VAR Lite ব্যবহারের পরিকল্পনা, ১ হাজার টাকায় দুই ম্যাচ দেখার সুযোগ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ১৫তম আসর শুরু হতে বাকি আর মাত্র আট দিন। আগামী ৫ নভেম্বর ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে পর্দা উঠবে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই প্রতিযোগিতার। ১৭ নভেম্বর ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হবে আসর। দীর্ঘ আট বছর পর বাংলাদেশে ফিরছে সাফের এই আসর। মাঠের প্রস্তুতি, টিকিটের চড়া দাম, ভারতের দল নিয়ে কৌতূহল এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি প্রযুক্তির সীমিত সংস্করণ ব্যবহারের পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই জমে উঠেছে আলোচনা। এবারের প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে ছয়টি দল। ‘এ’ গ্রুপে স্বাগতিক বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভুটান ও শ্রীলঙ্কা। ‘বি’ গ্রুপে খেলবে ভারত, পাকিস্তান ও মালদ্বীপ। উদ্বোধনী দিনে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে বাড়তি আগ্রহ থাকবে দর্শকদের। একই দিনে ভুটানের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশের সমর্থকদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে ভারতের দল। দেশটির সিনিয়র জাতীয় দলের কতজন নিয়মিত খেলোয়াড় ঢাকায় আসবেন, তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। একই সময়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের প্রীতি ম্যাচ থাকায় কয়েকজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে পাওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। তবে সাফের সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম কাট্টেল জানিয়েছেন, ভারত যে দলই পাঠাক, প্রতিযোগিতায় সেটিকে সিনিয়র জাতীয় দল হিসেবেই বিবেচনা করা হবে। সাফের সব ম্যাচই ফিফার টায়ার-১ আন্তর্জাতিক ম্যাচের মর্যাদা পাবে। হামজা চৌধুরী ও শামিত সোমদের নিয়ে গড়া বাংলাদেশকে এবার শিরোপার অন্যতম দাবিদার মনে করছেন অনেকে। ঘরের মাঠের সমর্থন কাজে লাগিয়ে ভালো কিছু করার প্রত্যাশা দলের। তবে উদ্বোধনী দিনে ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচে হামজাকে পাওয়া যাবে না। ফলে টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই বাংলাদেশকে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হবে। মাঠের বাইরের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় টিকিটের দাম। সাধারণ গ্যালারির টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার টাকা। ক্লাব হাউসের টিকিট চার হাজার, ভিআইপি গ্যালারি সাত হাজার, রেড বক্স আট হাজার এবং করপোরেট বক্সের টিকিটের দাম ১০ হাজার টাকা। আগামীকাল ২৯ অক্টোবর রাত আটটা থেকে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘টিকিফাই’-এর মাধ্যমে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার কথা। একটি টিকিটে একই দিনে দুটি ম্যাচ দেখার সুযোগ থাকলেও সর্বনিম্ন এক হাজার টাকা খরচ নিয়ে আপত্তি রয়েছে অনেক সমর্থকের। সাফের সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম কাট্টেল মূল্য নির্ধারণের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছেন, দুই ম্যাচের হিসাবে প্রতিটির খরচ পড়ছে ৫০০ টাকা। তবে যারা দিনের একটি নির্দিষ্ট ম্যাচ দেখতে চান, তাদের জন্য এই ডে পাস কতটা সুবিধাজনক হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বাফুফের কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন, টিকিটের দাম সাধারণ দর্শকদের ওপর কিছুটা চাপ তৈরি করতে পারে। তাদের বক্তব্য, মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব সাফের। এবারের আসরে প্রযুক্তির ব্যবহারেও থাকছে নতুনত্ব। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের দিন পরীক্ষামূলকভাবে এবং সেমিফাইনাল ও ফাইনালে VAR Lite ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে সাফ। তবে জাতীয় স্টেডিয়ামের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে পূর্ণাঙ্গ ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। রেফারিদের সহায়তায় ভিডিও পর্যালোচনার কাজ হবে স্টেডিয়ামের বাইরে নির্ধারিত স্থান থেকে। এদিকে টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে নিরাপত্তা, দর্শক প্রবেশ, ভিআইপি গেট, দলগুলোর যাতায়াত ও অনুশীলন মাঠের ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমন্বয় জোরদার করেছে বাফুফে ও সাফ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির উপস্থিতি প্রত্যাশা করছেন আয়োজকেরা। ফাইনালে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। সব প্রস্তুতি শেষ করে মাঠে সফল একটি টুর্নামেন্ট উপহার দেওয়াই এখন আয়োজকদের লক্ষ্য। তবে দর্শকদের আগ্রহকে গ্যালারিতে রূপ দিতে টিকিটের মূল্য কতটা প্রভাব ফেলবে, ভারত কতটা শক্তিশালী দল নিয়ে আসবে এবং বাংলাদেশের শিরোপার স্বপ্ন কত দূর এগোবে—এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়েই।