প্রকাশ :: ... | ... | ...

সাফে লাল-সবুজের জার্সিতে ৫ নতুন মুখ


সংযুক্ত ছবি

প্রবাসী ফুটবলারদের নিয়ে শক্তিশালী হচ্ছে বাংলাদেশ; সেপ্টেম্বরে চার জাতি টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি ঘরের মাঠে অনুষ্ঠেয় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে জাতীয় ফুটবল দলকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। হামজা চৌধুরী, শমিত সোম ও ফাহামদুল ইসলামদের পর এবার আরও পাঁচ প্রবাসী ফুটবলারকে লাল-সবুজের জার্সিতে খেলানোর পরিকল্পনা করছে বাফুফে। বাফুফে সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাজ্য প্রবাসী উইঙ্গার ফারহান আলী ও ফরোয়ার্ড **জায়ান হাকিমের** বাংলাদেশ দলে অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষ হলে তাদের জাতীয় দলের ক্যাম্পে দেখা যেতে পারে। বর্তমানে তারা ফিফা ও এএফসির প্রয়োজনীয় অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন। এ ছাড়া ইংল্যান্ড থেকে আরও দুইজন এবং জাপান থেকে একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলারকে জাতীয় দলের প্রাথমিক ক্যাম্পে ডাকার পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে সাফের আগে পাঁচ নতুন প্রবাসী ফুটবলারকে দলের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাফুফে। বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ করিম জানিয়েছেন, পাঁচ ফুটবলারকে প্রাথমিক ক্যাম্পে রাখার পরিকল্পনা থাকলেও জাতীয় দলের চূড়ান্ত স্কোয়াডে কারা জায়গা পাবেন, সেটি নির্ভর করবে প্রধান কোচ থমাস ডুলির মূল্যায়নের ওপর। তিনি বলেন, পাঁচজনই প্রাথমিক ক্যাম্পে থাকার সুযোগ পাবেন। সেখানে তাদের পারফরম্যান্স, ফিটনেস ও দলের কৌশলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন কোচ। প্রবাসী ফুটবলারদের জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া আরও সহজ করার পরিকল্পনাও করছে বাফুফে। বর্তমানে অনেক প্রবাসী ফুটবলারকে নিজ খরচে বাংলাদেশে এসে ট্রায়ালে অংশ নিতে হয়। এতে তাদের সময় ও অর্থ—দুই দিক থেকেই ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। এই সমস্যা সমাধানে আগামী গ্রীষ্মে ইউরোপের কোনো শহরে বড় পরিসরে ট্রায়ালের আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে বাফুফের। লন্ডনের মতো শহরে এমন আয়োজন করা হলে ইউরোপে থাকা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের সরাসরি যাচাই করার সুযোগ তৈরি হবে। নভেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে জাতীয় দলের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখতে চায় না বাফুফে। সেপ্টেম্বরে ফিফা উইন্ডোকে কাজে লাগিয়ে ঢাকায় একটি চার জাতি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। প্রস্তাবিত টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ছাড়াও **কিরগিজস্তান ও মঙ্গোলিয়া** অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। চতুর্থ দল হিসেবে আরও একটি জাতীয় দলকে যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। জাতীয় দলের প্রধান কোচ থমাস ডুলির পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের মাটিতে এই প্রতিযোগিতা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি নতুন ও প্রবাসী ফুটবলারদের জাতীয় দলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়াই এই টুর্নামেন্টের অন্যতম লক্ষ্য। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবলে প্রবাসী ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তি নতুন মাত্রা পেয়েছে। হামজা চৌধুরীর আগমন বাংলাদেশ দলের মাঝমাঠে নতুন শক্তি যোগ করেছে। এরপর শমিত সোম ও ফাহামদুল ইসলামের মতো খেলোয়াড়রাও জাতীয় দলের পরিকল্পনায় যুক্ত হয়েছেন। এবার আরও পাঁচজনকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ সফল হলে জাতীয় দলের খেলোয়াড় পুল আরও বড় হবে। বিশেষ করে ইউরোপ ও জাপানে বেড়ে ওঠা ফুটবলারদের উন্নত প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতামূলক অভিজ্ঞতা জাতীয় দলের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করতে পারে। তবে শুধু প্রবাসী পরিচয় নয়, জাতীয় দলের চূড়ান্ত দলে জায়গা পেতে হলে পারফরম্যান্স, ফিটনেস এবং কোচের কৌশলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতাই হবে মূল বিবেচ্য। নভেম্বরে ঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে তাই সেপ্টেম্বরের আন্তর্জাতিক উইন্ডো এবং সম্ভাব্য চার জাতি টুর্নামেন্টকে নিজেদের দল গুছিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ। নতুন পাঁচ মুখের সঙ্গে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে ঘরের মাঠে শক্তিশালী দল গড়াই এখন বাফুফে ও কোচিং স্টাফের অন্যতম লক্ষ্য।