প্রকাশ :: ... | ... | ...

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে যুক্ত হতে পারে ভিএআর, ব্যবহার হতে পারে উন্নত প্রযুক্তির বল


সংযুক্ত ছবি

দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে রেফারিং নিয়ে বিতর্ক কমাতে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে দক্ষিণ এশীয় ফুটবল ফেডারেশন (সাফ)। আগামী নভেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথমবারের মতো এ প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি। পাশাপাশি টুর্নামেন্টে ‘ভেক্টর এক্স’ নামের উন্নত প্রযুক্তির ফুটবল ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। সাফের সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম ক্যাটেল একটি জাতীয় দৈনিককে জানিয়েছেন, টুর্নামেন্টে ভিএআর যুক্ত করার বিষয়ে কাজ চলছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে আঞ্চলিক পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতায় প্রযুক্তিনির্ভর রেফারিংয়ের নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে অফসাইড, পেনাল্টি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রায়ই বিতর্ক দেখা যায়। তবে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ও অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে আঞ্চলিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় ভিএআর ব্যবহারের সুযোগ সীমিত। এবার সেই পরিস্থিতি বদলানোর উদ্যোগ নিয়েছে সাফ। ভিএআর ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে পুরুষোত্তম ক্যাটেল বলেন, ‘আমরা এটি নিয়ে কাজ করছি। আশা করছি, টুর্নামেন্টে আমরা ভিএআর রাখতে পারব।’ ভিএআর চালু হলে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত ভিডিও ফুটেজের সাহায্যে পর্যালোচনা করা সম্ভব হবে। এতে গোল, পেনাল্টি, সরাসরি লাল কার্ড এবং খেলোয়াড়ের পরিচয়সংক্রান্ত নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে রেফারির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রযুক্তিটি কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, প্রশিক্ষিত কর্মকর্তা ও পরিচালনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এদিকে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের অংশগ্রহণ নিয়েও সম্প্রতি কয়েকটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে অনিশ্চয়তার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে সেই গুঞ্জন নাকচ করেছেন সাফের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘গুঞ্জনটি পুরোপুরি ভিত্তিহীন। ভারত আসন্ন সাফে অংশ নিচ্ছে।’ টুর্নামেন্টে প্রযুক্তির আরেক সংযোজন হতে পারে ‘ভেক্টর এক্স’ ফুটবল। থার্মো-বন্ডেড প্রযুক্তিতে তৈরি এ বলের প্যানেলগুলো প্রচলিত বলের মতো সেলাই করা নয়। এর ফলে বলের আকৃতি বজায় রাখা এবং বাতাসে এর গতিপথের স্থিতিশীলতা বাড়ানোর সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। বলটির মাইক্রো-টেক্সচারযুক্ত পৃষ্ঠ খেলোয়াড়দের বল নিয়ন্ত্রণ ও গ্রিপে সহায়তা করার জন্য তৈরি। এ ছাড়া পানি শোষণ কমানোর বৈশিষ্ট্যের কারণে বৃষ্টির মধ্যেও বলের ওজন ও বাউন্স তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকার কথা। তবে এবারের সাফে বলটি ব্যবহারের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। আগামী ৫ থেকে ১৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ১৫তম আসর। ছয় দলের প্রতিযোগিতায় ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা। ‘বি’ গ্রুপে খেলবে ভারত, পাকিস্তান ও মালদ্বীপ। ভিএআর এবং উন্নত প্রযুক্তির বল ব্যবহারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এবারের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ম্যাচ পরিচালনা ও খেলার সরঞ্জামে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে। তবে এ উদ্যোগের চূড়ান্ত প্রভাব নির্ভর করবে প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তুতি, পরিচালনব্যবস্থা এবং আয়োজকদের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ওপর।