আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট দিয়ে শুরু ব্যস্ত সূচি, ১৭ অক্টোবর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ; ফাইনাল ২৩ অক্টোবর দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে আগামী ১৭ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হবে তিন দলের এই প্রতিযোগিতা। এর আগে ৯ অক্টোবর আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচির মধ্য দিয়ে যেতে হবে টাইগারদের। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) গত ৮ সেপ্টেম্বর তিন দলের সফরের সূচি ঘোষণা করে। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ চলবে ১৭ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে। ১৯ অক্টোবর মুখোমুখি হবে স্বাগতিক আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে। ২১ অক্টোবর লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান। লিগ পর্বের ফলের ভিত্তিতে শীর্ষ দুই দল ২৩ অক্টোবরের ফাইনালে খেলবে। বাংলাদেশের জন্য সফরটি শুরু হবে টেস্ট দিয়ে। ৯ থেকে ১৩ অক্টোবর আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ম্যাচটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। এরপর ওয়ানডে সিরিজে তিন দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হবে। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে ১৭ অক্টোবর বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে লড়াইয়ের পর ১৯ অক্টোবর আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ২১ অক্টোবর বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান মুখোমুখি হবে। এরপর দুই ম্যাচে পাওয়া ফল এবং পয়েন্টের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে ফাইনালের দুই দল। ২৩ অক্টোবর শিরোপার লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ওয়ানডে সিরিজ। সিরিজের সব ম্যাচ সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হবে। সূচি অনুযায়ী, টেস্টের ভেন্যু নির্ধারিত হলেও ওয়ানডে সিরিজের ম্যাচগুলোও আরব আমিরাতের ভেন্যুগুলোতে আয়োজন করা হবে। বাংলাদেশের জন্য এই সফর একদিকে টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের সামর্থ্য যাচাইয়ের সুযোগ, অন্যদিকে ওয়ানডে ফরম্যাটে দুই ভিন্ন ধরনের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার মঞ্চ। আফগানিস্তান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। অন্যদিকে জিম্বাবুয়েও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা ফেরানোর চেষ্টা করছে। ফলে ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের সামনে থাকবে দুই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের পরিকল্পনা ও দলীয় ভারসাম্য যাচাইয়ের সুযোগ। তবে সিরিজের ফল নির্ভর করবে ম্যাচের দিনের পারফরম্যান্স, উইকেটের ধরন, বোলিং-ব্যাটিংয়ের কার্যকারিতা এবং দলগুলোর প্রস্তুতির ওপর। বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের জন্য টেস্ট ও ওয়ানডে—দুই ফরম্যাটে দ্রুত মানিয়ে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ হবে। টেস্টে দীর্ঘ সময় ধরে ধৈর্য ও কৌশল ধরে রাখার প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে ওয়ানডেতে ইনিংসের বিভিন্ন পর্যায়ে রান তোলার গতি, উইকেট ধরে রাখা এবং বোলিংয়ের পরিকল্পনা বড় ভূমিকা রাখে। একই সফরে দুই ফরম্যাটের ম্যাচ থাকায় দলের প্রস্তুতি ও খেলোয়াড় ব্যবস্থাপনায় বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের ঘোষণায় ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের পাশাপাশি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আফগানিস্তানের টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট সিরিজের কথাও রয়েছে। অর্থাৎ অক্টোবর-নভেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের আন্তর্জাতিক সূচি বেশ ব্যস্ত থাকবে। বাংলাদেশের সঙ্গে টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ শেষ হওয়ার পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আফগানিস্তান তিনটি টি-টোয়েন্টি এবং দুটি টেস্ট খেলবে। বাংলাদেশের সর্বশেষ ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ খেলার বছর হিসেবে ২০১৯ সালের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে। দীর্ঘ বিরতির পর আবার এই ফরম্যাটে ফেরার ফলে দলটির সামনে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি নতুন সমন্বয় পরীক্ষা করার সুযোগ তৈরি হবে। তবে সিরিজের আগে চূড়ান্ত দল, খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থা এবং প্রস্তুতি ম্যাচসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। অক্টোবরের এই সফরে বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকবে টেস্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলা এবং ওয়ানডে সিরিজে ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করা। ১৭ অক্টোবরের প্রথম ম্যাচ থেকেই শুরু হবে সেই লড়াই।