বাংলাদেশের জার্সিতে সিনিয়র পর্যায়ে খেলার অপেক্ষা এবার শেষ হতে যাচ্ছে রোনান সুলিভানের। যুক্তরাষ্ট্রে কলেজের পড়াশোনা ও ফুটবলের ব্যস্ততার কারণে আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে (বাফুফে) তিনি জানিয়েছেন, টুর্নামেন্টে খেলতে বাংলাদেশে আসতে পারবেন। বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ করিম জানিয়েছেন, রোনান তাঁর আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁকে জাতীয় দলের স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফাহাদ করিম বলেন, ‘আজকেই সে আমাকে নিশ্চিত করেছে যে, সে আসতে পারবে। আমরা তাকে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করব।’ রোনানের বাংলাদেশের হয়ে খেলার আগ্রহ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর কলেজের কোচের কাছ থেকে ছুটি পাওয়া নিয়ে জটিলতা ছিল। শেষ পর্যন্ত ১ থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত ছুটি পেয়েছেন তিনি। ফাহাদ করিম জানান, এই সময়ের মধ্যে সাফে অংশ নিতে পারবেন রোনান। তাঁর জন্য ফ্লাইটের টিকিট নির্ধারণের কাজও করা হবে। রোনানের আগমন নিশ্চিত হওয়ায় জাতীয় দলের কোচ থমাস ডুলির পরিকল্পনায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সাফের আগে বিদেশে বেড়ে ওঠা ও খেলা ফুটবলারদের জাতীয় দলে যুক্ত করার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন এই কোচ। রোনান তাঁদেরই একজন, যাঁর সামর্থ্য সম্পর্কে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের ধারণা তৈরি হয়েছে যুব পর্যায়ের সাফল্য থেকে। মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন রোনান। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ফ্রি-কিক ও হেড থেকে গোল করে দলকে ২-০ ব্যবধানে জেতান তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন। তাঁর পানেনকা শট ঘিরেও তৈরি হয়েছিল আলোচনা। শেষ পর্যন্ত শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। যুব দলের হয়ে সেই সাফল্যের পর থেকেই সিনিয়র জাতীয় দলে রোনানকে খেলানোর দাবি ও আলোচনা জোরালো হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় পড়াশোনা ও ফুটবল নিয়ে ব্যস্ত থাকায় পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের হয়ে মাঠে নামার সুযোগ হয়নি তাঁর। এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বেও তাঁকে ছাড়াই খেলেছে বাংলাদেশ। এবার সাফে তাঁর অন্তর্ভুক্তি হলে জাতীয় দলের আক্রমণভাগে বিকল্প বাড়বে। তবে বাংলাদেশে পৌঁছানোর সময়, ভ্রমণক্লান্তি এবং দলের সঙ্গে অনুশীলনের সুযোগ—সবকিছু বিবেচনা করে তাঁকে প্রথম ম্যাচে খেলানো হবে কি না, তা নির্ভর করবে কোচের সিদ্ধান্তের ওপর। আগামী ৫ থেকে ১৭ নভেম্বর ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ১৫তম আসর। প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, ৫ নভেম্বর উদ্বোধনী দিনে স্বাগতিক বাংলাদেশ খেলবে ভুটানের বিপক্ষে। ১১ নভেম্বর গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশ, ভুটান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত, মালদ্বীপ ও পাকিস্তান। নেপালের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে সূচি পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে আয়োজকরা। দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল উঠবে সেমিফাইনালে। ১৪ নভেম্বর হবে শেষ চারের দুই ম্যাচ, আর ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল। ঘরের মাঠে শিরোপার লড়াইয়ে বাংলাদেশের জন্য প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। সেই লড়াইয়ে রোনান সুলিভানের উপস্থিতি দলকে কতটা বাড়তি শক্তি জোগায়, তা দেখার অপেক্ষায় সমর্থকেরা।