সীমান্ত নেই। একজন বাংলাদেশি মানুষ চীনের তরুণদের ক্রিকেট শেখাচ্ছেন। এই দৃশ্যের ভেতরেই লুকিয়ে আছে বাংলাদেশ-চীন ক্রীড়া সম্পর্কের সবচেয়ে সুন্দর গল্পগুলোর একটি। মানুষ সাধারণত কূটনীতি বলতে বোঝে বৈঠক, চুক্তি, রাষ্ট্রীয় সফর, পতাকা, করমর্দন আর যৌথ বিবৃতি। কিন্তু কূটনীতির আরেকটি ভাষা আছে। সেখানে বড় বড় টেবিল নেই, কখনো মাইক্রোফোনও নেই। সেখানে আছে মাঠ। আছে বল। আছে ঘাম। আছে একজন কোচের ধৈর্য। আছে একজন তরুণ খেলোয়াড়ের বারবার ভুল করে আবার উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা। সেই ভাষার নাম ক্রীড়া কূটনীতি। বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কের বয়স এখন পাঁচ দশকের বেশি। ১৯৭৫ সালের ৪ অক্টোবর দুই দেশের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। তার আগেই ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্যপদের প্রশ্নে চীনের অবস্থান এবং ১৯৭৫ সালের আগস্টে বাংলাদেশের স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। পরবর্তী পাঁচ দশকে বাণিজ্য, অবকাঠামো, শিক্ষা, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি ও মানুষের মধ্যে যোগাযোগের অসংখ্য পথ তৈরি হয়েছে। কিন্তু ক্রীড়ার পথটি ছিল একটু আলাদা। এখানে রাষ্ট্রের পাশাপাশি হাঁটতে শুরু করেছিল মানুষ। একজন খেলোয়াড়। একজন কোচ। একটি দল। একটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প। একটি বিশ্ববিদ্যালয়। আর কখনো কখনো একজন মানুষের ব্যক্তিগত যাত্রাই হয়ে উঠেছে দুই দেশের সম্পর্কের এক অদৃশ্য সেতু। সেই সেতুর প্রথম সারির মানুষদের একজন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। বাংলাদেশের প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরি করা এই ক্রিকেটারের পরিচয় বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। কিন্তু চীনের ক্রিকেট ইতিহাসে তাঁর পরিচয় একটু অন্যরকম। ২০০৭ সালে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল তাঁকে চীনের ক্রিকেট উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়। কাজটি ছিল সহজ নয়। যে দেশে ক্রিকেট তখনও পরিচিত খেলার তালিকায় অনেক নিচে, সেখানে ক্রিকেটের ভিত্তি গড়ে তোলার দায়িত্ব একজন বাংলাদেশির কাঁধে। চীনে যাওয়ার আগে তিনি চীনা ভাষা শেখারও চেষ্টা করেছিলেন। কারণ তিনি বুঝেছিলেন, ক্রিকেট শেখাতে গেলে শুধু ব্যাট-বল জানলেই হবে না; মানুষকে বুঝতে হবে। তাঁর সেই যাত্রার গল্প পরে আরও রঙিন হয়ে ওঠে। চীনা উচ্চারণে ‘আমিনুল ইসলাম’ ও ‘বুলবুল’ কঠিন হওয়ায় তিনি সেখানে পরিচিত হয়ে যান ‘আমিন সিয়েন সাং’ নামে। চীনা ভাষায় ‘সিয়েন সাং’ শব্দের অর্থ সাহেব—এক অদ্ভুত, কিন্তু মায়াময় নাম। একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটার চীনে গিয়ে ক্রিকেট শেখাচ্ছেন। আর চীনা তরুণেরা তাঁকে ডাকছে অন্য একটি নামে। নামটি শুধু একটি ডাকনাম নয়। এর ভেতরে যেন একটি সময়ের গল্প আছে। ২০০৭ থেকে ২০১১—চার বছর ধরে চীনের বিভিন্ন জায়গায় ক্রিকেটের উন্নয়ন নিয়ে কাজ করেছেন বুলবুল। পরে তাঁর কাজের ধারাবাহিকতায় চীনে সরাসরি উন্নয়ন প্রশিক্ষকের দায়িত্ব নেন বাংলাদেশের আরেক সাবেক টেস্ট ক্রিকেটার মঞ্জুরুল ইসলাম। চীনের ক্রিকেট তখনও শিশুর মতো। মাঠ আছে, কিন্তু সব জায়গায় ক্রিকেটের উপযোগী নয়। খেলোয়াড় আছে, কিন্তু অভিজ্ঞতা কম। কোচ আছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে পরিচয় সীমিত। বাংলাদেশের জন্য এখানেই তৈরি হয়েছিল এক অদ্ভুত সুযোগ। আমরা সবসময় চীনের কাছ থেকে নেওয়ার কথা বলি। চীনের অবকাঠামো, প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ, বিশ্ববিদ্যালয়, ক্রীড়া বিজ্ঞান—সবকিছুর দিকে তাকিয়ে আমাদের প্রয়োজনের তালিকা দীর্ঘ হয়। কিন্তু বুলবুলের গল্প অন্য প্রশ্ন করে। বাংলাদেশের দেওয়ার কী আছে? উত্তরটি তখন মাঠে দাঁড়িয়েই পাওয়া যাচ্ছিল। ক্রিকেট। বাংলাদেশের ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা। কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা। একটি খেলাকে কীভাবে একটি দেশের সংস্কৃতির অংশে পরিণত করা যায়, সেই অভিজ্ঞতা। চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দাচিং শহরে যখন ক্রিকেটের নতুন দরজা খোলা হচ্ছিল, তখন সেখানে বাংলাদেশের মঞ্জুরুল ইসলাম কোচ হিসেবে কাজ করছিলেন। দাচিং এমন একটি অঞ্চল, যেখানে বছরের বড় সময় ঠান্ডা। বছরে প্রায় সাড়ে চার মাস বরফাচ্ছন্ন থাকার কারণে সেখানে টার্ফভিত্তিক ক্রিকেট চালানো সহজ ছিল না। তবু ক্রিকেটকে সেখানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। দাচিং নরমাল ইউনিভার্সিটিকে কেন্দ্র করে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ক্রিকেটের বিস্তার ঘটছিল। মঞ্জুরুল সেখানে স্থানীয় খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন। ভাবা যায়? রাশিয়া ও মঙ্গোলিয়ার কাছাকাছি উত্তর-পূর্ব চীন। দীর্ঘ শীত। বরফ। আর সেই জায়গায় একজন বাংলাদেশি ক্রিকেট কোচ দাঁড়িয়ে শেখাচ্ছেন—কীভাবে বল ঘোরাতে হয়। ক্রিকেটের এই দৃশ্য বাংলাদেশের জন্য শুধু গর্বের নয়; এটি একটি সম্ভাবনারও ইঙ্গিত। একটি দেশের ক্রীড়া শক্তি শুধু সে দেশে কতজন অলিম্পিক পদকজয়ী আছে, তা দিয়ে মাপা যায় না। কখনো কখনো মাপা যায়, তার কোচরা অন্য দেশের মাঠে কতটা সম্মান নিয়ে কাজ করছেন। এই গল্প ক্রিকেটে থেমে থাকেনি। বাংলাদেশের টেনিসেও চীনের দরজা খুলেছিল। ২০০৫ সালে সুকুমার রায় নামের এক বাংলাদেশি টেনিস কোচ চীনে যান। শুরুটা ছিল প্রায় ব্যক্তিগত উদ্যোগের মতো। পরিচয়, যোগাযোগ, সুযোগ—তারপর একটি চাকরি। বেইজিংয়ের একটি একাডেমিতে কোচিং দিয়ে শুরু। সেই পথ ধরে পরে আরও বহু বাংলাদেশি টেনিস কোচ চীনে যাওয়ার সুযোগ পান। ২০২৫ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই দশকে প্রায় ৫০ জন বাংলাদেশি টেনিস কোচ চীনের বিভিন্ন একাডেমিতে কাজ করেছেন। শুরুটা হয়েছিল সুকুমার রায়ের হাত ধরে। তারপর গেলেন আরও অনেকে। একটি চাকরি তৈরি হয়েছিল। তারপর তৈরি হলো একটি পেশাগত পথ। এটাই ক্রীড়া কূটনীতির এমন একটি দিক, যা সাধারণ আলোচনায় প্রায়ই হারিয়ে যায়। ক্রীড়া কূটনীতি শুধু রাষ্ট্রের জন্য নয়। এটি মানুষের কর্মসংস্থানেরও দরজা খুলতে পারে। একজন বাংলাদেশি কোচ চীনে কাজ করছেন মানে শুধু তিনি বেতন পাচ্ছেন—এমন নয়। তিনি বাংলাদেশের একটি দক্ষতার প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাঁর ছাত্রদের কাছে বাংলাদেশ একটি পরিচিত নাম হয়ে উঠছে। তাঁর সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে। তাঁর অভিজ্ঞতা দেশে ফিরছে। একজন মানুষ যাচ্ছে। তার সঙ্গে যাচ্ছে একটি দেশের পরিচয়। এভাবেই কখনো কখনো কূটনীতি রাষ্ট্রের বাইরে মানুষের শরীরে, ঘামে, দক্ষতায় ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু গল্পটি শুধু বাংলাদেশের মানুষ চীনে যাওয়ার নয়। চীনের খেলোয়াড়ও এসেছেন বাংলাদেশে। ২০০৯ সালের নভেম্বরে চীনের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল বাংলাদেশে এসে বিকেএসপিতে মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ ক্যাম্প করেছিল। পরের বছর চীনের জাতীয় নারী দল ও অনূর্ধ্ব-১৯ দল মিলিয়ে ৪০ সদস্যের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে আসে। তাদেরও মাসব্যাপী ক্যাম্প হয়েছিল বিকেএসপিতে। চীনা নারী দল বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটারদের সঙ্গে অনুশীলন ম্যাচও খেলেছিল। এই ঘটনাগুলোকে আলাদা আলাদা করে দেখলে এগুলো কেবল পুরোনো ক্রীড়া সফরের খবর। কিন্তু পাশাপাশি রাখলে অন্য একটি ছবি দেখা যায়। চীনা ক্রিকেটার বাংলাদেশে এসে শিখছে। বাংলাদেশি কোচ চীনে গিয়ে শেখাচ্ছেন। দুই দেশের দল একে অপরের সঙ্গে খেলছে। একটি দেশের খেলোয়াড় অন্য দেশের মাঠে অভ্যস্ত হচ্ছে। এটাই ক্রীড়া কূটনীতির বাস্তব রূপ। এখানে কোনো পক্ষ শুধু দাতা নয়। কেউ শুধু গ্রহীতাও নয়। সম্পর্কের একদিকে আছে চীনের বিশাল ক্রীড়া অবকাঠামো ও বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণব্যবস্থা। অন্যদিকে আছে বাংলাদেশের ক্রিকেট সংস্কৃতি, কোচিং অভিজ্ঞতা এবং দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়া পরিবেশের অভিজ্ঞতা। দুই দিককে যদি একসঙ্গে আনা যায়, তাহলে সম্পর্কটি শুধু সৌজন্য সফরের মধ্যে আটকে থাকবে না। তার আগে অবশ্য একটি পুরোনো স্মৃতি মনে করা দরকার। ১৯৯০ সালের বেইজিং এশিয়ান গেমস। বাংলাদেশের জাতীয় খেলা কাবাডি প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসের মূল প্রতিযোগিতায় জায়গা পায় ওই আসরে। বাংলাদেশ পুরুষ কাবাডিতে রৌপ্যপদক জেতে। এর দুই দশক পরে আবার চীন। ২০১০ সালের গুয়াংজু এশিয়ান গেমস। বাংলাদেশ ক্রিকেটে স্বর্ণপদক জেতে। এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের এখন পর্যন্ত একমাত্র স্বর্ণপদক সেটি। দুটি ঘটনা যেন দুই প্রান্তের দুটি ছবি। একদিকে জাতীয় খেলা কাবাডি প্রথমবার মহাদেশীয় মঞ্চে উঠছে বেইজিংয়ে। অন্যদিকে বাংলাদেশের ক্রিকেট সেই দেশের মাটিতেই এশিয়ান গেমসের স্বর্ণ জিতছে গুয়াংজুতে। চীন তাই বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসের শুধু একটি ভেন্যু নয়। কখনো সেটি মঞ্চ। কখনো প্রশিক্ষণকেন্দ্র। কখনো কর্মস্থল। কখনো সহযোগী। আবার কখনো প্রতিপক্ষ। এই বহুমাত্রিক সম্পর্কই ক্রীড়া কূটনীতিকে অন্য সব কূটনৈতিক যোগাযোগ থেকে আলাদা করে। ২০১৭ সালে সম্পর্কটি আরও প্রাতিষ্ঠানিক হওয়ার চেষ্টা করে। ৫ জুলাই বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—বিকেএসপি এবং চীনের শেনইয়াং স্পোর্টস ইউনিভার্সিটির মধ্যে তিন বছরের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। খেলোয়াড় ও কোচ বিনিময়, প্রশিক্ষণ সুবিধা ভাগাভাগি এবং উচ্চমানের প্রশিক্ষণের সুযোগের পাশাপাশি ক্রীড়া বিজ্ঞান ও বিশেষজ্ঞ বিনিময়ের কথাও ছিল। এখানেই গল্পের চরিত্র বদলে যায়। আগে ছিল ‘মানুষ’। এবার প্রতিষ্ঠান। আগে ছিল ব্যক্তিগত যোগাযোগ। এবার কাঠামো। আর এই পরিবর্তনটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একজন মানুষ যতই ভালো সম্পর্ক তৈরি করুন, তিনি একদিন চলে যাবেন। কিন্তু একটি প্রতিষ্ঠান যদি সম্পর্ক তৈরি করে, সেটি বছরের পর বছর টিকে থাকতে পারে। বিকেএসপি ও চীনের একটি স্পোর্টস বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সম্পর্ক তাই কেবল দুটি প্রতিষ্ঠানের সমঝোতা নয়। এর মধ্যে ভবিষ্যতের শত শত খেলোয়াড়ের সম্ভাবনা লুকিয়ে থাকতে পারে। তবে প্রশ্ন হলো—আমরা সেই সম্ভাবনাকে কতটা কাজে লাগিয়েছি? চুক্তি হয়েছে। সফর হয়েছে। ক্যাম্প হয়েছে। কিন্তু একটি দেশের ক্রীড়াব্যবস্থার কাঠামো বদলাতে হলে আরও কিছু দরকার। দরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। দরকার নির্দিষ্ট লক্ষ্য। দরকার কোন খেলায় কী অর্জন করতে চাই, তার স্পষ্ট রূপরেখা। কারণ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া এখন শুধু প্রতিভার খেলা নয়। এটি বিজ্ঞানের খেলা। ডেটার খেলা। পুষ্টির খেলা। পুনর্বাসনের খেলা। মানসিক প্রস্তুতির খেলা। প্রযুক্তির খেলা। এবং সবচেয়ে বেশি—দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার খেলা। বাংলাদেশের কোনো জেলা শহরের মাঠে আজ একজন তরুণ হয়তো তীর ছুড়ছেন। তাঁর চোখে হয়তো অলিম্পিকের স্বপ্ন। কিন্তু স্বপ্নকে পদকে পৌঁছে দিতে মাঝখানে যে সেতু দরকার, সেটি কোথায়? চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রীড়া সহযোগিতার ভবিষ্যৎ হয়তো সেই সেতুটিই তৈরি করতে পারে। শুধু প্রশ্ন হলো—আমরা কি সেই সেতু দিয়ে হাঁটতে প্রস্তুত? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে মাঠের বাইরে যেতে হবে। যেতে হবে গবেষণাগারে। যেতে হবে ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে। যেতে হবে পুনর্বাসনকেন্দ্রে। যেতে হবে প্রশিক্ষণকেন্দ্রে। আর সবচেয়ে বেশি যেতে হবে সেই তরুণ খেলোয়াড়টির কাছে, যার হাতে এখনো কোনো পদক নেই, কিন্তু চোখে আছে স্বপ্ন। কারণ কূটনীতির সবচেয়ে বড় সাফল্য কোনো চুক্তির কাগজে নয়। সেটি দেখা যায় তখন, যখন কোনো এক অচেনা দেশের মাঠে দাঁড়িয়ে একজন তরুণ বলে— ‘আমার কোচ বাংলাদেশ থেকে এসেছেন।’ সেই একটি বাক্যই হয়তো পাঁচ দশকের বন্ধুত্বের সবচেয়ে মানবিক অনুবাদ। আর সেই অনুবাদের পরের পৃষ্ঠায় আছে আরও বড় একটি প্রশ্ন— বাংলাদেশ কি শুধু চীনের কাছ থেকে শিখবে, নাকি একদিন চীনও বাংলাদেশের কাছ থেকে শিখবে?