প্রকাশ :: ... | ... | ...

সুইডেন প্রবাসী আনিকা দলে মান ও শক্তি যোগ করবে : বাটলার


সংযুক্ত ছবি

অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় উইমেন’স এশিয়ান কাপ সামনে রেখে ২৬ জনের দল ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের কোচ পিটার জেমস বাটলার। দলে একেবারেই নতুন মুখ তিন জন। দলে বড় চমক সুইডেন প্রবাসী আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীর জায়গা পাওয়া। এছাড়াও প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ঠাঁই পেয়েছেন আরও দুজন-আলপি আক্তার ও সুরভী আকন্দ প্রীতি। সদ্য সমাপ্ত লিগে রাজশাহী স্টার্সের হয়ে আলো ছড়িয়েছেন আলপি। ২৯ গোল করে হয়েছেন লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা। বয়সভিত্তিক দলে লাল-সবুজের জার্সিতে খেলা এই ফরোয়ার্ডের সামনে এখন জাতীয় দলে খেলার সুযোগ। এ মাসের শুরুর দিকে শুরু হওয়া ক্যাম্পে ও প্রাথমিক দলে ছিলেন আনিকা। সুইডেনের ক্লাব ব্রোমপোজকর্নের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলার পর গত মাসে সুইডিশ কাপ দিয়ে ক্লাবটির সিনিয়র দলে অভিষেক হয়েছে তার। দলে ফিরেছেন ২০২৪ উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী আইরিন খাতুন। সুরভী আকন্দ প্রীতিকেও ফিরিয়েছেন বাটলার। আগামী ‎১ থেকে ২১ মার্চ অস্ট্রেলিয়ার শুরু হবে উইমেন’স এশিয়ান কাপের ২১তম আসর। বাংলাদেশের সাথে ‘বি’ গ্রুপে আছে ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন চীন, তিনবারের চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তান। এই আসরে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে রওনা দিবে বাংলাদেশ দল। অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে উড়াল দেওয়ার আগে বাফুফে ভবনে সংবাদ সম্মেলনে দল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আনিকার প্রশংসায় প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন বাটলার। সময়ের সাথে সুইডেন প্রবাসী এই মিডফিল্ডার আরও উন্নতি করবে বলেও বিশ্বাস তার, ‘আনিকার বয়স ২১ বছর। বাফুফে সহ-সভাপতি ফাহাদের (ফাহাদ করিম) মাধ্যমে তাকে খুঁজে পেয়েছি আমরা। আনিকাকে পর্যালোচনা করেছি, তার কোচদের সাথে কথা বলেছি, ভিডিও দেখেছি এবং অনুশীলনে তাকে পর্যবেক্ষণ করেছি। আমার দৃষ্টিতে, সে এক দারুণ আবিষ্কার এবং সম্ভবত সে-ই প্রথম যে শুধু স্থানীয় ঘরোয়া ফুটবলারদের গণ্ডি ভেঙে বাইরে থেকে উঠে এসেছে। আমি তাকে সামর্থ্যের ভিত্তিতেই দলে নিয়েছি। তার বয়স একটি বড় ইতিবাচক দিক; সে ভবিষ্যতের খেলোয়াড়। তার মনোভাব বেশ ইতিবাচক এবং সে লড়াকু মানসিকতার। সে দলে মান ও শক্তি যোগ করবে এবং সময়ের সাথে আরও উন্নতি করবে।” গুরুতর চোট সমস্যা না থাকার স্বস্তির কথাও বললেন বাটলার, ‘লিগ চলাকালে চোট পেয়েছিল নবীরন। সে অনুশীলনে ফিরেছে কিন্তু এখনও শতভাগ ফিট নয়। যেহেতু আমাদের দলে প্রায় ৫০ শতাংশ অনূর্ধ্ব-২০ খেলোয়াড়, তাই আমাদের লক্ষ্য দ্বিমুখী—আমরা অনূর্ধ্ব-২০ দলের জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছি আবার জাতীয় দলের প্রস্তুতিও নিচ্ছি। আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। যদি নবীরনকে সঙ্গে নিয়ে তাকে ২০-৩০ মিনিট খেলিয়ে তার পুণর্বাসনে সাহায্য করতে হয়, তবে আমরা সেটাই করব। চোট সমস্যা আসা-যাওয়ার মধ্যেই থাকে। দুর্ভাগ্যবশত কয়েকজনের বড় চোট ছিল, তবে, পরিস্থিতি যতটা খারাপ ভেবেছিলাম ততটা নয়। মূলত অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং ক্লান্তি মেয়েদের ওপর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে কমলাপুরের পিচে খেলার পর ঘাসের মাঠে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগে। তবে ইতিবাচক খবর হলো নবীরন সুস্থ হয়ে ফিরছে এবং আরও কয়েকজন যারা ছোটখাট সমস্যায় ছিল তারাও সুস্থ হয়ে উঠছে।” নারী এশিয়ান কাপের বাংলাদেশ দল: রুপনা চাকমা, মিলি আক্তার, স্বর্ণা রানী মন্ডল, আফঈদা খন্দকার (অধিনায়ক), কোহাতি কিসকু, নবীরন খাতুন, শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার সিনিয়র, হালিমা খাতুন, সৌরভী আক্তার আফরিন, স্বপ্না রানী, মুনকি আক্তার, আইরিন খাতুন, শাহেদা আক্তার রিপা, উমহেলা মারমা, ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা, মারিয়া মান্দা, আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী, উন্নতি খাতুন, আলপি আক্তার, সুরভী আকন্দ প্রীতি, সুলতানা, তহুরা খাতুন, সাগরিকা ও শামসুন্নাহার জুনিয়র।